লোকাল বাসে ই-টিকিটে স্বস্তি, খুশি যাত্রীরা

লোকাল বাসে ই-টিকিটে স্বস্তি, খুশি যাত্রীরা

রাসিব মোস্তফা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৩১ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ২২:০৫ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর লোকাল বাসে চালু হয়েছে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা। ফলে যাত্রীদের মধ্যে খুশি ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। অনেকেই বাস কন্ডাক্টরদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে দর কষাকষির ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে স্বাচ্ছন্দ্যে ই-টিকিট কাটছেন। 

যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে ভোগান্তি এড়াতে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ই-টিকেটিং সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘যাত্রী সার্ভিসেস লিমিটেড’-এর সঙ্গে পাইলট প্রকল্প হিসেবে গত ১ সেপ্টেম্বর একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। তবে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীর লোকাল বাসে ই-টিকেটিং চালুর কথা থাকলেও ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তা দৃশ্যমান হয়। 

সরেজমিন বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বরে দেখা যায়, প্রাথমিকভাবে প্রজাপতি পরিবহন, পরিস্থান পরিবহন ও বসুমতি পরিবহনে ই-টিকেটিং চালু হয়েছে। এ তিনটি বাস পরিবহন কোম্পানির প্রতিনিধিরা (চেকার) ই-টিকিট কাটার ডিভাইস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। যাত্রীরা যে গন্তব্যে যেতে চান সেটি শোনার পার তারা (চেকার) নিজস্ব ডিভাইসের মাধ্যমে ই-টিকিট কেটে দিচ্ছেন। এরপর বাসে ওঠার সময় তাদের টিকিট চেক করে গাড়িতে ওঠাচ্ছেন হেলপার। যদি কোনো যাত্রী নির্দিষ্ট ই-টিকিট কাটার পয়েন্ট ব্যতীত অন্য কোনো স্থান থেকে বাসে ওঠেন তবে পরবর্তী পয়েন্ট থেকে টিকিট কেটে দিচ্ছেন চেকাররা।

বাস পরিবহন কোম্পানির প্রতিনিধি সাজিদ জানান, ই-টিকিট ব্যবস্থা চালুর পর মিরপুর-১০ থেকে হাউস বিল্ডিংয়ের ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৪১ টাকা, এয়ারপোর্ট ৩২ টাকা, জসীমউদ্দিন ৩৫ টাকা, শেওড়া ২২ টাকা, পূরবী-কালশী ১০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও এসব স্থানে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের থেকে অর্ধেক ভাড়া নেয়া হচ্ছে। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশই-টিকেটিং চালু হওয়ায় এর সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে পাবলিকের সঙ্গে আমাদের কোনো গেঞ্জাম নেই, চিল্লাচিল্লিও নেই। ই-টিকিটে যা ভাড়া আসবে তাই দেবে, এতে আমাদের জন্য ভালো এবং আপনাদের জন্যও ভালো। এই সিস্টেমে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট অনুযায়ী এ ডিভাইসটি তৈরি করা হয়েছে। আপনি যতোটুকু জায়গা পর্যন্ত যাবেন ততোটুকু ভাড়াই নেয়া হবে। 

যদি কেউ ই-টিকেট না কেটে বাসে যাতায়াতের চেষ্টা করেন, তাহলে কী হবে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর পরবর্তীতে যে চেকিং পয়েন্ট থাকবে সেখান থেকে তাকে ই-টিকেট কেটে নিতে হবে এবং যেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছেন সেই জায়গার মূল ভাড়ার সঙ্গে ৫ টাকা জরিমানা নেয়া হবে। 

উত্তরাগামী প্রজাপতি পরিবহনের এক যাত্রী আলী আজম জানান, তিনি আগে ২৫ টাকা দিয়ে মিরপুর-১০ থেকে খিলক্ষেত যেতেন। তবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ টাকা। তাই ভাড়া একই থাকায় ৩০ টাকা দিয়ে তিনি ই-টিকিট সংগ্রহ করে রওনা হন। এছাড়াও ঢাকার সব রুটে ই-টিকেটিং চালু করার পরামর্শ দেন তিনি। 

পরিস্থানের এক যাত্রী ব্যবসায়ী মো. রানা বলেন, ভাড়া নিয়ে আগে যে বিড়ম্বনা ছিল এখন আর তা নেই। এর ফলে বাস কন্ডাক্টর ও হেলপারদের সঙ্গে কোনো ঝগড়া হচ্ছে না। এরকম সিস্টেমটা সব রুটেই করা উচিত।  

শেওড়া বাজার যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে কখনো ২৫ টাকা নিতো আবার কখনো ৩০ টাকা নিতো তবে এখন আর কোনো ঝামেলা নেই। এখন কিলোমিটার হিসেবে ২২ টাকা ভাড়া দাঁড়ায় আর সে পরিমাণ টাকা দিয়েই টিকিট কেটেছি।  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশতবে সুমাইয়া নামে এক কলেজছাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার দাবি নিয়ে বলেন, আগে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১২ নম্বরে ৫ টাকা ভাড়া দিয়ে যেতাম; এখন ১০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য একটু সমস্যা।

সার্বিক বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ডেইলি-বাংলাদেশকে বলেন, প্রথমদিনেই আমরা খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। ই-টিকিট নিয়ে যাত্রীদের তেমন কোনো অভিযোগও নেই। আর এতে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ারও কোনো সুযোগ নেই।  

কবে নাগাদ রাজধানীর অন্যান্য রুটে ই-টিকেটিং চালু হবে- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিইনি। তবে আগামীতে রাজধানীজুড়েই ই-টিকেটিং’র আওতায় আনা হবে। সেটি পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা জানাব।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম/আরআই