৫১ দিনের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: যেভাবে উদ্ধার হলো পরিকল্পনামন্ত্রীর ফোন

৫১ দিনের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: যেভাবে উদ্ধার হলো পরিকল্পনামন্ত্রীর ফোন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৭ ১৯ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৫:৩৯ ১৯ জুলাই ২০২১

গ্রেফতারকৃতরাসহ উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন - ডেইলি বাংলাদেশ

গ্রেফতারকৃতরাসহ উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন - ডেইলি বাংলাদেশ

চুরি হওয়ার ৫১ দিন পর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের আইফোন উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগ।

সোমবার সকালে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন উপ-পুলিশ কমিশনার (রমনা) মো. সাজ্জাদুর রহমান।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো‑ সগির, সুমন মিয়া, জাকির, হামিদ আহম্মেদ, সোহাগ ওরফে আরিফ ও জীবন। তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল, বিভিন্ন মডেলের ১০টি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইলের ভাঙ্গা যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে।

সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ৩০ মে ঘটনার পরপরই পুলিশের সঙ্গে গোয়েন্দারাও মোবাইলটি (আইফোন) উদ্ধারে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার পাশাপাশি নিবিড় পর্যবেক্ষণ শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের আশপাশে একাধিক সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহের পর রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে প্রথমে মো. সগির ও মো. সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মো জাকির, মো. হামিদ আহমেদ ও সোহেল ওরফে আরিফের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতরা মাদকসেবীর পাশাপাশি পেশাদার ছিনতাইকারীচকের সদস্য। তারা রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের মোবাইল, ভ্যানিটি ব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে ওই স্থান দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্যাগ করে। মন্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনতাই হওয়ার পর একজনের কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রিও করা হয়। তবে সে ওই মোবাইলটি অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখে। গত সপ্তাহে সেটি চালু করা হয়। এরপরই মূলত আইফোনটির অবস্থান নিশ্চিত হয়, পরে সেটি উদ্ধার হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, আইফোনটি মন্ত্রীর সুমন তা ভাবতেও পারেনি। সেটি নেয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা শুরু হলে সুমন বেকায়দায় পড়ে যায়। সে মূলত একজন মাদকসেবী। বিজয় সরণিতে উড়োজাহাজের নিচে দীর্ঘদিন বাস করে আসছিল। কিন্তু মোবাইলটি ছিনিয়ে নেয়ার পর সে আর ওই স্থানে যেতে পারছিল না। বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল। তারা ছিন্নমূলও।  মন্ত্রীর দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে। 

যেভাবে উদ্ধার হয় ফোনটি-
গত ৩০ মে রাজধানীর বিজয় সরণি থেকে পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ফোন ছিনতাই হয়। এরপর থেকে ফোনটি উদ্ধারে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটক করা হয় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের। ছিনতাইকারী সন্দেহে বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে কাজের কাজ ফোনটিই পাওয়া যাচ্ছিল না।

মামলাটির তদন্তের সঙ্গে জড়িত পুলিশের একজন কর্মকর্তা সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, সর্বশেষ ৩০ হাজার টাকায় হাতিরপুলে একটি দোকান থেকে মন্ত্রীর ফোনটি বিক্রি হয়েছে। তবে যার কাছে বিক্রি হয়েছে, তার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ওই দোকানির কাছে সেই ব্যক্তির কোনো তথ্য নেই।

যিনি ফোনটি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন, তাকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের কথাও জানিয়েছিল পুলিশ। ছিনতাইকারী ফোনটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন একজনের কাছে। এরপর আরো দুই হাত ঘুরে সেটি ওঠে হাতিরপুলের একটি দোকানে। সেখান থেকে একজন ‘আইফোন-এক্স’ মডেলের ফোনটি কেনেন ৩০ হাজার টাকায়। তবে যিনি মোবাইলটি কিনেছেন তাকে শনাক্ত করতে পারছিল না পুলিশ। 

গত ১২ জুলাই ধানমন্ডি থানায় একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাইয়ের মামলা করেন এক নারী। ওই নারী রিকশাযোগে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী তার ব্যাগ টান দিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ ওই ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করে। সগির ও সুমন নামে দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর তিন আসামি গ্রেফতার হয়। তাদের কাছ থেকেই মন্ত্রীর মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। এর মাধ্যমে ৫১তম দিনে এসে মোবাইল ফোন উদ্ধারের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিসমাপ্তি হয়।

এদিকে, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, আমার বিশ্বাস ছিল ফোনটা পাওয়া যাবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আমার বিশ্বাসটা রক্ষা করেছে। এজন্য অনেক ধন্যবাদ। 

সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নিজ অফিস কক্ষে এসব কথা বলেন তিনি। এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, আমার চেয়ে আমার ফোনটাই বেশি জনপ্রিয় হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ