স্বামীর নেশার টাকা জোগাতেই চুরিবিদ্যা রপ্ত করেন ‘অনাথ’ রোজিনা

স্বামীর নেশার টাকা জোগাতেই চুরিবিদ্যা রপ্ত করেন ‘অনাথ’ রোজিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:২৬ ২৮ জানুয়ারি ২০২১  

রোজিনা ওরফে রুনা

রোজিনা ওরফে রুনা

ছোটবেলায় মা-বাবার কাছ থেকে হারিয়ে যান ৩২ বছর বয়সী রোজিনা ওরফে রুনা। এরপর থেকে তাকে লালন-পালন করেন নরসিংদীর এক দম্পতি। সুমন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে রোজিনাকে বিয়েও দেন তারা।

অনেক আশা নিয়ে রোজিনা ঘর-সংসার শুরু করেন। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই তার সব স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। বুঝতে পারেন স্বামী সুমন একজন চোর ও মাদকাসক্ত। এর আগে সাতটি বিয়ে করেছেন তিনি। একাধিক নারীর সঙ্গে রয়েছে মেলামেশাও।

মাদকের পেছনে সুমনের নিয়মিত অনেক টাকা খরচ হতো। চুরি, ছিনতাই করে একার পক্ষে সেই টাকার ব্যবস্থা করা সুমনের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। স্ত্রী রোজিনার সঙ্গে সুমন একই বাসায় থাকতেন। তাদের দুটি বাচ্চাও আছে। একজনের বয়স ১১ বছর অন্যজনের মাত্র ৩৩ দিন।

সুমন প্রতিনিয়ত রোজিনাকে নির্যাতন করতেন। মাদকের টাকার জন্য দিতেন চাপ। পরে একপ্রকার বাধ্য হয়েই রোজিনা রপ্ত করেন চুরি বিদ্যার কৌশল।

গত ২০ জানুয়ারি রাজধানীর একটি বাসায় মোবাইল চুরির পর করা জিডির তদন্ত করতে গিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মতিঝিল বিভাগের অবৈধ মাদক উদ্ধার টিম রোজিনা ও তার তিন সহযোগী রুবেল, মনোয়ার ও আল আমিনকে গ্রেফতার করে।

এর পরই উঠে আসে রোজিনার ‘চোর’ হয়ে ওঠার নেপথ্যের ঘটনা। গ্রেফতারদের কাছ থেকে ৩০টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবির তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাসা-বাড়ি, ব্যাচেলর মেসে বেশি চুরি করতেন রোজিনা। চুরি করা মোবাইল-ল্যাপটপ বিক্রি করে যা আয় হতো সেটি দিয়েই স্বামীর নেশার খরচ ও সংসার চালাতেন। রোজিনা তার তিন সহযোগীকে নিয়ে বড় ধরনের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। দামি-কম দামি সব মোবাইল ফোনই চুরি করতেন রোজিনা। আর সেগুলো রুবেল, মনোয়ার ও আল আমিনের মাধ্যমে বিক্রি করতেন। মূলত রোজিনা এই তিনজনকে নিয়ে একটি ও তার স্বামী রাসেলকে নিয়ে আরেকটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। তার সহযোগী রাসেল গুলিস্তানের পাতাল মার্কেট এলাকায় চুরি ও ছিনতাই করা মোবাইল বিক্রি করতেন। পলাতক থাকায় রাসেলকে এবং নিরাময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় সুমনকে গ্রেফতার করতে পারেনি ডিবি।

ডিবি জানায়, রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকায় স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে থাকতেন রোজিনা। ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে চুরি করতেন তিনি। বিশেষ করে যেসব মেসে ভোরবেলা বুয়া আছে সেসব বাসা টার্গেট করতেন। সকাল বেলা ঘুমন্ত মেস বাসিন্দাদের মোবাইল, ল্যাপটপ নিয়ে চলে যেতেন। এছাড়া যেসব বাসার নারীরা সকাল বেলা সন্তানদের নিয়ে স্কুলে যান, ওই বাসায় ঢুকতেন। দরজা খোলা না থাকলে বাসায় ঢুকতেন নকল চাবি ব্যবহার করে। রোজিনা ও তার সহযোগীরা সাত রাস্তা, বেগুনবাড়ি, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, রামপুরাসহ আরো কিছু এলাকার বাসা বাড়িতে চুরি করতেন।

ডিবির মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) আব্দুলাহ আল মামুন বলেন, গ্রেফতার সবাই পেশাদার চোর ও ছিনতাইকারী। রোজিনা ছোট বেলায় তার মা-বাবাকে হারান। বিয়ের পর তিনি জানতে পারে স্বামী সুমন ছিল চোর ও মাদকাসক্ত। তবে স্বামী ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় তিনি চুরি করা শুরু করেন।

তিনি বলেন, কারওয়ান বাজারের চক্রটি যানজটে থেমে থাকা বাসের যাত্রীদের মোবাইল ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে যেতো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর