বিয়ের আগে সাবধান, সাদিয়ার ফাঁদে পড়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত

বিয়ের আগে সাবধান, সাদিয়ার ফাঁদে পড়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:১৬ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:২১ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ভুয়া কানাডা প্রবাসী সাদিয়া জান্নাত।

ভুয়া কানাডা প্রবাসী সাদিয়া জান্নাত।

জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় পাত্রী চাই বিজ্ঞাপনে বিয়ে করে কানাডায় স্থায়ীকরণ বা ব্যবসার দায়িত্ব অপর্ণের সুবর্ণ সুযোগ। এমন বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিলেই সর্বস্বান্ত হওয়া ছাড়া উপায় নেই। তেমনি প্রতারণার মাধ্যম ৩০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে অনেককে সর্বস্বান্ত করেছেন সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌস। অবশেষে তাকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাই বিয়ে করার আগে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে আইশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ বলছে, কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে আগেভাগেই খোঁজ নিতে হবে। আর বিয়ের ক্ষেত্রে আরো সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। বিয়ের পাত্র-পাত্রী সম্পর্কে ভালোভাবে জেনেই যেকোনো সম্পর্কে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, কানাডার সিটিজেন ডিভোর্সি ও সন্তানহীন নারীর জন্য পাত্র চাই’। গত ১১ বছর ধরে সাদিয়া জান্নাত এমন বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে এসব টাকা হাতিয়ে নেয়।

আরো পড়ুন>>আল্লামা আহমদ শফী মারা গেছেন

শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস হলেও প্রতারক সাদিয়া জান্নাতের কথাবার্তা ও স্মার্টনেস দেখে কানাডা প্রবাসী ভেবেই সবাই ভুল করতো। তার ফাঁদে পড়ে অনেকেই খুইয়েছেন কোটি টাকা।

অভিযানে সাদিয়া জান্নাতের কাছ থেকে ভুক্তভোগীদের অনেক পাসপোর্ট, ১০টি মোবাইল ফোন, তিনটি মেমরি কার্ড, সাতটি সিল, অসংখ্য সিম ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা টাকার একটি হিসাব বই উদ্ধার করা হয়।

আরো পড়ুন>>‘পাত্র চাই’ বিজ্ঞাপনে ৩০ কোটি টাকা আত্মসাত করল সাদিয়া

শেখ রেজাউল হায়দার আরো বলেন, এ বছরের ৯ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন সাদিয়া। বিজ্ঞাপনে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, কানাডার সিটিজেন, ডিভোর্সি, সন্তানহীন, বয়স ৩৭, ৫.৩ ফুট লম্বা, নামাজি পাত্রীর জন্য ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী বয়স্ক পাত্র চাই। যোগাযোগের জন্য ঠিকানা- বারিধারা। এরপর একটি মোবাইল নম্বর দেয়া হয়।

এভাবেই ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল সাদিয়া জান্নাত। সে তার প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে মিলে এই প্রতারণা শুরু করে। ঢাকা ও এর আশপাশে তার ২০ কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে সিআইডি।

তিনি আরো বলেন, বিজ্ঞাপন দেখে মো. নাজির হোসেন প্রতারক সাদিয়া জান্নাতের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে গত ১২ জুলাই গুলশান-১ থাই সিগনেচার রেস্টুরেন্টে দেখা করেন। বিয়ের পর তাকে কানাডায় নিয়ে যাবেন। সেখানে তার ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা দেখভাল করবেন।

সাদিয়া জান্নাতের এসব কথায় বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও পাসপোর্ট দেন। পরে প্রতারক সাদিয়া জান্নাত জানায়, কানাডায় প্রচণ্ড শীত তাই, সেখান থেকে তার ২০০ কোটি টাকা ফেরত নিয়ে আসবেন। পরে দেশেই ব্যবসা করবেন।

শেখ রেজাউল হায়দার জানান, ওই টাকা ডিএইচএল এর মাধ্যমে ফেরত আনতে ভুক্তভোগী নাজির হোসেনের কাছ থেকে বিভিন্ন তারিখে সর্বমোট ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। পরে ফোন বন্ধ করে দেন।

তিনি আরো জানান, গত ১১ বছরে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সাদিয়া জান্নাত। তার একটি হিসাবের খাতা উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার হিসাব আমরা পেয়েছি। তার চারটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। সেখানে আমরা ১ কোটি টাকা পেয়েছি।

শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার পরে মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিতেন সাদিয়া জান্নাত। আমরা এই চক্রের আরো সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।

প্রতারণা প্রতিরোধে বিয়ের ক্ষেত্রে আগে থেকেই সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন সিআইডি কর্মকর্তা শেখ রেজাউল হায়দার।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ