স্ত্রীকে পুড়িয়ে মেরে পরিচয় বদলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মৃত্যুদণ্ড নিয়ে পলাতক আসামি

স্ত্রীকে পুড়িয়ে মেরে পরিচয় বদলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মৃত্যুদণ্ড নিয়ে পলাতক আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩৪ ১৪ আগস্ট ২০২২  

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. আলম

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. আলম

স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার পর পরিচয় বদলে দীর্ঘ ২১ বছর পলাতক ছিলেন ঘাতক স্বামী মো. আলম (৪০)। এর মধ্যে করেন দ্বিতীয় বিয়েও। শনিবার রাতে রাজধানীর বংশাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সেই স্বামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকায় গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে আম্বিয়া হত্যা মামলায় আসামি মো. আলমকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

র‌্যাব জানায়, ২০০১ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়ার তিন মাসের মাথায় যৌতুকের জেরে স্ত্রী আম্বিয়াকে পুড়িয়ে হত্যা করেন আলম। ঘটনার ৫ বছর পর ঢাকার বংশাল এলাকায় নিজের নাম-ঠিকানা গোপন রেখে করেন দ্বিতীয় বিয়ে। তখন থেকে ভিন্ন পরিচয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করে আসা আলম আর কখনোই মানিকগঞ্জের নিজ বাড়িতে যাননি।

রোববার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।

গ্রেফতার আলমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, ২০০১ সালের জুন মাসে আম্বিয়া বেগমের (১৮) সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় আলমের। বিয়ের সময় আসবাবপত্র, ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার দিলেও কিছুদিন পরেই আরো ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন আলম। টাকা দিতে না পারায় স্ত্রী আম্বিয়াকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে টাকা ভিকটিমকে মারধর করে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয় এবং টাকা না আনলে নিজ বাড়িতে উঠতে দিবেন না বলে জানান আলম।

২০০১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে আলম ভিকটিমের বাবার বাড়িতে এসে ঘরের বাইরে ডেকে নিয়ে যান। বাড়ির পাশের রাস্তায় নিয়ে আম্বিয়াকে চর, থাপ্পর, কিল, ঘুষি মারতে থাকেন। আম্বিয়া মাটিতে পড়ে গেলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান।

পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আম্বিয়া মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি আলমের মারধর এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বলে গেছেন। এ ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর সিংগাইর থানায় দায়েরকৃত মামলায় ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে আদালত আলমকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেন। ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলা উচ্চ আদালতে গেলে সেখানেও তার মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, স্ত্রী আম্বিয়াকে হত্যার ৫ বছর পর পরিচয় গোপন করে ঢাকার বংশালে দ্বিতীয় বিয়ে করে বসবাস করতে থাকেন আলম। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি কখনোই আর নিজ বাড়িতে যাননি। এর মধ্যে বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানা পাল্টে জাতীয় পরিচয়পত্রও বানান তিনি। এরমধ্যে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসা আলম সর্বশেষ একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএস

Bulletথাইল্যান্ডে শিশু ডেকেয়ার সেন্টারে এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ৩৪ Bullet৪১ রানে অল আউট করে বাংলাদেশের বিশাল জয় Bulletডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতের উপায় খুঁজে বের করার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ Bulletজঙ্গি সম্পৃক্ততায় বাড়ি ছেড়ে যাওয়া চারজনসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব Bulletমৌসুমের প্রথম জাহাজ হিসেবে ৭৫০ পর্যটক নিয়ে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন গেল ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ Bulletবিশ্বে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১০৬১ মৃত্যু, শনাক্ত ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ জন Bulletটেকনাফে ট্রলারডুবির ঘটনায় আরো দুই নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ Bulletমধ্যরাত থেকে ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শুরু