দু’টি হাত নেই, পা দিয়ে গিটার বাজিয়েই সাফল্যের চূড়ায় সংগীতশিল্পী

দু’টি হাত নেই, পা দিয়ে গিটার বাজিয়েই সাফল্যের চূড়ায় সংগীতশিল্পী

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০৩ ১৭ অক্টোবর ২০২০  

ছবি: মার্ক গফিনি

ছবি: মার্ক গফিনি

মানুষ কঠোর পরিশ্রম, অধ্যাবসায় আর মনোবল দিয়েই পৃথিবী জয় করেছে। এর অনেক নজির রয়েছে আমাদের সমাজে। এমনকি জন্মগতভাবে কিংবা দুর্ঘটনাজনিতভাবে অনেকেই শরীরের অঙ্গ হারিয়ে জয় করেছেন পৃথিবী। 

স্বাভাবিক মানুষের চেয়েও তারা ভালোভাবে জীবনযাপন করেন। এমন অনেকের কথাই তো জেনেছেন। আজ এমন একজন অদম্য মনোবলের মানুষের কথা জানাবো যিনি মনের জোড়ে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বিশ্ব জয় করেছেন।

৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। আমেরিকার বাসিন্দা মার্ক গফিনি। জন্ম থেকেই বিকলাঙ্গ তিনি। তার দুটো হাত নেই। তবুও তিনি সংগীতশিল্পী, গিটার প্লেয়ার, সান ডিয়েগো মিউজিক হল অব ফেমের সদস্য।

১৯৬৯ সালের ২২ মে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে জন্ম তার। তার প্রতিভা এবং উচ্চ আকাঙ্ক্ষার জন্য তিনি একজন অভিনেতা, স্পিকার এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব হিসেবে সাফল্য অর্জন করেছেন। 

অনেক কষ্ট করে তিনি আজ সাফল্যের চূড়ায়মার্ক আন্তর্জাতিকভাবে তার কাজের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি তার কাজের জন্য এ্যামি অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছে।তার একটি অ্যালবামও রয়েছে, যার নাম বিগ টো। 

তার এই অ্যালবামের গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘উই আর দ্য সেইম’, ‘ডাউন ইওর ওয়ালস’, ‘রান ইনটু’, ‘কিপিং মি আপ’, ‘হোয়াই ট্রাই’ প্রভৃতি। এখানে বর্ণিত সবগুলো গানই ২০০১ সালে বের হয়।  

দুই হাত ছাড়া জন্মগ্রহণকারী এই ব্যক্তি, সমাজে নিজেকে একজন সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে গড়তে চান। মার্ক সমাজের বিভিন্ন প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কাজ করে থাকেন। 

তিনি তার রোজগারের টাকা আমেরিকার বিভিন্ন সমাজসেবামূলক ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করেন। মার্ক সংগীতের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি টিভি সিরিয়ালে সন্তানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। 

পা দিয়েই তিনি গিটার বাজিয়ে গান করেনতারপর থেকে অনেক সেলিব্রিটিরা মার্কের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। তারা মার্কের সঙ্গে কাজ করার কথা বলেন। মার্ক তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান এবং কাজ শুরু করেন। 

তার এই কাজের পারিশ্রমিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য তিনি ব্যয় করেন। ১৯৮১ সালের মধ্যে বাচ্চাদের দাতব্য সংস্থার জন্য ছয় মিলিয়ন ডলার জোগাড় করার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন মার্ক।

একটি সংগীত পরিবারে জন্ম মার্কের। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের মধ্যে বড় হন তিনি। সেই থেকেই গান ভালো লাগে তার। নয় বছর বয়স থেকে মার্ক তার নিজের লেখা গানে কণ্ঠ দেন। 

তবে সরঞ্জাম বাছাই করা তার জন্য একটি বিরাট বড় বাঁধা ছিল। মার্কের গানের প্রতি আগ্রহ দেখে তার বাবা খুব খুশি। মার্কের বাবা একটি পুরনো গিটার এনে দেন। 

পা দিয়েই গিটার বাজান তিনিগিটারটি দেখে মার্ক চিন্তা করেন কীভাবে এটি বাজাবেন? তারপর তার প্রতিবেশী বন্ধু এটা বাজাতে তাকে সাহায্য করলো। এই গিটারটিতে চারটি তন্তু ছিল। 

বন্ধুর সহায়তায় মার্ক তার নিজস্ব কৌশল অর্থাৎ পা দিয়ে গিটারটি বাজানো শুরু করেন। শৈশবকাল থেকেই মার্ক সংগীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। 

মার্ক তখন থেকেই বেশ কয়েকটি পেশাদার সংগীত শিল্পীদের সঙ্গে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি খেলাধুলায়ও দক্ষতা অর্জন করেছেন।

তার গান শুনতে ও পা দিয়ে গিটার বাজানো দেখতে ভিড় করেন ভক্তরাতিনি তার সংগীত নিয়ে বিশ্ব ভ্রমণ করেছেন। লিয়ান রাইমসের সঙ্গে তিনি ‘লিপ ব্লাফ্ট’ নামক জার্মানি টিভি সিরিজেও কাজ করেছেন। এই টিভি সিরিজটি ২০০৪ সালের ১৪ই ফ্রেব্রুয়ারি বের হয়।

শারীরিক সক্ষমতা নেই, তবুও তার রয়েছে জীবনকে উপভোগ করার উৎসাহ। এটি দেখে বেশ কয়েকটি সংস্থা তাকে সাধুবাদ জানিয়েছে। মার্ক গফিনি অনেক প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য অনুপ্রেরণা।

তাকে দেখে সমাজের অন্যান্য প্রতিবন্ধীরা নতুন কিছু শিখতে পারে। দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও তার এই প্রতিভার জন্য সে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস