ভোগান্তি সঙ্গী করেই গ্রামের স্বজনদের কাছে ছুটছে মানুষ

ভোগান্তি সঙ্গী করেই গ্রামের স্বজনদের কাছে ছুটছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:২৫ ২০ জুলাই ২০২১   আপডেট: ২১:৩১ ২০ জুলাই ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রাত পোহালেই দেশজুড়ে শুরু হতে যাচ্ছে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। সেই উৎসবে স্বজনদের সঙ্গে শামিল হতে শত বাধা উপেক্ষা করে এবং ভোগান্তিকে সঙ্গী করেই রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গ্রামের পানে মানুষ ছুটছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টার দিকে রাজধানীর গাবতলী, সায়দাবাদসহ বেশকিছু এলাকায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই স্বাস্থ্যবিধিকে উপেক্ষা করছেন। আবার অনেককেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা গেছে।

গাবতলীতে দূরপাল্লার বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন ভিড় করা মানুষ। বাস কর্তৃপক্ষ অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখলেও মানুষের চাপে বাস পূর্ণ হয়েই গন্তব্যের দিকে ছুটছে। যারা বাসে আসন বা জায়গা পাচ্ছেন না তারা খুঁজে নিচ্ছেন বিকল্প উপায়। এজন্য প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল চড়ে রওনা হচ্ছেন অনেকে। গুনছেন বাড়তি টাকাও।

জাহাঙ্গীর আলম নামের এক যাত্রী গাবতলীতে বাস কিংবা বিকল্প গাড়ির অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, বাস কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে মানুষ গ্রামে যাচ্ছে। যদি কোনো বাস না পাই বাড়তি চারগুণ ভাড়া দিয়ে প্রাইভেটকার কিংবা মাইক্রোবাসে বাড়ির দিকে রওনা হব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসচালক বলেন, ঈদে বাড়ি যেতে যখন অনেকে কাকুতি-মিনতি করেন তখন নিয়মনীতি ভুলে যেতে হয়। স্বাস্থ্যবিধি মানার চেষ্টা হচ্ছে। মাস্ক পরতে উৎসাহ দিচ্ছি। এরসঙ্গে হ্যান্ডস্যানিটাইজার দিচ্ছি। বাকিটা কপাল।

জোবায়ের নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ঈদের পর টানা ১৪ দিন বন্ধ থাকবে দেশের সবকিছু। এজন্য বাড়িতে ঈদ করার সুযোগ হারাতে চাই না। বাড়ির সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি সময় কাটানো হবে।

তার মাধ্যমে করোনা ছড়াতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি কয়জন মানছে। মাস্ক পরছি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার লাগিয়েছি। এর বেশি কিছু কি সম্ভব?

রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে অসংখ্য মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। রোম্মান আহমদ নামের এক যাত্রী বলেন, অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি কিন্তু নির্দিষ্ট বাস তিন ঘণ্টা ধরে দেরি করছে। কখন বাস আসবে, আর বাসে করে বাড়ির দিকে কখন রওনা দেব তা জানি না।

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, টার্মিনালে আসতে দ্বিগুণের চেয়ে বেশি বাস ভাড়া দিতে হয়েছে। বেশি ভাড়া দিয়েও রেহাই নেই। বাসে গাদাগাদি করেই আসতে হয়েছে। এখন দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে দূরপাল্লার বাসে উঠার চেষ্টায় আছি। অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবুও বাড়ি যে ফিরতে হবে।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ব্যবসায়ী আদনানা বলেন, বিকেল থেকে ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে টার্মিনালে এসেছি। বাস ছাড়ার কথা ছিলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। কিন্তু বাস এখনো আসেনি। মহাসড়কে যানজটের কারণে এখনো বাসন আসতে পারেনি বলে কাউন্টার থেকে জানিয়েছে।

যাত্রী রহমত আলী বলেন, ঈদে আনন্দ করতে বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু আনন্দের আগেই ভোগান্তি সবকিছু নষ্ট করে দিচ্ছে। ঈদের পরদিনই আবার ঢাকায় ফিরতে হবে। মা-বাবা, বউ-বাচ্চা ও সংসার ছেড়ে ঢাকায় একা ঈদ করতে মন চাইছে না।

এদিকে ঈদ যাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে মঙ্গলবার ভোর থেকেই ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট আরো তীব্র হয়ে ৩০ কিলোমিটার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে নতুন দুর্ভোগ হিসেবে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। ঈদের আগেরদিন যানজট আর বৃষ্টিতে নাকাল অবস্থা ঘরমুখো মানুষের।

বাস, মিনিবাস, ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি ট্রাক, পিকআপ ভ্যানে নিম্ন আয়ের ও শ্রমজীবী মানুষ বাড়ি ফিরছে। স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় যানজটে আটকে পড়া মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।

আরো দেখা গেছে, ৩০ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে উত্তরবঙ্গগামী লেন যানবাহনে পূর্ণ হয়ে রয়েছে। এক জায়গায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে একটু একটু করে এগোতে হচ্ছে। কাছাকাছি গন্তব্যের অনেক যাত্রীই বাধ্য হয়ে বাস থেকে নেমে হেঁটে বাড়ির পথ ধরেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ