স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ ও মশার লার্ভা পাওয়ায় জরিমানা সোয়া লাখ টাকা

ডিএসসিসিতে ১১ ভ্রাম্যমাণ আদালত

স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ ও মশার লার্ভা পাওয়ায় জরিমানা সোয়া লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৪৪ ৭ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ২০:৪৫ ৭ এপ্রিল ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও মশার লার্ভার বিরুদ্ধে ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এ সময় কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ ও মশার লার্ভা পাওয়ায় জরিমানা সোয়া লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বুধবার ডিএসসিসি এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের (আনিক) পাশাপাশি কর্পোরেশনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসব অভিযান পরিচালনা করেন।

এদিন এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে নগরীর ধানমন্ডিতে অভিযান পরিচালনা করেন কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা, স্বামীবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ। 

অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরফান উদ্দিন আহমেদ ওয়ারী এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান, ওষুধের দোকান ও জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট ব্যতীত ২০টির অধিক দোকান বন্ধ করে দেন। এ সময় তিনি সবাইকে মাস্ক পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন।

পাশাপাশি ঢাদসিক এর সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত জায়গা দখল মুক্ত করেন।  

পাশাপাশি ডিএসসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত জায়গা দখল মুক্ত করেন।  

ডিএসসিসির আঞ্চল-১ এর আনিক মেরিনা নাজনিন আজ কাঁটাবন, ধানমণ্ডি ও গ্রিন রোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা ভঙ্গ করে খাবার পরিবেশন, রাস্তা দখল করে গাড়ি রাখায় মোট ৬টি মামলা দায়ের এবং নগদ ২৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

অভিযান প্রসঙ্গে অঞ্চল-১ এর আনিক মেরিনা নাজনিন বলেন, আজকের অভিযানে কাঁটাবনের অষ্টব্যঞ্জন রেস্টুরেন্টের ভেতরে ৮ জন ব্যক্তিকে খাবার পরিবেশন করায়, ধানমণ্ডির কেএফসি'র কর্মীরা ফুটপাথ দখল করে তাদের মোটর সাইকেল রাখায় এবং গ্রিন রোডের বেস্ট বাই নামক ভ্যারাইটি শপ অনুমেদনহীনভাবে খোলা রাখায় জরিমানা করেছি। আজকের অভিযানে মোট ৬টি মামলা দায়ের এবং সেসব মামলায় মোট ২৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

অঞ্চল-২ এর আনিক সোয়ে মেন জো বলেন, আজ খিলগাঁও-বাসাবো এলাকায় পরিচালিত অভিযানে আমরা বিভিন্ন অলিতে-গলিতে যেমন অভিযান পরিচালনা করেছেন তেমনি গণপরিবহনে স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছে কিনা সেটাও তদারকি করেছি। এ সময় গণপরিবহনগুলোতে স্বাস্থ্য বিধি না মেনে যাতায়াত করা এমন ৪ পরিবহন চালককে মাস্ক না পরার অপরাধে উপস্থিত জনতার সামনে কান ধরে উঠবস করানো হয় এবং পরবর্তীতে মাস্ক পড়ার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর মাস্ক না পরা এমন ৬ যাত্রীকে ঘন্টাখানেক আটক রাখা হয় এবং আর মাস্ক না পরে বের হবেন না, এমন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়াও অনুমোদিত প্রায় ৬০টি দোকান অভিযানে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

অঞ্চল-৩ এর আনিক বাবর আলী মীর বলেন, আজ আমরা নগরীর কামরাঙ্গীরচর ও বেড়িবাঁধ  এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। এ সময় মাস্কবিহীন শতাধিক পথচারীকে মাস্ক পরতে বাধ্য করা হয়েছে। এছাড়াও ট্রেড লাইসেন্স বিহীন ব্যবসা করার অপরাধে একটি মাংসের দোকান থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।  

অঞ্চল-৪ এর আনিক মো. হায়দর আলী আজ নগরের বাবুবাজার ব্রিজ, সদরঘাট টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকা, লক্ষীবাজার, তাঁতী বাজার মোড় ও রায় সাহেব বাজার মোড়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাধারণ জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা এসময় অননুমোদিত ২০টি দোকান ও শপিং মল বন্ধ করে দেন।

আনিক-৪ মো. হায়দর আলী বলেন, সন্ধ্যার পরে আমরা আবার অভিযান শুরু করি। সন্ধ্যা সাতটার পরে নাজিরা বাজার এলাকায় অননুমোদিত দুটি দোকান খোলা রাখার অপরাধে ২টি মামলা দায়ের ও নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

এছাড়াও ঢাদসিক এর অন্যান্য অঞ্চলের আনিকবৃন্দ আজ নিজ নিজ অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ সরকার ঘোষিত লকডাউনে আরোপিত শর্তাবলি মেনে চলতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেন। একই সঙ্গে সেসব অঞ্চলগুলোতে অনুমোদনবিহীন ভাবে খোলা রাখা প্রায় শতাধিক দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়। সবমিলিয়ে আজকের অভিযানে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও  আড়াই শতাধিক অননুমোদিত দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ