সমুদ্রের নিচে পাওয়া মহামূল্যবান সম্পদ

সমুদ্রের নিচে পাওয়া মহামূল্যবান সম্পদ

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৬ ২২ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৬:৩৬ ২২ জুলাই ২০২০

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

কমলালেবুর আকৃতির পৃথিবীকে মূলত ভাগ করা হয় চারভাগে। এর তিনভাগই পানি আর বাকি একভাগ স্থল। সারা পৃথিবীজুড়েই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য সমুদ্র, আর সেগুলো নিয়ে সবার মনেই রয়েছে সবার কৌতূহল।  

তবে এর মাত্র কয়েক শতাংশ রহস্যই সামনে এসেছে সবার। আর এতেই পাওয়া গিয়েছে সমুদ্রের অনেক প্রাণীর খোঁজ, এছাড়াও মিলেছে পানির নিচে থাকা সম্পদের। চলুন তবে জেনে নিন তেমনই কিছু ঘটনা। যা বিজ্ঞানীদেরও করেছে হতবাক। 

লেক বৈকাললেক বৈকাল

এটি রাশিয়ার অন্যতম প্রাচীন এক লেক। সাইবেরিয়ার দক্ষিণভাগে অবস্থিত একটি সুপেয় পানির হ্রদ এটি। সারা পৃথিবীর প্রায় ২২ শতাংশ বিশুদ্ধ পানি রয়েছে এই লেকে। যেখানে গাড়ি এলেই আটকে যায়। এরপর পানির নিচে ডুবে যায়। কারণ শীতের সময়টায় এখানে প্রচুর বরফ পড়ে। বোঝাই যায় না কোনটা রাস্তা আর কোনটি লেক। ঢাকা থাকে বরফের চাদরে। 

সাইবেরিয়ার নীল নয়ন বা সাইবেরিয়ার মুক্তা নামে পরিচিত এই লেক। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় জমে বরফ হয়ে যাওয়া এই হ্রদ পৃথিবীর প্রাচীনতম ও গভীরতম। এর বয়স হবে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ বছর। আর এর গভীরতা প্রায় পাঁচ হাজার ফুট। ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বৈকাল লেক শীতকালে দেড় থেকে দু-মিটার পর্যন্ত মোটা বরফের চাদরে ঢেকে যায়। 

তবে সেই বরফের স্তর এতটাই স্বচ্ছ যে এর নিচের সবকিছুই একেবারে পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। হ্রদের গভীরে খেলা করা মাছ, সবুজ পাথর, হৃদের নিচে জন্মানো জলজ গাছড়া সবই খালি চোখে স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন আপনি। এই লেকের পানি এতোটাই স্বচ্ছ যে লেকের নিচে ৪০ মিটার পর্যন্ত দৃষ্টি অনায়াসে চলে যাবে।

বরফে ঢাকা লেকএত স্বচ্ছ্ব হলেও লেকের ওপরে পড়া বরফে চাদর কিন্তু যথেষ্ট শক্তপোক্ত। ১৫ টনের ভারী গাড়ি অনায়ায়সে চলে যেতে পারে এর ওপর দিয়ে। ১৬৪২ মিটার গভীর বৈকাল হ্রদ পৃথিবীর বৃহত্তম টাটকা পানীয় জলের উত্‍স। শীতকালে পড়া এই বরফের চাদর মে মাস পর্যন্ত থাকে। 

বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য বৈকাল হ্রদ ও তার জলজ জীব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈকাল হ্রদ থেকে একটিই নদী বেরিয়েছে, তার নাম আঙ্গারা। তবে ৩৩৬টি নদী এই হ্রদে এসে মিশেছে। রুশ উপকথা অনুযায়ী, আঙ্গারার ৩৩৬টি ছেলে ও একটি মেয়ে। বৈকাল হৃদের উত্‍স স্থল হলো শ্যামন স্টোন নামে এক পাহাড়। 

১৯৯৬ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ঘোষণা করে। এই জায়গাটি খুবই বিপজ্জনক। বলা হয় এর আশেপাশে যে গাড়ি বা উপর দিয়ে বিমান গেলেও চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে সবকিছুকে। জানা যায় এই লেকে নাকি আকাশ থেকে উল্কাপিণ্ডও পড়েছে। 

এই লেকের নিচে পাওয়া যায় পুরনো ঘরবাড়িধারণা করা হয়, এটি সাধারণ কোনো লেক নয়। স্থানটিতে রয়েছে অলৌকিক কোনো ক্ষমতা। এই লেকের পানিতে এখন পর্যন্ত ৯২টি গাড়ি, ১৮টি বোট, ৫৫টি মোবাইল, দুইটি মোটরসাইকেল এমনকি একটি বিমান, হেলিকপ্টার, ট্র্যাক্টরও ডুবেছে। আর এটা গত ১৫ বছরের মধ্যেই। তবে দ্রুতই এগুলো পানি থেকে উঠিয়ে আনা জরুরি। কারণ এর থেকে ফুয়েল পানিতে ছড়িয়ে দূষিত হতে পারে। 

সাধারণত ডুবুরিরা পানির নিচে সম্পদ বা প্রাণীর খোঁজে যায়। তবে এসব জিনিস তাদের হতবাক করে বহুগুণ। এই লেকের নিচে ডুবুরিরা কোনো মাছের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। তারা পেয়েছিলেন ডাইনোসরের ফসিল। কীভাবে সেখানে প্রায় ১০ ফিট লম্বা ডাইনোসর গেল সেটাই দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। 

এছাড়াও এই লেকের নিচে পাওয়া যায় কাঠের তৈরি ঘরবাড়ি। এর থেকে প্রমাণ মেলে, এখানে একসময় শুকনো মাটি ছিল। অনেকেরই ধারণা, এখানে হাজার বছর আগে কোনো ভয়ানক দুর্যোগ হয়েছিল। সেখান থেকেই লেকের পানিতে ডুবে যায় লোকালয়। প্রকৃতির বিস্ময় বৈকাল হ্রদে সারা পৃথিবীর অনুসন্ধানী গবেষক আর সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে সারাবছর।

সোনা ও রূপা পাওয়া যায় জাহাজ থেকেসমুদ্রতলে পাওয়া সম্পদ 

পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া স্প্যানিশ এক জাহাজে পাওয়া যায় মূল্যবান অনেক সম্পদ। জাহাজটির খোঁজ মেলে ১৯৮৫ সালে। এটি আবিষ্কার করেছিলেন অ্যাডভেঞ্চার মিল ভিসার। এই সম্পদ পাওয়ার পর তিনি বেশ ধনী হয়ে গিয়েছিলেন। এই জাহাজটি ১৬২২ সালে দুর্যোগের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এতে ছিল সোনা ও রূপার বহুমূল্যবান প্রায় ৪০ টন সম্পদ। এখান থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ উদ্ধার করা গিয়েছিল। আর বাকি অনেক কিছুই হারিয়ে গিয়েছিল সমুদ্রের নিচে। 

সুইবিসট্রিক জাহাজ

কোনো কোনো জাহাজ দুর্যোগের কবলে পড়ে সমুদ্রে হারিয়ে যায়। এটি নতুন কিছু নয় বরং সমুদ্রের নিত্য ঘটনা। এমনটাই ঘটেছিল এই জাহাজের সঙ্গেও। ১৮৮৫ সালে এটি কানাডার অন্টারিওতে কয়লা নিয়ে যাচ্ছিল। সামুদ্রিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এটি ডুবে যায়। এরপর একে তীরে নিয়ে আসা হয়, তবে উপরে তোলা সম্ভব হয়নি। 

উপর থেকে দেখা যায় জাহাজটিআর এখনো এটি পানির উপর থেকেই স্পষ্ট দেখা যায়। জাহাজটি এখন পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সারা বছরই সেখানে মানুষের ভিড় লেগে থাকে। আগে এখানে ডাইভিং এবং জাহাজের ভেতরে ঢোকার অনুমতি ছিল। তবে এটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ। তাই জাহাজের ভেতরে ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

কলোম্বিয়ান সম্পদ

যখন কিনা উড়োজাহাজ আবিষ্কার হয়নি তখন এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে ব্যবহার হত জাহাজ। এছাড়াও অন্য দেশের সঙ্গে যুদ্ধ করতেও ব্যবহার হতো জাহাজ। ৩০০ বছর আগে কলোম্বিয়ার সঙ্গে যখন আমেরিকা আর স্পেনের যুদ্ধ লাগে। তখন ব্রিটিশরা জিতে গিয়েছিল। 

সেসময় স্পেনের শেল হগি নামক এক জাহাজ ডুবে গিয়েছিল। সেটা ছিল স্পেনের জন্য অনেক বড় লোকসানের ব্যাপার। কারণ এই জাহাজেই ছিল মহামূল্যবান সম্পদ। সাউথ আমেরিকা থেকে সম্পদ নিয়ে স্পেনের দিকে যাচ্ছিল শেল হগি জাহাজটি। 

কলোম্বিয়ান সম্পদআজকের দিনের মূল্যে যদি হিসাব করা হয় তাহলে প্রায় ১৭ মিলিয়ন ইউএস ডলারের সমান সম্পদ ছিল জাহাজটিতে। সবকিছু নিয়েই ডুবে যায় সমুদ্রে। ২০১৫ সালে কলোম্বিয়া এই জাহাজের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটিই এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ। তবে এই সম্পদের মালিক কে হবে? 

স্প্যানিশরা নাকি কলোম্বিয়ানরা। এই দন্দ্বের মীমাংসা হয়নি এখনো। তাই কলোম্বিয়ান সরকার এই সম্পদ উদ্ধারের কাজ স্থগিত রেখেছেন। তবে কাউকেই জানতে দেননি এর অবস্থান সম্পর্কে। এমনই আরো অনেক কিছুই আবিষ্কৃত হয়েছে সমুদ্রের নিচে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস