খালেদার সাজা স্থগিতের মেয়াদ শেষ হতে চললেও মাথা ব্যথা নেই বিএনপির

খালেদার সাজা স্থগিতের মেয়াদ শেষ হতে চললেও মাথা ব্যথা নেই বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২১ ৫ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৮:৪০ ৫ মার্চ ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আগামী ২৫ মার্চ শেষ হতে চলেছে একাধিক দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দ্বিতীয় দফায় সাজা স্থগিতের মেয়াদ। পুনরায় সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তৃতীয় দফা আবেদন করা হলেও এ বিষয়ে মাথা ব্যথা নেই দলটির হাইকমান্ডের।

দায়িত্বশীল সূত্রমতে, দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত হয় খালেদা জিয়ার। সেপ্টেম্বরে বাড়ানো হয় আরো ছয় মাস সাজা স্থগিতের মেয়াদ। মুক্তির পর থেকে গত ১১ মাস ধরে তিনি অবস্থান করছেন গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য়।

দলীয় সূত্রমতে, দলের ক্ষমতা খালেদা জিয়ার হাত থেকে এখন তারেক রহমানের হাতে চলে গেছে। তাই একে একে খালেদাপন্থী নেতারা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন। তারা আর খালেদা জিয়ার খোঁজ রাখেন না। 

তবে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, খালেদা জিয়াকে এক প্রকার গৃহবন্দি করে রেখেছেন তার ছেলে তারেক রহমান। তিনি তার পছন্দের কিছু নেতাকর্মী ছাড়া অন্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেন না খালেদাকে। শুধু তাই নয়, ‘ফিরোজা’র দারোয়ানকেও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রদত্ত তালিকার বাইরে অন্য কেউ যেন অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে। করলেই তার চাকরি থাকবে না। এ কারণে শতভাগ ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কোনো নেতা তার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। 

তিনি বলেন, দলীয়ভাবেও কোনো নেতাকর্মীকে খালেদার কোনো খোঁজ নিতে দেন না তারেক রহমান। দলে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য খালেদাপন্থী সিনিয়র নেতাদের সঙ্গেও খালেদা জিয়াকে সাক্ষাৎ করতে দেন না তারেক রহমান।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বরাবরই তারেক রহমানের ধ্যান-ধারণা ছিলো আত্মকেন্দ্রিক। যার কারণে তিনি মাকে ঘরবন্দি করে রাজনৈতিক পুতুল বানিয়ে দলের ক্ষমতা করায়ত্ত করেছেন। বেগম জিয়া মুক্ত হয়ে আবার রাজনীতিতে ফিরে আসুক এটা তিনি চান না। যার ফলেই দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে কৌশলে দূরে সরিয়ে রেখেছেন বিএনপি নেত্রীকে। সিনিয়র নেতারাও নির্বিকার হয়ে কোনো খোঁজ নেন না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/টিআরএইচ/এমকেএ