৭৩ এ হেলাল হাফিজ

৭৩ এ হেলাল হাফিজ

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:১৩ ৯ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৫:০৫ ৯ অক্টোবর ২০২১

কবি হেলাল হাফিজ

কবি হেলাল হাফিজ

প্রেম, বিপ্লব আর দ্রোহের কবি হেলাল হাফিজ। ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বড়তলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

বাবা খোরশেদ আলী তালুকদার শিক্ষক ছিলেন। মা কোকিলা বেগম। মাত্র তিন বছর বয়সে মাকে হারান। ছোটোবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি অসম্ভব ঝোঁক ছিলো কবির। খেলেছেন ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, ফুটবল, ভলিবল। এমনকি নেত্রকোনার মতো জায়গায় তিনি লন টেনিসও শিখেছিলেন। কিন্তু বয়স যত বাড়তে থাকলো, মাতৃবিয়োগের বেদনা ধীরে ধীরে তাকে গ্রাস করতে থাকলো। এই বেদনা থেকে মুক্তি পেতেই তিনি ঝুঁকে পড়লেন কবিতায়। একটু মমতা, একটু ভালোবাসার জন্য ছুটেছেন এদিক-সেদিক। পেয়েছেন লাঞ্ছনা, অনাদর; পেয়েছেন ভালোবাসাও। 

১৯৬৭ সালে নেত্রকোনা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে একই বছর কবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন।

ষাটের দশকের উত্তাল সময়ে তার লেখালেখির সূচনা হয়। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় লেখেন ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’। যে কবিতা তাকে কবিখ্যাতি এনে দেয়। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সেই সময়ে কবিতা পাঠের আসর ছাপিয়ে তার কবিতা উচ্চারিত হতে থাকে মিছিলে-স্লোগানে। দেয়ালে দেয়ালে উৎকীর্ণ হতে থাকে।
 
‘এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়/ এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ 

১৯৮৬ সালে প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। এই কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার পর নিজেকে অনেকটা আড়ালে সরিয়ে নেন হেলাল হাফিজ। তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতা ৭১’ প্রকাশিত হয় ২৬ বছর পর, ২০১২ সালে।

হেলাল হাফিজের কবিতায় হেলেন নাম্নী এক নারীর বহুল উপস্থিতি আছে, এই নারীকে কেন্দ্র করে তিনি বেশ কয়েকটি মর্মস্পর্শী কবিতা লিখেছেন। হেলেন ছিলেন তার প্রথম প্রেমিকা এবং হেলেনের ব্যাপারে তিনি অতিমাত্রায় সংবেদনশীলও ছিলেন, হেলেনপ্রসঙ্গ উঠলে তিনি আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে একসময়ে কান্নাকাটিও করতেন। 

হেলাল হাফিজের স্কুলজীবনে হেলেনের সাথে প্রেম হয়, তারা ছিলেন প্রতিবেশী। দীর্ঘ প্রেমের পর দুই পরিবারে ঘটনাটি জানাজানি হয়। হেলেনের বাবা ছিলেন দারোগা আর হেলাল হাফিজের বাবা স্কুলশিক্ষক। হেলাল হাফিজের বাবা দারোগার মেয়ের সাথে ছেলের বিয়ে দিতে চাননি, এ নিয়ে দুই পরিবারে বিরোধ ঘটে এবং হেলাল হাফিজ হেলেনকে বিয়ের ব্যাপারে কথাবার্তা বললে হেলেনও নির্বিকার থাকেন। পরে হেলেনের বিয়ে হয় ঢাকার একটি সিনেমা হলের (সম্ভবত মুন সিনেমা হল) মালিকের সাথে।

হেলেনের বিয়ে হয়ে যাবার পর হেলাল হাফিজ দশ-পনেরো দিন কারো সাথে কোনো ধরনের কথা বলেননি। তার ভাবি তার বিয়ের জন্য তাকে কোনো মেয়ের ছবি দেখালেই তিনি বলতেন, ভাবি, এই মেয়েটা দেখতে ঠিক আমার মায়ের মতো। এর পর তার ভাবি তাকে আর কোনো মেয়ের ছবি দেখাতে সাহস করেননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায় ১৯৭২ সালে সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন দৈনিক পূর্বদেশে। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৬ সালের শেষ দিকে দৈনিক দেশ পত্রিকায় সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে যোগ দান করেন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা দৈনিক যুগান্তরের ফিচার সম্পাদক ছিলেন তিনি। কবিতায় অসামান্য অবদানের স্মারক হিসেবে ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন এ কবি।

এ ছাড়া তিনি পেয়েছেন- যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার (১৯৮৬), আবুল মনসুর আহমদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৭), নেত্রকোনা সাহিত্য পরিষদের কবি খালেকদাদ চৌধুরী পুরস্কার ও সম্মাননা। বাংলাদেশের একজন আধুনিক কবি যিনি স্বল্পপ্রজ হলেও বিংশ শতাব্দীর শেষাংশে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম