পাষাণ

পাষাণ

মুহাম্মদ মনিরুল হক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:২১ ১৬ এপ্রিল ২০২১  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নির্দিষ্ট বিরতিতে পাখিটা ডেকেই যাচ্ছে। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে শব্দটা সরাসরি ব্রেনে আঘাত করছে। ডাক শোনে মনে হচ্ছে চড়ুই পাখি। 

ঢাকা পাখির শহর না মানুষের শহর। ঈদের ছুটিতে এখন ঢাকা প্রায় জনশূন্য। নাড়ির টানে নগরবাসী ঢাকা ছেড়েছে। আমার মধ্যে নাড়ির টান বিষয়ক কিছু নেই। দরিদ্রতার কারণে হয়ত এমনটা হয়েছে। আমার জায়গায় কাজী নজরুল ইসলাম থাকলে হয়ত লিখতেন- ‘হে দারিদ্র তুমি মোরে করেছ পাষাণ’।

আচ্ছা কাজী নজরুল ইসলামের কাছে যদি তার ছোট বোন যার বয়স চার, একজোড় লাল জুতার জন্য আবদার করত তিনি কি করতেন। অবশ্যই তিনি ছোট্ট খুকির আবদার রক্ষার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠতেন। আমার এমন কিছু হচ্ছে না।

রুনির আবদার ছিল এইবার ঈদে অবশ্যই তার লাল জুতা লাগবে। জুতা শব্দটা ঠিকমত উচ্চারণ করতে পারে না রুনি। শব্দটা অনেকটা ‘দুতা’র মত শোনায়। 

পাখিটা আবার ডাকছে। পাখিটা কি আর কোনো জায়গা পায়নি। আমার কানের কাছেই ডাকতে হবে কেন। এই সন্ধ্যা বেলাতো চড়ুই পাখির বাইরে থাকার কথা না। নাকি মাথার ভিতরই শব্দটা হচ্ছে? মাথার ভেতর হলে শব্দটা পাখির ডাকের মতো হবে কেনো? ফুল, পাখি এসব ব্যাপারে আমার কখনো কোনো আগ্রহ ছিল না। 

পাখির নেশা ছিল মিঠুর। সকাল-দুপুর সারাক্ষণই  পাখির পেছনে থাকত আর গাছে গাছে পাখির বাসার খোজ করত। মিঠুর হয়েছে এখন বাড়ি পালানো রোগ। কিছুদিন পরপর সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। তবে আমার মনে হয় বাড়ি পালানোর কোনো বিষয় নয়। মিঠু পালিয়ে বেড়াতে চাচ্ছে দরিদ্রতা থেকে।

এর মধ্যেই কয়েকদিন পর পর রুমার স্বামী এসে বসে থাকে যৌতুকের টাকার জন্য। দরিদ্রতা যদি আমার মতো আমার ভগ্নিপতিকেও পাষাণ করে থাকে তবে সে ঈদের জন্য আমার পাঠানো টাকাই শ্বশুর বাড়ি থেকে নিয়ে নিবে। মিঠু গিয়ে রুমাকে শাষিয়ে আসবে পরিবারের অমতে এমন লোককে কেনো বিয়ে করল। বাবার চোখের অন্ধত্বের পরিমাণ আরো বাড়বে। মায়ের চুলায় বসানো পাতিল বেশিরভাগ সময়ই খালি থাকবে। রুনির লাল জুতার জন্য অপেক্ষা চলতেই থাকবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম