স্ত্রীর হাত থেকে বাঁচতে নিজেকেই অপহরণ করেন এই ব্যক্তি

স্ত্রীর হাত থেকে বাঁচতে নিজেকেই অপহরণ করেন এই ব্যক্তি

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৩৩ ২০ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:৪৭ ২০ নভেম্বর ২০২০

ছবি: রামেল পেটওয়ে

ছবি: রামেল পেটওয়ে

রহস্যমণ্ডিত এই পৃথিবীতে কত যে আজব মানুষ আছে, তা হয়তো গুণে শেষ করা যাবে না। কয়েকদিন আগেই স্লোভেনিয়ার এক ২২ বছর বয়সী তরুণী বীমার টাকা পেতে নিজেই নিজের হাত কেটে ফেলেছিলেন।

ভাবুন একবার, মানুষ কতটা আজব হলে এই কাজ করতে পারে। এমনই কয়েকজন মানুষের কথা জানাবো যারা, কেউ জরিমানা, কেউবা স্কুলে না যাওয়ার জন্য অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তেমনই একজন- 

রবার্ট ব্র্যান্ডেল

সুপার বোল বাজি হেরে গিয়েছিলেন রবার্ট ব্র্যান্ডেল তিনি হেরে গিয়েছিলেন একটি সুপার বোল বাজি। আর তাতেই তাকে দিতে হত ৫০ হাজার ডলার। দেনা এড়াতে নিজের হাতই টেপ দিয়ে পিছ-মোড়া করে বেঁধে বন্দি হন গাড়ির ব্যাকসিটে। অভিযোগ করেন দস্যুরা তাকে বন্দুক দেখিয়েই লোপাট করেছে অর্থ। এমনটা মেনেও নিয়েছিল পুলিশ। তবে মিথ্যে সাজানোয় সামান্য ফাঁক থেকেই পরে ধরা পড়ে যান ব্র্যান্ডেল।

আরো পড়ুন: ধোঁয়া ওঠা মটকাতে চা খেয়েই তৃপ্ত বাঙালি  

রাফায়েল হুগো

রাফায়েল হুগো ডেনটিস্টের কাছে না যাওয়ার বাহানা বানাতে পালিয়ে ছিলেন
মানুষকে বলা হয় সৃষ্টির সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী। মানুষ নিজেকে বাঁচাতে অনেক কিছুই করে। তবে নিজেকে নিজেই অপহরণ করেছে এমন কথা জানেন কি? এমন আরেকজন ব্যক্তি রাফায়েল হুগো। যদিও নামটি তার নয়। গোপনীয়তা রাখার জন্যই ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে। ডেনটিস্ট মানেই তার কাছে এক আতঙ্কের নাম।

আরো পড়ুন: আজব এক রীতি! মানুষের সঙ্গে কবর দেয়া হত আস্ত জাহাজও

দাঁতের সমস্যা হওয়ায় বাবা- মা তাকে ডেনটিস্টের কাছেই নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু রাফায়েল যেতে নারাজ। তবে বাবা-মার কাছে কোনো অজুহাত না টিকতে নিজেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সে। সেন্ট জার্ভিস গ্রামে বেশ কয়েকদিন লুকিয়ে থাকার পর, পুলিশের কাছে ধরা পড়ে সে জানিয়েছিল তাকে অপহরণ করেছিল দুষ্কৃতীরা। যদিও শেষ পর্যন্ত প্রশ্নের চাপে সত্যি কথাই বেরিয়ে আসে মুখ থেকে। তবে কিশোরের এই কাণ্ডে ঘটনা প্রকাশ করলেও তার নাম প্রকাশ করেনি ফ্রেঞ্চ প্রশাসন।

আলেকজান্দ্রো মারিও কর্টেজ

আলেকজান্দ্রো মারিও কর্টেজ
এই মেক্সিকান অধিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন একজন শরণার্থী হিসাবেই। তবে ফিরে যেতে চেয়ে দীর্ঘদিন ধরেও আবেদন করে মিলছিল না ভিসা। ফলত বেছে নিয়েছিলেন আত্ম-অপহরণের পথ। কর্টেজ মিনেসোটায় এক নির্জন গির্জায় গিয়ে সহকারীর সাহায্যে বন্দি করেন নিজেকে। উদ্দেশ্য ছিল ক্রাইম-সিনের সাহায্য নিয়ে ভিসা আদায়।

মারিয়া গঞ্জালেজ
ক্যালিফোর্নিয়ার এই পরিবাহী ট্রাকের মালকিনকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এক পরিত্যক্ত বাড়িতে বন্দি ও আহত অবস্থায়। তিনি দাবি করেছিলেন দু’জন মুখোশ পরিহিত ব্যক্তি তাকে অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতন করে। সঙ্গে লুঠ করে নেয় অর্থও। পরে তদন্তে উঠে আসে কর্মচারীদের বকেয়া ৯০০০ ডলার বেতন না দেয়ার জন্যই এই পথ নিয়েছিলেন মারিয়া।

জেসিকা নর্ডকুইস্ট

জেসিকা নর্ডকুইস্ট ও তার প্রেমিক
কথায় রয়েছে যুদ্ধ এবং প্রেমে সবই নৈতিক। লন্ডনের এই যুবতীও প্রাক্তন প্রেমিককে ফিরিয়ে আনতেই বেছে নিয়েছিলেন আত্ম-অপহরণের পন্থা। টাইপ করা চিঠি পৌঁছেছিল প্রাক্তনের কাছে। বলে হয়েছিল জেসিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং পুলিশ তার জন্য শুরু করেছে খানা-তল্লাসি। তবে নিজের বাড়িতেই শেষ অবধি সুস্থ-স্বাভাবিক অবস্থাতেই খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল তাকে।

আরো পড়ুন: টয়লেট পেপার আবিষ্কারের আগে ব্যবহার হত কাঠি

রামেল পেটওয়ে
পেশা চুরি, ডাকাতি, গুন্ডাবৃত্তি, অনৈতিক ব্যবসা। গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৫ বার। শুধরাতে পারেনি পুলিশ। তবে নিউ-ইয়র্কের এই দুঁদে মস্তানের কাছে সাক্ষাৎ যম ছিলেন তার স্ত্রী। স্ত্রীকে লুকিয়ে আবারও পা দিয়েছিলেন অন্ধকার জগতে। তবে ঝামেলায় ফেঁসে ফিরতে লেগেছিল ১৪ দিন। স্ত্রীয়ের কাছে জবাব দিতে না পারার কারণে নিজেকে অপহরণ করেন। পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে নিজে নিজের হাত বাঁধতে গিয়ে কব্জি থেকে ঝুলে ছিল টেপের রোল। পুলিশের মার খেয়ে এই ব্যক্তি স্বীকার করেন নিজের অপরাধের কথা।  

জোয়ান্না গ্রেনসাইড

মশলাদার খাবার খেলেই তার বমি হত জোয়ান্না গ্রেনসাইডের
বুলিমিয়া রোগে আক্রান্ত ছিলেন এই মার্কিন যুবতী। অর্থাৎ মশলা-সমৃদ্ধ কিছু খাবার খেলেই বমি হয়ে যায় তার। অফিসের কলিগদের কাছে একেবারেই প্রকাশ্যে আনতে চাইতেন না এই ঘটনাটাই। ফলে বড়োদিনের পার্টির ঠিক আগেই নিজেকে এয়ারপোর্টে লুকিয়ে ফেলেন জোয়ান্না। অন্তর্ধানে ছিলেন ৩৬ ঘণ্টা। তারপর ফিরে এসে সহকর্মীদের কাছে দাবি করেছিলেন তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল। তাঁরাই চিন্তিত হয়ে পুলিশকে জানালে, সামনে আসে গোটা ঘটনাটা।

সাব্রিনা বেলচার
২০২০-রই ঘটনা। মেয়র পদের নির্বাচনে দাঁড়ানো এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ভাড়া করেছিলেন অপহরণকারীকে। তারপর অপহরণ, লাঞ্ছনা এবং নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেন এই ভদ্রমহিলা। উদ্দেশ্য ছিল প্রতিপক্ষের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। সাব্রিনা পুলিশের কাছে তদন্তের আবেদন করেন নিজেই। আর তারপরেই প্রকাশ্যে আসে আসল ঘটনা।

রিনা শেলবি ওহিও

রিনা শেলবি ওহিও স্কুলে যেতে একেবারেই পছন্দ করত নাছোট্ট স্কুলপড়ুয়া ছেলেটির স্কুলে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না একদমই। তাই স্কুল বাসে না উঠে সোজা হাজির হয়েছিল পুলিশের কাছে। দাবি করে তাকে অপহরণের চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু পালিয়ে চলে এসেছে সে। পরদিন থেকে বন্দুক হাতেই বাস স্টপে হাজির হত তার বাবা-মা। তবে তার দেয়া বর্ণনা-মাফিক কালো গাড়ি কখনোই দেখতে পাননি তারা। সতর্ক থেকে পুলিশও হদিশ পায়নি কোনো। শেষে মায়ের সামনে পুলিশের জেরায় বানানো মিথ্যের কথা স্বীকার করে সে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে/জেএমএস