দ্য প্লেগ (পর্ব ১৭)

দ্য প্লেগ (পর্ব ১৭)

মূলঃ আলবেয়ার কামু 

অনুবাদঃ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫০ ৯ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১২:৫২ ৯ জুলাই ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ফাদার পেনেলাক্স তার দক্ষ বাকচাতুরী ব্যবহার করে নাটকীয়ভাবে বক্তৃতা শুরু করলেন। শুরুতেই তিনি ‘এক্সোডাস’ হতে উদ্ধৃতি দিয়ে মিশরের প্লেগ সম্পর্কে বললেনঃ 

“ইতিহাসে প্লেগের প্রথম আবির্ভাব হয়েছিল শাস্তি হিসেবে। ঈশ্বরের শত্রুদেরকে ধ্বংস করার জন্যে। ফারাও’রা  ঈশ্বরের ইচ্ছার বিরোধিতা করেছিল এবং প্লেগ তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। বলা যায় লিখিত ইতিহাসের শুরু থেকেই ঈশ্বর একে ব্যবহার করেছিলেন অহংকারীদেরকে বিনীত ও শায়েস্তা করার জন্যে। বন্ধুরা, তোমরা এই বিষয়টি নিয়ে অনুধ্যান করো এবং নিজেদের হাঁটুর উপরে উপবিষ্ট হও।’’

এই সময়ে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হলো। ফাদারের কথাগুলো মন্দিরের দেয়ালের উপরে পতিত বৃষ্টির ফোঁটার শব্দের সাথে মিলে প্রবল আতিশয্যের সৃষ্টি করল। এই পরিবেশ প্রার্থনাকারীদের মধ্যে এমন বিশ্বাসের আতিশয্য সৃষ্টি করল যে, মুহূর্তের ইতস্ততার পর কয়েকজন প্রার্থনাকারী আসন থেকে নেমে গেল এবং নিজেদেরকে হাঁটুর উপরে উপবিষ্ট করল। অবশিষ্টরাও অনুভব করল যে, উপবিষ্টদেরকে অনুসরণ করা উচিৎ। ফলে নড়াচড়া বেড়ে গেল এবং গির্জার এক প্রান্ত হতে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত সবাই হাঁটু গেঁড়ে বসল। কিছুক্ষণের মধ্যেই চেয়ারের ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দই শোনা যাচ্ছিল না। এরপর ফাদার পেনেলাক্স সোজা হয়ে দাঁড়ালেন। দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিলেন এবং তার বক্তৃতা শুরু করলেন। তার কন্ঠস্বর ক্রমশ উচ্চকিত হয়ে উঠছিল।           

“আজ যদি প্লেগ এসেই থাকে, তার অর্থ এই যে, তোমাদের সবার জন্যে চিন্তা করার সময় এসেছে। এতে ভালো মানুষদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে পাপী ব্যক্তিদের কম্পিত হবার কারণ রয়েছে। কারণ প্লেগ হলো ঈশ্বরের ঝাড়ু এবং এই দুনিয়া হলো শস্য মাড়াইয়ের খামার। তিনি তার ঝাড়ু দিয়ে শস্যগুলোকে আছড়াতে থাকবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না সেগুলো খড় থেকে সেগুলো আলাদা হয়ে যায়। তোমাদের মধ্যে বেশীরভাগই হবে খড়। শুধুমাত্র অল্প কয়েকজনই তাঁর পছন্দের শস্য হবে।

এই দুর্যোগ ঈশ্বরের ইচ্ছায় আসেনি। দীর্ঘকাল  ধরে এই পৃথিবী খারাপ কাজের ভেতরে নিমজ্জিত ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে মানুষেরা ঈশ্বরের অনুগ্রহ প্রার্থনা করেনি। তাঁর কাছে ক্ষমা চায়নি। তারা ভেবেছে যে, অনুতপ্ত হওয়াই যথেষ্ট। আর কিছুই করার দরকার নেই। নিজেদের কোন আচরণকেই নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। প্রত্যেকেই ভেবেছে যে, যখন শেষদিন আসবে, তখন তারা পাপাচার হতে বিরত হবে ও অনুতপ্ত হবে। সেদিন তারা আত্নসমর্পন করবে এবং ঈশ্বর তাদেরকে মাফ করে দেবেন। দীর্ঘ সময় ধরে ঈশ্বর এই শহরের উপরে অনুকম্পার দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন। কিন্তু অপেক্ষা করতে করতে এক সময়ে উদ্বিগ্ন হয়ে গিয়েছিলেন। শেষে আশাহত হয়ে তিনি আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ফলে তাঁর আলো সরে গেছে এবং আমরা অন্ধকারের ভেতরে হাঁটছি। প্লেগের গভীর অন্ধকারের ভেতরে।’’          

প্রার্থনা সভার ভেতর থেকে কেউ একজন হাঁচি দিলো। অস্থির ঘোড়ার মতো। ফাদার একটু নীরবতার পর পুনরায়  নিম্নস্বরে বলা শুরু করলেনঃ 

“আমরা পুরাণে পড়েছি যে, রাজা উম্বের্তোর সময়ে ইটালিতে প্লেগের প্রাদুর্ভাব হয়েছিল। সেখানে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল রোম ও পেভিয়া। এই প্লেগ এতটাই সর্বনাশা ছিল যে, মৃতদেরকে কবর দেয়ার জন্যেও মানুষের অভাব হয়েছিল। এই সময়ে মানুষেরা দেখতে পেয়েছিল দুইজন দেবদূতকে। একজন ভালো দেবদূত ও একজন খারাপ দেবদূত। ভালো দেবদূতটি খারাপ দেবদূতকে নির্দেশ দিচ্ছিলেন মানূষের বাড়ির উপরে আঘাত করার জন্যে। খারাপ দেবদূতটি একটা শিকারের বর্শা বহন করছিলেন।এই বর্শা দিয়ে একটা বাড়িতে তিনি যতবার আঘাত করতেন, সেই বাড়িতে ততজন মানুষ মারা যেত।’’      

পেনেলাক্স তার দুই বাহু বারান্দার দিকে বাড়িয়ে দিলেন। মনে হচ্ছিল তিনি বৃষ্টির পর্দার পেছনে কাউকে লক্ষ্য করে নির্দেশ দিচ্ছেন। 
“আমার ভাইয়েরা,” তিনি চিৎকার করে বললেন, “ঈশ্বরের শিকার যজ্ঞ শুরু হয়ে গেছে। শিকারী দ্রুত আমাদের রাস্তার  দিকে এগিয়ে আসছে। তার সাথে মহামারীর দেবদূত আছেন। তিনি দেখতে লুসিফারের মতো সুন্দর, তবে  জলন্ত শিখার মতো অগ্নিময়। ডানহাতে বর্শা নিয়ে তিনি তোমাদের ছাদের উপরে উড়ে উড়ে ঘুরছেন। পাপাত্নাদেরকে  আঘাত করার জন্যে। তার বাম হাত তোমাদের কারও বাসস্থানের দিকে প্রসারিত। হয়ত বা এই মুহূর্তে তার আঙুল তোমার দরজার দিকেই তাক করা।  তার সেই লাল বর্শা  কপাট ভাঙছে। এখনই প্লেগ তোমার ঘরে ঢুকে তোমার শোবার ঘর দখল করবে। তারপর তোমার ফিরে আসার অপেক্ষা করবে। ধৈর্যশীল, সতর্ক ও অনিবার্য তার কার্যক্রম। পৃথিবীর বা বিজ্ঞানের কোন শক্তিই নেই তাকে প্রতিহত করার, যখন তিনি তোমার দিকে হাত বাড়িয়ে দেবেন।  রক্তাক্ত শস্য মাড়াইয়ের উঠোনে তুষের মতো ভুগতে ভুগতে তুমি বিলীন হয়ে যাবে। খড়ের সাথে।’’

এই সময়ে ফাদার পুনরায় উচ্চকিত হলেন এবং বাগ্মিতার পূর্বরূপে ফিরে গেলেন। তিনি শ্রোতাদেরকে কল্পনা করতে বললেন বিশাল একটি কাঠের দন্ডকে। দন্ডটি শহরের উপর দিয়ে উড়ছে। সামনে যাদেরকে পাচ্ছে তাদেরকেই  এলোমেলোভাবে আঘাত করছে। মানুষেরা রক্তের প্লাবনের ভেতরে দুলছে। পৃথিবীর বুকে ধ্বংস ও কষ্ট ছড়াচ্ছে। ঠিক যেমন বীজবপনের সময় যেভাবে জমিকে ফসলের জন্যে প্রস্তুত করা হয়। 

তার বিশাল বাক্য শেষ করার পর ফাদার পেনেলাক্স একটু থামলেন। চুলগুলো তার কপালের উপরে উড়ছিল। অগোছালোভাবে। প্রচারবেদীর উপরে বাহুর কম্পনের সাথে সাথে তার শরীরও কাঁপছিল। তিনি পুনরায় কথা শুরু করলেন। এবারে কিছুটা নিম্নস্বরে। কিন্তু কথাগুলো পূর্বের মতোই অভিযোগে পরিপূর্ণ। 

“হ্যা, গভীর চিন্তা করার সময় এসেছে। তোমরা সবাই ভেবেছিলে যে, শুধুমাত্র রবিবারে ঈশ্বরের ঘরে আগমন করাই যথেষ্ট। সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলো তোমরা মুক্তভাবে জীবনযাপন করবে। তোমরা বিশ্বাস করেছিলে সংক্ষিপ্ত আরাধনায়, যেখানে তোমরা হাঁটু ভাঁজ করবে এবং ঈশ্বর তোমাদের সকল পাপকে ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু ঈশ্বর তো উপহাসের পাত্র নন। এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতগুলো তার ভালোবাসার ক্ষুধা মিটানোর জন্যে যথেষ্ট নয়। তিনি তোমাদেরকে অধিক সময়ের জন্যে ও আরও বেশী সংখ্যকবার তার ঘরে দেখতে চান। এটাই তার ভালোবাসার আসল ও একমাত্র রূপ। সেকারণেই তিনি অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গিয়ে তোমাদের উপরে তার এই  দৈবানুগ্রহ বর্ষন করেছেন। শুধুমাত্র তোমাদের উপরে নয়। ইতিহাসের শুরু হতেই তিনি সকল শহরের উপরেই তিনি তাঁর শাস্তি বর্ষন করেছিলেন, যারা তার সাথে সঠিক আচরণ করেনি। এখন তোমরা যে শিক্ষার সম্মুখীন হয়েছ, একই  শিক্ষা তিনি দিয়েছিলেন কাবিল ও তার সন্তানসন্ততিদেরকে। সডোম ও গোমোরাহ নগরীর মানুষদেরকে। ফেরাউনদেরকে, এবং যারা তাকে অমান্য করেছিল তাদের সবাইকে। সেকারণেই শহরের দরজা বন্ধ হয়ে যাবার পর থেকে তোমরাও মানবজাতি ও সৃষ্টিকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে পাচ্ছ। এখন তোমরা জানো যে, তোমাদের চিন্তা পরিবর্তন করার সময় হয়েছে।’’

গির্জার উপর দিয়ে একটা ভেজা বায়ু প্রবাহিত হচ্ছিল। সেই বাতাসে মোমবাতির শিখাগুলো বেঁকে গিয়ে মিটমিট করে জ্বলছিল। 

পুড়ে যাওয়া মোমবাতির গন্ধ, কাশি ও হাঁচির শব্দ ফাদার পেনেলাক্সের দিকে এগিয়ে আসছিল। তিনি শান্তভাবে পুনরায় তার বক্তৃতায় ফিরে গেলেনঃ

“তোমাদের অনেকেই হয়ত ভাবছ, আমি কোনদিকে যাচ্ছি। আমি তোমাদেরকে সত্যের পথে চালিত করতে চাই।  শিক্ষা দিতে চাই কীভাবে আনন্দিত থাকতে হয়। হ্যা, আমি যা কিছু এতক্ষণ বলেছি, তা সত্ত্বেও আমি তাই চাই। 

আমি জানি এই সময়ে আমার সাহায্যের হাত এবং ভালো উপদেশ তোমাদেরকে সত্য ও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে  পারে। আজকের দিনে সত্য হলো একটা নির্দেশ। সেটা হলো লাল বর্শা, যা কঠিনভাবে একটি সরু পথকে নির্দেশ করছে। এটাই মুক্তির পথ। ভাইয়েরা আমার, শেষ পর্যন্ত তোমাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হয়েছে। এই সত্য হলো  যে, ঈশ্বর প্রতিটি জিনিসের ভেতরেই ভালো-মন্দ, রাগ ও অনুগ্রহ, প্লেগ ও মুক্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। যে মহামারী তোমাদের প্রাণনাশের কারণ হচ্ছে, সেই মহামারীই তোমাদেরকে তোমাদের সৎ পথে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।

অনেক শতাব্দী পূর্বে আবিসিনিয়ার খৃষ্টানেরা প্লেগকে ঈশ্বর-প্রদত্ত উপহার হিসেবে মনে করত। এর মধ্য দিয়ে তারা নিশ্চিত চিরন্তন জীবন লাভ করত। যারা প্লেগ দ্বারা আক্রান্ত হতো না, তারা প্লেগে মৃত্যুবরণ করা মানুষের জামাকাপড়ে নিজেদেরকে আবৃত করে রাখত। যাতে তাদের মৃত্যু হয়।

মুক্তির জন্যে এই ধরণের পাগলামীপূর্ণ কাণ্ডকারখানা আমি প্রশংসা করি না। এর মধ্যে তাড়াহুড়া ও হঠকারিতা  করার বিষয় রয়েছে, যা মানা যায় না। কোন মানুষেরই উচিৎ নয় স্রষ্টাকে বাধ্য করে তার মৃত্যুর জন্যে নির্ধারিত ক্ষণকে পরিবর্তন করা।  তারপরেও  আবিসিনিয়ান খৃস্টানদের কাছ থেকে উদাহরনযোগ্য একটা শিক্ষা পাই। এই শিক্ষা অতি উৎসাহ ও আতিশয্যপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আমাদেরকে চিরন্তন জীবনের শাশ্বত আলোকবর্তিকার সন্ধান দেয়।  দুঃখকষ্টের মধ্যেও। এই আলোকবর্তিকা মুক্তির পথে আমাদের ছায়াচ্ছন্ন পথকে আলোকিত করে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছাকেই প্রকাশিত করে। এই আলোই আমাদেরকে অন্ধকার উপত্যকার ভয় ও আর্তনাদকে ডিঙ্গিয়ে পবিত্র নির্জনতার দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম এবং এটাই সকল জীবনের উৎসস্থল। বন্ধুরা, এটা আমার জন্যে বড়ো সান্ত্বনা যে, তোমরা ঈশ্বরের ঘর ছেড়ে চলে যাবার সময়ে শুধুমাত্র ক্রোধের কথা বয়ে নিয়ে যাবে না। তোমরা সেই বার্তাও বয়ে নিয়ে যাচ্ছ, তোমাদের আত্নাকে শান্তি দেবে।’’

এরপর প্রত্যেকেই ধরে নিল যে, ফাদারের ধর্মোপদেশ সমাপ্ত হয়েছে। বাইরে তখন বৃষ্টি থেমে গিয়েছিল এবং জলভরা সূর্যের আলোতে গির্জার মাঠটি হলুদ হয়ে ছিল। রাস্তাগুলো থেকে মানুষের অস্পষ্ট কন্ঠস্বর ভেসে আসছিল।  ট্রাফিকের গুঞ্জন ও শহরের জেগে উঠার শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু ফাদারের কথা তখনও শেষ হয়নি। তিনি বললেন যে, যদিও প্লেগ শহরের নাগরিকদের পাপের কারণেই এসেছে এবং যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্ধার পাওয়ার কোনো আশা নেই, তবুও তিনি আশা করেন যে, এখন সবাই তাদের অবস্থান বুঝতে পারছে। সত্যের আলোতে।  তবে মঞ্চ ত্যাগ করার আগে তিনি মার্সেলিতে অনেক আগে ঘটে যাওয়া ‘ব্ল্যাক ডেথ’ সম্পর্কিত কাহিনীটি তাদেরকে পুনর্বার  মনে করিয়ে দিতে চান। এই কাহিনীর গল্পকার ম্যাথিউ মরিস কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল যে, তাকে নরকের ভেতরে নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং সেখান থেকে তার উদ্ধার পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। কিন্তু  ফাদার পেনেলক্স তা মনে করে না। তিনি আশা করেন যে, বর্তমানের এই সকল অন্ধকার দিনের আশাহীনতা ও ভয়াবহতা সত্ত্বেও শহরের সকল নাগরিকদের উচিৎ প্রকৃত খৃষ্টান হিসেবে ঈশ্বরের প্রার্থনা করা এবং তাঁর হাতে নিজেদেরকে সম্পূর্ণভাবে সমর্পন করা। ঈশ্বরই ভালো জানেন তাকে কী করতে হবে। 

এই সম্মিলিত প্রার্থনা শহরের মানুষদের উপরে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছিল তা বলা কঠিন। ম্যাজিস্ট্রেট মিঃ ওথোন রিও’কে নিশ্চিত করেছিল যে, ফাদার পেনেলক্সের বক্তব্য তর্কাতীতভাবে সত্য। তবে সবাই বিষয়টাকে এভাবে গ্রহণ করেনি। কেউ কেউ ধরে নিয়েছিল যে, এই ধর্মোপদেশের মধ্য দিয়ে তাদের চূড়ান্ত বিচার হয়ে গেছে  এবং একটা অজানা পাপের কারণে তাদেরকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্যে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। আবার বেশকিছু সংখ্যক মানুষ নিজেদেরকে বন্দিজীবনের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছিল এবং পূর্বের মতো নীরস জীবন যাপন শুরু করেছিল। আবার কিছু সংখ্যক মানুষ বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল। তারা চেষ্টা করেছিল তাদের বন্দী-বাসস্থান ও শহর  হতে অন্য কোথাও চলে যেতে। বাইরের পৃথিবী হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটিকে প্রাথমিক পর্যায়ে সবাই সাময়িক অসুবিধা বলে ভেবেছিল। কিন্তু এখন তারা হঠাত করে শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছিল যে,  তাদের এই কারাবাস ক্রমশ গ্রীষ্মের উষ্ণ বাতাসের মতো অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তাদের ভেতরে একটা অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল যে, সংঘটিত ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে তাদের পুরো জীবন বিপদের মুখে পতিত হয়েছে। বিকেলের সময়ে অপেক্ষাকৃত শীতল বাতাসে যখন তারা তাদের শক্তি ফিরে পেত, ক্রিমিনালদের মতো বন্দী থাকার বিষয়টি কখনও কখনও তাদেরকে বোকাদের মতো কাজ করতে প্রলুব্ধ করত।           

বিষয়টি কাকতালীয় হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে। তবে রবিবারের সেই ধর্মাপদেশের পর শহরের ভেতরে ভীতি ছড়িয়ে গিয়েছিল এবং এই বোধের আতিশয্য এতোটাই তীব্র হয়েছিল যে, সবাই ভাবতে শুরু করেছিল এই পরিস্থিতি হতে তাদের আর উদ্ধার হবে না। কোনদিনই। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে বলা যায় যে, শহরের পরিস্থিতি আসলেই বদলে গিয়েছিল। তবে এই বদল প্রকৃতিতে, নাকি শহরের মানুষদের মনের ভেতরে ঘটেছিল,  তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

দ্য প্লেগ (প্রথম পর্ব)

দ্য প্লেগ (দ্বিতীয় পর্ব)

দ্য প্লেগ (তৃতীয় পর্ব)

দ্য প্লেগ (চতুর্থ পর্ব)

দ্য প্লেগ (পঞ্চম পর্ব)

দ্য প্লেগ (ষষ্ঠ পর্ব)

দ্য প্লেগ (সপ্তম পর্ব)

দ্য প্লেগ (অষ্টম পর্ব)

দ্য প্লেগ (নবম পর্ব)

দ্য প্লেগ (দশম পর্ব)

দ্য প্লেগ (একাদশ পর্ব)

দ্য প্লেগ (দ্বাদশ পর্ব)

দ্য প্লেগ ( ত্রয়োদশ পর্ব)

দ্য প্লেগ ( চতুর্দশ পর্ব)

দ্য প্লেগ (পঞ্চদশ পর্ব)

দ্য প্লেগ (ষোড়শ পর্ব)

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ