নগরে বসন্ত 

নগরে বসন্ত 

মাজহার মনি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:০৭ ৩১ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৯:৫৪ ৮ জুন ২০২১

এই নগরেও বসন্ত আসে।

এই নগরেও বসন্ত আসে।

জানালার কাঁচে বিভ্রান্ত শালিকের ঠোঁটের ঠকঠক শব্দ অথবা কাঁচ গলে ঢুকে পড়া কুসুম রাঙা রোদ জানান দেয়  এই শহরে বসন্ত এসেছে! কাঁচে বন্দী এই নগরের নাগরিকদের বসন্ত কতোটাইবা ছুঁতে পারে? 

বসন্তের সাথে কোকিল  এবং কোকিলের সাথে শিমুল গাছের একটা সম্পর্ক থাকতে পারে। বসন্ত মানেই কোকিলের কুহু কুহু ডাক। এই শহরে খুব একটা শিমুল গাছ নেই বলেই হয়তো কোকিলের কণ্ঠ শোনা যায়না। কে জানে, কোকিলের হয়তো কোলাহল পছন্দ না। নির্জন দুপুরে বা পড়ন্ত বিকালে ডালের আড়ালে লোকিয়ে লোকিয়ে ডাকাতেই হয়তো তার আনন্দ।  তবে সবুজ ঘাসে আবৃত গ্রামছাড়া পথ অথবা সারি সারি শিমুল গাছের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুচকুচে কালো পিচঢালা পথ সবখানেই যেন কোকিলের ডাক এবং ঝিমধরা বসন্তের রোদ মিশে থাকে। কোকিল ডাকুক আর নাই ডাকুক শ্যামল গাঁয়ের মাঠ, নতুন আমের মুকুল অথবা কাঠাল পাতার প্রতিটি কম্পন যেন বসন্তের আগমন জানান দেয়। সেখানে বসন্তকে খোঁজে নিতে হয়না। বসন্তই এসে ধরা দেয় প্রতিটি প্রাণে। 

এই নগরেও বসন্ত আসে। বসন্ত আসে চিলেকোঠার ভগ্ন দুয়ারে। চিলেকোঠার বাসিন্দা দু'পা বাড়ালেই দেখতে পাবে তার দুয়ারে পুরো ছাদ জুড়ে বিছিয়ে আছে বসন্তের অনুত্তপ্ত রোদ। অথবা শ্যাওলা ধরা ছাদের কার্নিশ বেয়ে বয়ে চলেছে বসন্তের থিরথিরে বাতাস। 

বসন্ত আসে গৃহিণীর ঝুল বারান্দা অথবা তারে ঝুলানো শুকিয়ে যাওয়া রংচঙয়ে শাড়িতে। কখনও কখনও মধ্য দুপুরে গভীর রাতের নিস্তব্ধতা নেমে আসে এই নগরের ব্যস্ত গলিতে। অনবরত ধুলা উঠা এবং কোলাহলপূর্ণ গলিটা কেমন যেন নিস্তব্দ হয়ে যায় ঠিক যেন বাশঁঝাড়ের সামনে  দাঁড়িয়ে থাকা নিঃসঙ্গ কালভার্ট অথবা ধানের চারার দিকে নিরবে বয়ে চলা সরু খালের স্বচ্ছ জলের ধারা। হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়া গলিতে বসন্ত মিশে থাকে খুব গোপনে যেমন করে জলের ধারা সরু খালের মাটিতে গজিয়ে থাকা ঘাসকে ছুঁয়ে যায় আলতো করে।   

অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাফেরা নির্বিঘ্ন করতে হঠাৎ হঠাৎ যখন  রাজপথ জনশূন্য হয়ে পড়ে তখন অবহেলায় বা উজ্জ্বল হয়ে বসন্ত নামে নগরের রাজপথে।  সিগন্যাল থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া বাসের জানালা গলে ঢুকে পড়ে এক চিলতে বসন্ত। এই শহরের বাসিন্দাদের দু’পা বাড়িয়ে বসন্তের রোদ দেখার সুযোগ হয়না। ঘুম থেকে জেগে পা রাখতে হয় যাপিত জীবনের ব্যস্ততায়। এই শহরের আবদ্ধ জলাশয়, দুপুরের নির্জন পার্কের বেঞ্চ এবং  থোকা থোকা বনায়ন থেকে বসন্ত এসে ছুঁয়ে যাক এই নগরের প্রতিটি প্রাণকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম