বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের বড় নেতাদের জোশ কমছে

বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের বড় নেতাদের জোশ কমছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪৮ ৩০ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:১১ ৩০ নভেম্বর ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজনীতিতে তরুণরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, কিন্তু বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টে নেই কোনো তরুণ। তাদের সুযোগ না দিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠরাই দলের হাল ধরে রেখেছেন। এদের মধ্যে অনেকেই আবার বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কয়েক নেতার বয়স ষাটোর্ধ্ব হওয়ায় করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় তারা সাংগঠনিক কার্যক্রমের বাইরে। সব মিলিয়ে রাজকৌশল, বুদ্ধি, পরামর্শের শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে।

বিএনপির রাজনীতিতে এক সময়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বায়োডাটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বয়স  ৮৮ বছর। তিনি এক সময় বিএনপির অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। করোনা নিয়ে দু-একটা মতামত গণমাধ্যমে দেখা গেলেও সশরীরে রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচিতে তেমন দেখা যায়নি  তাকে।

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ৮৪ বছরে পা রাখছেন। তিনি ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম একজন নেতা। দলে ভাঙনসহ অনেক বড় ইস্যুতেও প্রভাব রাখা ড. কামালকে ৯-১০ মাস রাজনৈতিক কর্মসূচিতে চোখে পড়েনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরুদ্দিন সরকারের বয়স ৮৯। দীর্ঘদিন থেকে চলতে হয় অন্যের সাহায্য নিয়ে। করোনার আগে রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচিতে এলেও টানা ২০-৩০ মিনিট একটানা দাঁড়িয়ে কিংবা বসে থাকতে পারেন না।

আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের বয়সও ৮০ পার হয়েছে। করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজনীতিতে আলোচিত-সমালোচিত এই ব্যক্তিকে দেখা যায়নি।

দলটির মিডিয়া উইংয়ের ভাষ্য, করোনার পর থেকে তিনি কর্মসূচি ও নেতাকর্মী থেকে শারীরিক দূরত্ব ও সতর্কতা বজায় রেখে চলছেন।

আরেক শীর্ষ নেতা ড. আব্দুল মঈন খানের বর্তমান বয়স ৭৩ বছর। তিনিও দৃশ্যত কর্মসূচিতে সশরীরে পরিবারের চাপে আসতে পারছেন না।

এছাড়া রাজনীতিতে আলোচিত-সমালোচিত নেতা  কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। তিনি এক সময়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রথম সারির নেতা ছিলেন। বয়স বেড়েছে তারও। পা দিয়েছেন ৭৪ বছরে। জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে বিএনপির সংসারে এসে সরব থাকলেও এখন সেই তেজ অনেকটা নিভে গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তরুণদের জন্য বয়স্কদের রাজনীতি ছেড়ে দেয়াই উচিত। তারা বলেন, বিএনপির বয়স্ক রাজনীতিবিদরা আজ নিষ্ক্রিয়। মাঠের রাজনীতিতে তাদের কোনো ভূমিকা দেখা যায় না। লন্ডন বা অন্য কোনো স্থান থেকে আসা হুকুমে পরিচালিত হচ্ছেন তারা।

এমতাবস্থায় তরুণ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি,  দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেয়া নেতাগণ যারা বয়সের ভারে ন্যুব্জ বা অসুস্থতার কারণে বিছানায় পড়ে আছেন,  তারা যেন তাদের পদগুলো তরুণদের জন্যে ছেড়ে দেন।

এ বিষয়ে বিএনপিপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপির বয়স্ক রাজনীতিবিদরা আজ নিষ্ক্রিয়। মাঠের রাজনীতিতে তাদের কোনো ভূমিকা দেখা যায় না। লন্ডন বা অন্য কোনো স্থান থেকে আসা হুকুমে পরিচালিত হচ্ছেন তারা। তাদের নিজেদের মতামতের কোনো মূল্যায়ন নেই। মূলত রাজনীতিতে বয়স্কদের সময় ফুরিয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তরুণদের জন্য বয়স্কদের রাজনীতি ছেড়ে দেয়াই উচিত। কেউ কেউ এরই মধ্যে ছেড়ে দিয়েছেন, তারা দলীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন না। এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/আরএইচ/এইচএন/এসআর