দ্য প্লেগ (চতুর্থ পর্ব)

দ্য প্লেগ (চতুর্থ পর্ব)

মূলঃ  আলবেয়ার কামু

অনুবাদঃ মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫৯ ২৫ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৩:২২ ৬ মে ২০২১

ফরাসি সাহিত্যিক আলবেয়ার কামু

ফরাসি সাহিত্যিক আলবেয়ার কামু

দুপুরে ডাক্তার রিও এপার্টমেন্টের নীচে কার পার্কিং করছিল। তখন দারোয়ানকে দেখা গেলো রাস্তার দিক হতে  আসছে। টেনে টেনে হাঁটছিল সে। মাথা নীচু করে। তার দুই বাহু ও দুই পা তেরসাভাবে পড়ছিল। যেমন করে ঘড়িচালিত পুতুল নড়াচড়া করে থাকে। সে একজন পাদ্রীর বাহুর উপরে ভর করে এগোচ্ছিল। এই পাদ্রীকে রিও চেনে। তিনি ফাদার প্যানেলো। একজন শিক্ষিত ও স্বাধীনচেতা পাদ্রী। ইতিপূর্বে তার সঙ্গে রিও’র কয়েকটা অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎ হয়েছে। তাকে  শহরে খুবই গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে ধর্মীয় অঙ্গনের বাইরেও। রিও কাছে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করল। মিশেলের চোখ লালরঙ ধারণ করেছিল এবং সে শব্দ করে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছিল। মিশেল জানালো যে, সে একটু খারাপবোধ করার কারণে বাইরে হাওয়া খেতে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাত  করে তার সমস্ত শরীরে ব্যাথা শুরু হয়ে যায়। বিশেষ করে পায়ে, বগলে ও কটিসন্ধিতে। ফলে তাকে ফিরে আসতে হয়েছে ফাদার প্যানেলো’র সাহায্য নিয়ে।

“ওটা ফুলে গিয়েছে,” সে বলল। “সম্ভবত আমি শক্ত করে চাপ দিয়েছিলাম।’’

গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বের করে রিও মিশেলের কাঁধের উপরে রাখল। সেখানে একটা শক্ত মাংশপিন্ড ছিল। গাছের কাঠের গিটের মতো।

“তুমি তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে গিয়ে শুয়ে থাকো এবং শরীরের তাপমাত্রা লিখে রাখো।আমি বিকেলে এসে তোমাকে দেখব।“
মিশেল চলে যাওয়ার পর রিও ফাদারকে ইঁদুরদের সম্পর্কিত এই অদ্ভুত ব্যাপার নিয়ে তিনি কি ভাবেন।

“সম্ভবত মহামারী।’’ ফাদারের চোখগুলো বড় গোল চশমার পেছন থেকে মৃদু হাসছিল।

দুপুরের লাঞ্চের রিও স্ত্রীর কাছ থেকে দ্বিতীয় টেলিগ্রাম পেল। স্বাস্থ্যনিবাস থেকে ফিরে আসছে বলে জানিয়েছে। একই সময়ে একটা ফোন আসল এক সাবেক রোগীর কাছ থেকে। মিউনিসিপ্যাল অফিসের কেরানী। বহুবছর যাবত সে হৃদরোগে ভুগছিল। গরীব হবার কারণে রিও তাকে ফ্রি চিকিৎসা দিয়েছিল।

“ধন্যবাদ ডাক্তার, আমাকে চিনতে পারার জন্যে। তবে আজ আমি নিজের জন্যে রিং করিনি। আমার পাশের বাসায়  একলোক দুর্ঘটনায় পড়েছে। আপনি কি তাড়াতাড়ি তাকে দেখতে আসতে পারবেন?”

লোকটির কন্ঠস্বর থেকে রিও’র মনে হচ্ছিল সে শ্বাস নিতে পারছে না। দ্রুত সে ভাবল যে, দারোয়ানকে পরে দেখতে যাবে।  
কয়েক মিনিট পরে রিও শহরের প্রান্তে অবস্থিত একটা বাসায় প্রবেশ করল। দুর্গন্ধময় সিঁড়ি বেয়ে অর্ধেকপথ উঠতেই সে জোসেফ গ্র্যান্ডকে দেখতে পেল। এ হলো সেই করনিক। সে ছুটে আসল। বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। লম্বা হবার কারণে শরীরের সামনের দিকটা একটু ঝোলানো। সরু কাঁধ, চিকন বাহু ও এবং হলুদাভ গোঁফের অধিকারী সে।

“এখন কিছুটা ভাল বলে মনে হচ্ছে,” সে রিও’কে বলল। ” তবে আমি সত্যিই ভেবেছিলাম যে, তার সময় শেষ হয়ে গেছে।“ কথা বলার সময়ে গ্র্যান্ড নাক দিয়ে জোরে জোরে শব্দ করছিল।

উপরের তলায় উঠার পর রিও লক্ষ্য করল বামদিকের দেয়ালে লাল চক দিয়ে লেখা, “ভেতরে আসুন। আমি ফাঁসি দিয়েছি।’’

ঘরে প্রবেশ করার পর রিও দেখতে পেল একটা রশি ঝুলে আছে। উপরের একটা ঝুলন্ত বাতি হতে। পাশেই একটা চেয়ার পড়ে আছে। ডাইনিং টেবিলটাকে ধাক্কা দিয়ে রুমের কোণার দিকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তবে  রশিতে কিছুই বাঁধা নেই।

“আমি ঠিকসময়ে তাকে নামাতে পেরেছিলাম।“ গ্র্যান্ডকে মনে হচ্ছিল সে কি বলবে তা বুঝে উঠতে পারছে না। যদিও সে সরলভাবেই তার কথাগুলো বলছিল।

“বের হয়ে যাবার সময়ে আমি শব্দটা শুনেছিলাম। দেয়ালের লেখাটিকে আমি প্রথমে কৌতুক বলে ভাবলেও পরমুহুর্তেই গোঙানির শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম এবং আমার রক্ত শীতল হয়ে গিয়েছিল।’’

এইটুকু বলে সে মাথা চুলকিয়ে বলল, “তারপর আমি দ্রুত ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেছিলাম।’’

গ্র্যান্ড দরজা খুলতেই তারা দুজনে উজ্জল অথচ কম আসবাবপত্রের একটি বেডরুম দেখতে পেল। রুমের ভেতরে একটা তামার তৈরী খাট ছিল। দেয়ালের পাশে। খাটটিতে মোটা অথচ ক্ষুদ্রাকার এক লোক শুয়েছিল। সে খুব জোরে জোরে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছিল। লোকটি আরক্ত চোখে তাকাল। রিও হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে গেল। লোকটার শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যবর্তী সময়ে তার মনে হল সে ইঁদুরের কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পাচ্ছে। কিন্তু ঘরের ভেতরে বা কোণায় কোনকিছুকেই নড়াচড়া করতে না দেখে সে বিছানার পাশে গেল। লোকটি খুব উপর থেকে পড়েনি। ফলে কলারবোন ভাঙেনি। শুধুমাত্র প্রাকৃতিক কারণেই হয়ত বা তার শ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। একটা এক্সরে ছবি দরকার হবে নিশ্চিত করার জন্যে। রিও তাকে একটা camphor ইনজেকশন দিয়ে নিশ্চিত করল যে, কয়েকদিনেই সে সম্পূর্ণ ঠিক হয়ে যাবে।

“ধন্যবাদ, ডাক্তার,” লোকটি বিড়বিড় করে বলল। 

রিও গ্র্যান্ডকে জিজ্ঞেস করল যে, বিষয়টা পুলিশকে সে জানিয়েছে কিনা। সে বললো যে, জানায়নি।

“ঠিক আছে। আমি বিষয়টা দেখছি,” রিও বলল।

কিন্তু লোকটি প্রবল রকমের মেজাজ খারাপ করে বিছানায় উঠে বসল। বললো যে, সে ভাল আছে এবং  পুলিশকে  জানানোর কোন প্রয়োজন নেই।

“ভয় পেয়ো না, এটা ফরমালিটি মাত্র। এধরণের বিষয় পুলিশকে জানাতেই হবে,“ রিও বলল।

লোকটি গা ছেড়ে দিয়ে বিছানার উপরে শুয়ে পড়ল এবং কাঁদতে শুরু করলো। গ্র্যান্ড তার বিছানার পাশে গিয়ে বললো, “কটার্ড, বুঝতে চেষ্টা কর। পুলিশকে না জানালে লোকজন ডাক্তারকে দোষী ভাবতে পারে।”

কিন্তু কটার্ড তাকে আশ্বস্থ করল যে, এরকম কিছু হবার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। পাগলের মতো মানসিক অবস্থায় সে ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকলেও এখন সে সম্পূর্ণ ঠিক আছে। এ বিষয়ে আর কোন ধরণের ঝামেলায় সে  জড়াতে চায় না।

রিও প্রেসক্রিপশন লিখল এবং বলল, “ঠিক আছে, এ বিষয়ে আমরা আর কথা বলব না। আমি দুই-এক দিনের মধ্যেই পুনরায় তোমাকে দেখে যাব। তবে বোকার মতো আর কোন কাজ করো না।’’

সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়ে সে গ্র্যান্ডকে জানাল যে, পুলিশকে তার জানাতেই হবে। তবে সে পুলিশ ইন্সপেক্টরকে  কয়েকদিনের জন্যে তদন্ত স্থগিত রাখতে অনুরোধ করতে পারে।

“আজ রাতে কেউ একজন কটার্ডকে পাহারা দেয়া উচিৎ,” সে যোগ করল। 
“তার কি কোন নিকটাত্নীয় আছে?” 

“আমি জানি না। তবে আমি তার সাথে থাকতে পারি। আমি তাকে ভালোভাবে চিনি না। তবে বিপদের সময়ে পড়শি হিসেবে আমি তো সাহায্য করতে এগিয়ে আসতেই পারি। তাই নয় কি?”

সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়ে রিও খেয়াল করল যে, গ্র্যান্ড বাসার অন্ধকার কোণের দিকে তাকাচ্ছে। রিও জিজ্ঞেস করলো শহরের এই অংশ হতে ইঁদুরেরা চলে গেছে কিনা। গ্র্যান্ডের এসম্পর্কে কোন ধারণাই ছিল না।কারণ ইঁদুর নিয়ে কিছূ আলাপচারিতা শুনলেও কখনই সেগুলোতে মনযোগ দেয়নি।

“আমি অন্য অনেক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকি,” সে যোগ করল।

রিও’র তাড়া ছিল। ফিরে যাবার পর স্ত্রীর কাছে একটা চিঠি লিখতে হবে। এছাড়াও মিশেলকে দেখতে যেতে হবে। অবাক করার মতো ব্যাপার হলো যে, শহরের বুকে যে হকাররা ইঁদুর সম্পর্কিত সর্বশেষ খবর নিয়ে চিৎকার করতো, তারা আকস্মিকভাবে অদৃশ্য হয়ে গেল। 
ফিরে আসার পর  মিশেলকে দেখতে পেল বিছানার প্রান্তদেশের সাথে হেলান দিয়ে এক হাতে পেট চেপে ধরে আছে। অন্যহাতে নিজের ঘাড় ধরে আছে। তার মুখ থেকে গোলাপী পাচক রস পড়ছিল। রান্নাঘরের বালতির ভেতরে কিছুক্ষণ বমি করার পর সে পুনরায় শুয়ে পড়ল। শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রি। তার ঘাড় ও অঙ্গসমূহের স্নায়ুগ্রন্থিগুলো ফুলে উঠেছিল দুই ঊরুর উপরে দুটো কাল দাগ দেখা যাচ্ছিল। সে শরীরের ভেতরের ব্যাথার কথা বলল।

“আগুনের মত ব্যাথা,” ফিসফিস করে বলল। “আমাকে ভেতর থেকে পুড়িয়ে দিচ্ছে।’’

জ্বরাক্রান্ত মুখ দিয়ে তার কথা বলতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল। ফুলে উঠা চোখ দিয়ে সে ডাক্তারের দিকে তাকাচ্ছিল। প্রচন্ড মাথাব্যাথার কারণে তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। তার স্ত্রী উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে রিও’র দিকে তাকিয়েছিল। কিন্তু রিও কিছুই বলল না।

“প্লিজ, ডাক্তার, কি হয়েছে ওর?”

“অনেক কিছুই হতে পারে। এখনো নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। ওকে হালকা ধরণের খাবার দেবেন এবং প্রচুর তরল দেবেন পান করতে।“ মিশেল খুবই তৃষ্ণা পাচ্ছে বলে অভিযোগ করছিল। 

এপার্টমেন্টে ফেরার পর রিও তার সহকর্মী রিচার্ডকে রিং দিল। সে শহরের প্রথম সারির একজন ডাক্তার।

“না,” রিচার্ড বলল, “আমি এখন পর্যন্ত অস্বাভাবিক ধরণের কিছু দেখিনি। এটা কি জ্বরের সাথে লোকাল ইনফ্ল্যামেশন হতে পারে? অপেক্ষা কর। আমার কাছে স্নায়ুগ্রন্থি ফুলে যাওয়ার দুটো কেইস এসেছে।’’

“সেগুলো কি অস্বাভাবিক?”

“নির্ভর করে অস্বাভাবিক বলতে তুমি কি বোঝ।’’

সে রাতে মিশেলের শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রীতে উঠল। সে প্রলাপ বকতে শুরু করল। প্রলাপের ভেতরে সে বিড়বিড় করে বলতে লাগল, “সেই ইঁদুরগুলো”। রিও মিশেলের একটা জমাট বাঁধা ফোঁড়াকে সার্জারি করে ঠিক করার  চেষ্টা করল। কিন্তু যখনই মিশেল তার্পিন তেলের উষ্ণতা অনুভব করল, সাথে সাথে চিৎকার করে উঠল বাস্টার্ড বলে। তার স্নায়ুসন্ধিগুলো আরও ফুলে উঠেছে। সেগুলোকে মনে হচ্ছিল মাংশের উপরে কঠিন আঁশ জাতীয় পদার্থ। মিশেল সম্পূর্ণ রুপে ভেঙ্গে পড়েছিল। 

“তার সাথে থাকুন।প্রয়োজন হলে আমাকে ডাকবেন,“ রিও তার স্ত্রীকে বলল।

পরেরদিন, ৩০ এপ্রিল। সেদিন আকাশের রঙ ছিল নীল এবং কিছুটা কুয়াশাচ্ছন্ন। উষ্ণ মৃদু বায়ু প্রবাহিত হচ্ছিল। বাতাসের সাথে প্রান্তবর্তী উপশহর থেকে ভেসে আসছিল ফুলের গন্ধ। রাস্তার উপরে সকালের কোলাহল উচ্চকিত হচ্ছিল। আমাদের ক্ষুদ্র শহরের প্রত্যেকের জন্যে এই দিনটি একটি নতুন প্রত্যাশা নিয়ে আবির্ভূত হচ্ছিল। নতুন কোন জীবনের হাতছানি। ঠিক যেন, যে আতঙ্কের ছায়ার নীচে আমরা এতদিন বাস করছিলাম, তা হঠাৎ করে সরে গেছে। রিও নিজেও খোশমেজাজে ছিল। তার স্ত্রীর কাছ থেকে আসা চিঠি তাকে আনন্দিত করেছে।

মিশেলের শরীরের তাপমাত্রা ৯৯ ডিগ্রিতে নেমে গিয়েছিল। যদিও সে দুর্বল, তথাপি সে মৃদু হাসছিল। 

“সে এখন ভাল আছে, তাই না ডাক্তার?” তার স্ত্রী জিজ্ঞেস করল।
“আগে থেকে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়,“ রিও উত্তর করল। 

দুপুরের দিকে মিশেলের দেহের তাপমাত্রা হঠাৎ করে ১০৪ ডিগ্রীতে উঠে গেল। সারাক্ষণ প্রলাপ বকতে লাগল।    বমি করা শুরু করল আবার। তার ঘাড়ের স্নায়ুগ্রন্থিগুলো স্পর্শ করলেই প্রবল ব্যাথায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল, সে নিজের মাথাকে শরীর হতে পৃথক করে স্থির করতে চাচ্ছিল। তার স্ত্রী বিছানার পায়ের দিকে বসেছিল।  হাত বিছানার উপরে রেখে। আলতোভাবে সে স্বামীর পা স্পর্শ করে ছিল। জিজ্ঞাসার দৃষ্টিতে সে রিও’র দিকে তাকাল। 

“শুনুন,” সে বলল, “তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে এবং বিশেষ চিকিৎসা দিতে হবে। আমি এম্বুলেন্সের জন্যে ফোন করছি।“
দুই ঘন্টা পর রিও এবং মিসেস মিশেল এ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে রোগীর উপরে ঝুঁকেছিল। মিশেলের খুলে থাকা মুখ থেকে অসংলগ্ন কথাবার্তা বের হচ্ছিল। মুখটি ঢেকে গিয়েছিল কালশিটে ঘা দিয়ে। সে পুনরাবৃত্তি করছিল, ” সেই ইঁদুরগুলো! সেই মৃত ইঁদুরগুলো!”
তার ফ্যাকাসে মুখ ধূসর সবুজাভ হয়ে গিয়েছিল। ঠোঁটগুলো ছিল রক্তশূন্য। অকস্মাৎ সে হাঁপাচ্ছিল। অবশেষে অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো স্নায়ুসন্ধি ফুলে উঠার কারণে বড় আকারের হয়ে গেল। মনে হলো এ্যাম্বুলেন্সের বার্থের ভেতরেই সে নিজেকে কবর দেয়ার চেষ্টা করছে, অথবা পৃথিবীর অন্তঃস্থল থেকে কেউ তাকে ডাকছে। অদেখা কোন চাপের কাছে সে খাবি খাচ্ছে সে বার বার। তার স্ত্রী কাঁদতে শুরু করলো। 

“আর কি কোন আশা নেই, ডাক্তার?”

“সে মারা গেছে,” রিও বলল।

মিশেলের মৃত্যুকে বলা যেতে পারে এই হতবুদ্ধিকর ঘটনার প্রথম পর্বের সমাপ্তি ও পরবর্তী পর্বের শুরু। সেটা পূর্বেরটার চেয়ে অধিকতর কঠিন হবে। প্রাথমিক সময়ের হতবুদ্ধিতা ক্রমশ তখন রূপ নেবে আতংকে। 

পরবর্তী ঘটনা সমূহের সাপেক্ষে প্রথম পর্বকে বিশ্লেষণ করার পর নগরের জনগণ একটা বিষয়ে উপলব্ধি করতে সক্ষম হল। তা হল এমন একটা অদ্ভুত বিষয় ঘটানোর জন্যে স্রষ্টা যে তাদের শহরকে যে বেছে নেবেন, এটা তারা স্বপ্নেও চিন্তা করতে পারেনি। দিনের উজ্জ্বল আলোতে ইঁদুর বা অদ্ভুত বিদেশী রোগে প্রহরী মরে যাবে এই ধরণের ঘটনা তারা ঘুনাক্ষুরেও ভাবতে পারেনি। তারা বুঝতে পারলো যে, এটা তাদের মস্ত একটা ভুল ছিল। তারপরেও খুব বেশী কিছু যদি না ঘটত, তবে হয়ত তারা সামলে উঠতে পারত। অভ্যাসগত কারণেই। কিন্তু সমাজের অন্যান্যরাও (শুধুমাত্র শ্রমিক বা গরীবরা নয়) যখন মিঃ মিশেলের পথ অনুসরণ করতে লাগল, তখন আসলেই তা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করল। তবে পরবর্তী পর্বের বিস্তারিত আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে বর্ণনাকারী পূর্ববর্তী পর্বের আরও একজন প্রত্যক্ষদর্শীর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে ইচ্ছুক।

দ্য প্লেগ (প্রথম পর্ব)

দ্য প্লেগ (দ্বিতীয় পর্ব)

দ্য প্লেগ (তৃতীয় পর্ব)

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ