মিষ্টির দুনিয়া কাঁপাচ্ছে সাতক্ষীরার সন্দেশ

মিষ্টির দুনিয়া কাঁপাচ্ছে সাতক্ষীরার সন্দেশ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:১১ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  

সাতক্ষীরার সন্দেশ

সাতক্ষীরার সন্দেশ

মিষ্টি শব্দটি শুনলেই জিভে জল চলে আসে। নানা রঙের নানান স্বাদের মিষ্টি তৈরি করেন ময়রারা। যা খেতে ভীষণ সুস্বাদু। আমাদের দেশ সুস্বাদু সব মিষ্টির জন্য বিখ্যাত। সেই তালিকায় রয়েছে সাতক্ষীরার সন্দেশও। এই মিষ্টান্ন কাঁপাচ্ছে সারা দুনিয়া।

নিশ্চয়ই জানেন, সাতক্ষীরার ফকির ময়রার সন্দেশ, সরপুরি, প্যাড়া ও দইসহ বিভিন্ন মিষ্টান্নের স্বাদের সুখ্যাতি ছড়িয়ে আছে দেশজুড়ে। জেলার ঐতিহ্যবাহী ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, সাগর সুইটস, ভাগ্যকূল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের উৎপাদিত সন্দেশ, সরপুরি, প্যাড়া ও দই যাচ্ছে সারাদেশে। এছাড়া মাতৃভাণ্ডার, জায়হুন ডেইরি শপ, সুশীল ময়রা, সাহা ও নুর সুইটসে উৎপাদিত মিষ্টি স্বাদে ও মানে অনন্য। সাতক্ষীরার ঘোষ সম্প্রদায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘সাতক্ষীরা ঘোষ’ ডেয়ারির নামে এখন দেশের প্রায় সব জেলাতেই রয়েছে মিষ্টির দোকান।

মিষ্টি তৈরির ছানা এসব প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত রসমালাই, কুসুমভোগ, ছানার জিলাপি, জামরুল, গোলাপ জাম, মৌচাক, বালিশ চমচম, দানাদার, দুধ মালাই, ক্ষীর সন্দেশ, রসগোল্লা ও দইয়ের চাহিদা বেশ। এছাড়া শীতের সময় উৎপাদিত নলেন গুড়ের সরপুরি ও প্যাড়া, সাদা সন্দেশ, রসমালাই মিষ্টির স্বাদকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।   

এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন, বিস্তীর্ণ চারণ ভূমি থাকায় অনেক আগে থেকেই সাতক্ষীরার প্রায় বাড়িতে গরুর পালন করা হত। তাছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এখন বাণিজ্যিক ভাবে নতুন নতুন গরুর খামার গড়ে উঠেছে। সরকারি হিসেবে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ দুগ্ধ উৎপাদনকারী জেলা সাতক্ষীরা। দুধের সহজলভ্যতা এই জেলার মিষ্টি উৎপাদন ও বিকাশে অনন্য ভূমিকা রেখেছে। এখানে উৎপাদিত মিষ্টির দামও অনেক কম। এখানকার সন্দেশ বা সরপুরি একবার খেলে সেই স্বাদের কথা ভুলতে পারেন না কেউ।

ছানা থেকে তৈরি মিষ্টিজনপ্রিয় এসব মিষ্টির উৎপাদন শুরু হয় ষাটের দশকে। সে সময় প্রথম গোলাম মোহাম্মদ ফকির আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ী সাতক্ষীরা শহরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। সারাদেশে এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও পরিচিতি রয়েছে ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের। বর্তমানে আদি ফকির মিষ্টান্ন ভান্ডার ও ফকির মিষ্টান্ন ভান্ডার নামে দুটি দোকানে এই মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে। সমসাময়িক সময়েই শেখ আব্দুর রশিদ নামে আরো একজন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠা করেন হোটেল সাগর (বর্তমানে সাগর সুইটস)। ভারতসহ সারাদেশে পরিচিতি রয়েছে সাগর সুইটসের। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত ভাগ্যকূল মিষ্টান্ন ভাণ্ডার বাণিজ্যিকভাবে সারাদেশে দইসহ অন্যান্য মিষ্টি বিক্রি করছে।

সাতক্ষীরার সুস্বাদু মিষ্টান্ন ফকির মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের কারখানায় প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে চারশ’ কেজি দুধের মিষ্টি তৈরি হয়। তৈরির পরপরই বিক্রি হয়ে যায় সব। তবে সুনাম অখুন্ন রাখতে পাইকারি বা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হয় না। আমরা মিষ্টিতে খাটি গরুর দুধ ব্যবহার করি। এতে অন্য কিছু ভেজাল দেই না। এমনকি আমাদের অন্য কোথাও কোন শাখা নেই। মিষ্টির স্বাদ, গুণ ও মানে প্রতিষ্ঠাকাল ও বর্তমানের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশি গরুর দুধের মিষ্টি ভালো হয়। কিন্তু বর্তমানে দেশি গরুর দুধ পাওয়া দুষ্কর। ফলে স্বাদে কিছুটা পরিবর্তন আসাটা স্বাভাবিক। তবে আমরা মিষ্টি তৈরিতে কোনো কেমিক্যাল বা ভেজাল দেই না।

সাতক্ষীরার সুস্বাদু সন্দেশ সাগর সুইটসের ম্যনেজার রেজাউল করিম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, পাকিস্তান আমলে আমাদের এই প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে। এখনো সুনামের সঙ্গে ব্যবসা চলছে। আমাদের মিষ্টি নিয়ে কেউ কোনোদিন অভিযোগ দিতে পারেনি। যারা সাতক্ষীরায় আসেন তারা সাগর বললে এক নামে চেনেন।

নতুন করে জনপ্রিয় হওয়া জায়হুন ডেইরি শপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল হাসান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলাম দেশে ফিরে গরুর খামার করি। নিজের খামারে প্রতিদিন কয়েক’শ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। সেই দুধ দিয়েই মিষ্টি তৈরি করছি। বর্তমানে আমরা বিদেশ থেকে আনা মানব দেহের জন্য উপকারী বিশেষ ব্যাকটেরিয়ার সমন্বয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে ভিন্ন স্বাদের মিষ্টি তৈরি করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ