সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিন আজ

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিন আজ

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৫১ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

‘কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি/ ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল/ শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে/ তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমী আর এলোনা/ পঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি।’

এই কবিতায় পেয়েছিলেন তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা। কেউ কথা রাখুক আর না রাখুক আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে ঠিক মনে রেখেছে তাঁর পাঠক। জন্ম বাংলাদেশের মাদারীপুরে, ১৯৩৪ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর। আজ তার জন্মদিন।

পরিবারের সঙ্গে চার বছর বয়সেই মাদারীপুর থেকে চলে যান কলকাতায়। তবে বাংলাদেশের প্রতি তাঁর টান ছিল অন্তরের, অনেকবার এসেছেন বাংলাদেশে, স্থান করে নিয়েছেন অগুনতি পাঠকমনের অন্দরে। পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ শুধু নয়, বিশ্বজুড়েই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে একাধারে ঔপন্যাসিক, কবি, গল্পকার, কৃত্তিবাসের সম্পাদক, সাংবাদিক, ভ্রমণ সাহিত্যিক এবং কলাম-লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভক্ত-পাঠক।

লেখকজীবনে নীললোহিত, সনাতন পাঠক ও নীল উপাধ্যায় ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। গতানুগতিকতার বাইরে লেখালেখির কারণে সাহিত্যে স্থায়ী আসন লাভ করেছেন। সুনীল কবিতাবিষয়ক পত্রিকা ‘কৃত্তিবাস’ সম্পাদনা শুরু করেন ১৯৫৩ সালে। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একা এবং কয়েকজন’ ১৯৫৮ সালে আর প্রথম উপন্যাস ‘আত্মপ্রকাশ’ ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয়। সুনীলের অমর কীর্তির মধ্যে রয়েছে ‘অর্ধেক জীবন’, ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’, ‘প্রথম আলো’, ‘সেই সময়’, ‘পূর্ব পশ্চিম’, ‘মনের মানুষ’ প্রভৃতি। লিখেছেন ‘কাকাবাবু’ নামে জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজ।

সাহিত্যের জন্য ১৯৭২ ও ১৯৮৯ সালে আনন্দ পুরস্কার আর ১৯৮৫ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর গল্প, উপন্যাস নিয়ে এমন কিছু চলচ্চিত্র হয়েছে যেসব দর্শকমনে নাড়া দেবে চিরকাল। এর মধ্যে সত্যজিৎ রায়ের ‘অরণ্যের দিনরাত্রি', ‘প্রতিদ্বন্দ্বী',‘মনের মানুষ' অন্যতম।

যিনি লিখেছিলেন, 'এক এক সময় মনে হয়, বেঁচে থেকে আর লাভ নেই/ এক এক সময় মনে হয় / পৃথিবীটাকে দেখে যাবো শেষ পর্যন্ত!/ এক এক সময় মানুষের ওপর রেগে উঠি/ অথচ ভালোবাসা তো কারুকে দিতে হবে/ জন্তু-জানোয়ার গাছপালাদের আমি ওসব/ দিতে পারি না/ এক এক সময় ইচ্ছে হয়/ সব কিছু ভেঙেচুরে লন্ডভন্ড করে ফেলি/ আবার কোনো কোনো বিরল মুহূর্তে/ ইচ্ছে হয় কিছু এককটা তৈরি করে গেলে মন্দ হয় না।'

তাঁর জীবনের শেষ দিন হয়ে থাকল ২৩শে অক্টোবর, মঙ্গলবার, ২০১২। ২২শে অক্টোবর রাত দুটোয় দক্ষিণ কলকাতার নিজ বাসভবনে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম