কিংশুকদের গল্প 

কিংশুকদের গল্প 

মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৩৬ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

“I want you always to remember me. Will you remember that I existed, and that I stood next to you here like this?” ― Haruki Murakami ( Norwegian Wood) 

লুতফরকে নিয়ে এই পোস্টটা আমি প্রতি বছরই দেই। প্রথমে দিতাম ক্লাসমেটদের ইমেইল গ্রুপে। ২০১৫ সাল থেকে দেই ফেসবুকে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো প্রতিবছরেই এই পোস্টটাতে কিছু না কিছু পরিবর্তন আসে। আমার ইচ্ছের বাইরে। এই পরিবর্তন লুতফরের কারণে নয়। লুতফরের বাস এখন এক চিরন্তন জগতে, যেখানে পরিবর্তন বলে কোনো শব্দই নেই। সব কিছুই সেখানে নির্ধারিত। আনন্দ বেদনা– সকলই। আরেকটা ব্যাপার হলো, আমি প্রতিবছরেই ভাবি যে, লুতফরকে নিয়ে এবারে আমি অন্য কোন পোস্ট দেবো। কারণ তার সাথে আমার স্মৃতির কোন অভাব নেই। কিন্তু লিখতে গেলে অদ্ভুত কোন কারণে এই পোস্টে বর্ণিত স্মৃতিগুলোই বারবার এসে ভিড় করতে থাকে।     
বেঁচে থাকলেই মানুষেরা বদলায়, মৃতেরা নয়। জীবিতদের এই পরিবর্তন গতিশীল সময়, পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্যে। বলা যেতে পারে অস্তিত্ববান থাকার উদ্দেশ্যে। জীববিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে অভিযোজন। অভিযোজনের জন্যে প্রাণীর পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়ার সক্ষমতা অর্জনের শক্তি দরকার। একজন ব্যক্তি মানুষ তার জীবৎকালে কিছু পরিমাণে এই ধরনের শক্তির অধিকারী হয়। কিন্তু তার ভেতরে এই শক্তির পরিমাণ এতটা নয় যে, সে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারবে। তবে সামষ্টিকভাবে মানুষ বা হোমোসেপিয়েন্সরা অন্যান্য গোত্রের প্রাণীদের চেয়ে অধিকমাত্রায় অভিযোজনে সক্ষম। সে কারণেই প্রয়োজনের তাগিদে তারা নিজেদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বিসর্জন দিয়ে হলেও সামষ্টিকভাবে বেঁচে থাকে। অনেক সময়ে নিজেদের কিছু আত্মিক পরিচয়কে বিসর্জন দিয়ে হলেও। 

১৯৭৭ সন। লুতফরের সাথে আমার স্মৃতির শুরু। তৎকালীন মোমেনশাহী ক্যাডেট কলেজে বা বর্তমান মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ (এম সি সি)। সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছি আমি। বাংলাদেশের জামালপুর জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আমি এসেছি। মহা কনফিউজড। পরিচিত কাউকেই পাচ্ছি না, যার সাথে অন্তত মাতৃভাষায় কথা বলতে পারি। এমন সময়ে সাবলীল, স্বতঃস্ফূর্ত এক কিশোর এসে আমার পাশে দাঁড়াল। আমার চেয়ে ইঞ্চি খানেক লম্বা হবে। চোখে-মুখে আত্মবিশ্বাস ঝিকমিক করছে। নাম জিজ্ঞেস করেই বললোঃ 
“তোমার বাড়ি কোথায়?” 
“জামালপুর,” আমি বললাম। 
“জামালপুর, কোন থানায়?” 
“মাদারগঞ্জ।” 
“স্কুলের নাম কি ছিলো তোমার ?” 
“ঝাড় কাটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়।” 
“তোমাদের ওই স্কুল তো নামকরা স্কুল। পরীক্ষার ফলাফল, খেলাধুলা সবকিছুতেই।”
“ওই স্কুলের ধারে-পাশে আমার এক চাচার শ্বশুর বাড়ি আছে। আমার বাড়ি সরিষাবাড়ি থানায়। গ্রামের নাম চর আদ্রা।”

চর আদ্রার নাম আমি তখনো জানি না। আমি শুধু জানি সরিষাবাড়ির কথা। ১৯৭২ সনে আমি আমার পিতার সাথে (যাকে আমি জন্মাবধি আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দেখে আসছি।) বর্ষাকালে গয়নার নৌকাতে করে সরিষবাড়িতে গিয়েছিলাম আমাদের স্কুলের বিল্ডিং তোলার জন্যে ইট কিনতে। তবুও মুহূর্তের ভিতরেই আমরা পরস্পরের বন্ধু হয়ে গেলাম। যেমন করে বিদেশের শহরে পরস্পরের সাথে অপরিচিত দুই বাঙালি বন্ধু হয়ে যায়।  

অতঃপর ক্যাডেট কলেজে এক সাথে বেড়ে ওঠা। অর্ধযুগ, ক্লাস সেভেন থেকে ক্লাস টুয়েল্ভ অবধি। আমরা  দুজনেই নজরুল হাউজে। আমি গ্রাউন্ড ফ্লোরে থাকলে সে এক তলায়। সে গ্রাউন্ড ফ্লোরে থাকলে আমি একতলায়। দুজনেই ফুটবল মাঠের ব্যাক খেলোয়াড়। দুজনের শরীরেই প্রবল শক্তি। যমুনার তীরে শৈশব কেটেছে দুজনেরই। সোহরাওয়ার্দী এবং ফজলুল হক হাউজের ছেলেরা ভয়ে আমাদের দুজনের কাছেই আসে না। 

প্রতি টার্মের শেষে দুজনে এক সাথে বাড়ি ফিরি। টাংগাইল শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত কলেজের বাস দিয়ে আমাদের নামিয়ে দিয়ে যায়। প্রগতি কোম্পানির বাসে করে। এখান থেকে ময়মনসিংহের ছেলেরা ময়মনসিংহের দিকে চলে যায়। খোকন ভাই, সেলিম আবেদ ভাই, মওলা ভাই, তুহিন ভাই, একরামুল হোসেন পাটোয়ারী ভাই, আমাদের ক্লাসমেট ঈসা রুহুল করিম এবং আরো কয়েকজন। শুধু আমি আর লুতফর জামালপুরের বাসে উঠে বসি। যদিও কলেজে আমাদের চেয়েও কয়েকজন সিনিয়র আছেন জামালপুর মহকুমা থেকে। ফয়সল ভাই এবং রিজভি ভাই। কিন্তু তারা বেশিরভাগ সময়েই ঢাকায় চলে যান। জামালপুর শহরে নামার পর লুতফর আর আমি ব্রহ্মপুত্র নদের তীর দিয়ে ঘুরে বেড়াই। সরিষাবাড়ি বা মেলান্দহ বাজার দুটোর লোকাল ট্রেনের সময়ই বিকেলের দিকে। আমাকে যেতে হবে মেলান্দহ বাজার, মাহমুদ পুর হয়ে কুমার পাড়া গ্রামে। আর লুতফর যাবে সরিষাবাড়ি, সিমলা বাজার হয়ে তার গ্রামের বাড়ি আদ্রার চরে।

এই চরটা যমুনা নদীর ঠিক কোথায় আমি জানি না। লুতফর আমাকে অনেকবার তাদের বাড়িতে যাবার জন্যে আমাকে নিমন্ত্রণ করেছে। জিজ্ঞেস করেছে, “আসাদ, তুমি কি কখনো জগন্নাথগঞ্জ ঘাট দেখেছো? জগন্নাথগঞ্জ ঘাট হয়ে নৌকা দিয়ে সিরাজগঞ্জ ঘাট হয়ে বগুড়ার মহাস্থান গড়ের দিকে চলে যাওয়া যায়। সেখান থেকে রংপুর হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যেও চলে যাওয়া যায়। আমরা দুজনে মিলে পরিকল্পনা করতাম আরো কয়েক ক্লাস পর টার্মএন্ডের ছুটিতে আমরা দুজনে মিলে উত্তরবঙ্গের দিকে চলে যাবো। কিন্তু কখনোই যাওয়া হয়নি। পরিকল্পনা পরিকল্পনাই রয়ে গেছে। আমরা কলেজে ঢোকার পর প্রতিবছরই এক-দুজন করে জামালপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলেদের সংখ্যা বাড়ে। ফজলু, যিয়াদ, রাজ্জাক, সাইমুম এবং আরো অনেকে। তবে লুতফর আর আমিই প্রথম। 

১৯৮১ সন। একাদশ শ্রেণির ছাত্র আমরা। সন্ধ্যার পর। নজরুল হাউসের দোতলার ঝুল বারান্দা। আকাশে চাঁদ। আমাদের হাউজের হাউজ টিউটর রফিক কায়সার স্যার। তার সাথে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন তথা ‘এইম অফ লাইফ’ নিয়ে কথা বলছি। সবার চোখে নতুন নতুন স্বপ্ন। কিন্তু আমরা জানি না আমাদের এই স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নযোগ্য কি-না। রফিক স্যার মাকসুদকে বললেন সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে সে নাকি ভালো করবে। এই সংগঠনে দীর্ঘকাল সাস্টেইন করা এবং ভালো করা নাকি এম সি সি’র ছাত্রদের জন্যে ডিফিকাল্ট! মাক্সুদের অধ্যাবসায় ও বুদ্ধির কারণে নাকি তার পক্ষে এই সংগঠনের শীর্ষ পর্যন্ত উত্তরণ সম্ভব। মাক্সুদ অনেক যুগ ধরে আমেরিকায়। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। লুতফরকেও একই কথা বললেন। তবে ভিন্ন যুক্তি দিয়ে, “লুতফর, আমার মনে হয় তোমার জন্য আর্মি প্রফেশনটাই বেশি স্যুট করবে। কারণ তোমার ভেতরে একটা গ্রামীণ বলিষ্ঠতা আছে। এটা এই ধরনের প্রফেশনে খুবই প্রয়োজন।” পরের বছর লুতফর মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের কলেজ ক্যাপ্টেন হয়েছিল! 

১৯৮৩ সনে লুতফর আর আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেই। ঢাকা কমলাপুর স্টেশন থেকে একই ট্রেনে করে আমরা বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমীতে যোগ দিয়েছিলাম। ১৯৮৫ সনের মে মাসে আমরা কমিশন পাই। লুতফর সেনাবাহিনীর আর্টিলারী কোরে এবং আমি সিগন্যালস কোরে। একাডেমিতেও লুতফরের সাথে আমার খুব একটা দেখা হতো না, অন্য কোম্পানীতে বলে। আসলে এরপর থেকে কোনোদিনই লুতফরের সাথে আমার এক সাথে থাকা হয়নি। 

১৯৯৪ সন। আমি আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটে (এ এস ইউ) ডেস্ক অফিসার হিসেবে চাকরি করি। লুতফর মিরপুর সেনানিবাসে। একটি এন্টি এয়ারক্র্যাফট আর্টিলারি রেজিমেন্টে কর্মরত। একদিন বিকেল ৪টার দিকে আমাকে অফিসে রিং করলো। জানালো যে, সে আর্মড ফোর্সেস প্যাথলজিক্যাল ইন্সটিটিউটে (এ এফ আই পি) ব্লাড দিতে এসেছিলো, স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে। কিন্তু ওর রক্তের গ্রুপ যথেষ্ট কমন হওয়ায় রক্ত দিতে পারেনি। আমাকে বললো, আমি ওকে মিরপুর সেনানিবাসে পৌঁছে দিতে পারবো কি-না।

আমার মোটরসাইকেলে করে দুজনে সেনাসদরের সামনে এসেছি। মোটরসাইকেলের স্পিড ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার মাত্র। একটা মোটরসাইকেল আমার মোটরসাইকেলের ডান দিয়ে অতিক্রম করে হঠাৎ বামে টার্ন নিলো। ঠিক আমাদের সামনে। আমি ব্রেক চাপতেই আমরা দুজনে উড়ন্ত রাজহংসীর মতো উড়তে উড়তে সামনের মোটরসাইকেল অতিক্রম করে ১০ হাত সামনে রাস্তার ওপরে গিয়ে পড়লাম। দাঁড়াতেই দেখি দুজনেরই রক্তারক্তি অবস্থা। সেনাসদর ইন গেট দিয়ে তখন বেরুচ্ছেন লে. কর্নেল মেসবাহ উদ্দিন সেরনিয়াবাত। তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধানের পিএস । তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের তিনি তার গাড়িতে করে সি এম এইচ–এ নিয়ে গিয়ে ভর্তি করলেন। লুতফরের আর মিরপুর সেনানিবাসে ফিরে যাওয়া হলো না।

পরের এক মাস আমরা দুই বন্ধু সি এম এইচ এর এক রুমে। দুজনই মহা আনন্দিত। লুতফর মনের আনন্দে সারাক্ষণ বই পড়ে। বিভিন্ন ধরনের বই। আপাতভাবে কোনোটাই তার কোর্স কারিকুলামের সাথে সম্পর্কিত নয়। ওই মুহূর্তে সে পড়ছিলো পৃথিবীর বিবর্তনের ইতিহাস আর বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস। আমি পড়ছিলাম সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের ‘রসিক’ নামক উপন্যাস। ভারতের মানভূম অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষার ডায়ালগ দিয়ে লেখা। আমাদের দুজনের পাঠের বিষয়ের ভেতরে কোনই মিল নেই। 

২০০৯ সনের জানুয়ারি মাস। সেনাসদরে আমার চাকরির মেয়াদ শেষ। আমার বদলি হবে অন্য কোথাও। আমি দিব্য দৃষ্টিতে দেখতে পাচ্ছি সমুদ্র তীরের টেকনাফ বিডিআর ব্যাটালিয়নে আমার বদলি হয়েছে। বেলাভূমিতে অজস্র লাল কাঁকড়া। সিলভিয়া প্লাথের কবিতার সেই পপি ফুলের মতন রক্ত লাল। আমি কাছে গেলেই চকিতের ভেতরে বালির গর্তে লুকিয়ে যাচ্ছে। আমার অবস্থা আলেকজান্ডার সেল কার্কের মতন। দক্ষিণে বিশাল সাগর। আমার চারপাশে রাশি রাশি জল। যতদূর দৃষ্টি যায়,আমিই প্রভু! কিন্তু অজানা কারণে আমার বদলি হয়েছে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানে। যদিও আমার টেকনাফ বা কক্সবাজারে যাবার সম্ভাবনা এখনো উবে যায়নি। এই ইউনিটের শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে আছে দেশের সর্বত্র।

২০০৯ সনের ফেব্রুয়ারি মাস। লুতফর পিলখানায় একটা রাইফেল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক। এর পূর্বে সে ছিলো সিলেটে। তার পূর্বে রাজশাহীর কানসাটে। তারও পূর্বে জামালপুরে। সকল জায়গা থেকেই আমাকে সে রিং করেছে। বেড়াতে যাবার আমন্ত্রণ দিয়েছে।

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯। লুতফর তার ড্রাইভার দিয়ে আমার কাছে একটা বই পাঠিয়েছে। বই এর নাম ‘আগুন পাখি’। লেখক হাসান আজিজুল হক। বইএর কভার পেইজের ওপর ‘পোস্ট ইট’ টেপে লুতফরের সুন্দর হস্তাক্ষরে ইংরেজিতে লেখা – “ আসাদ, আমি জানি বইটা তোমার পছন্দ হবে। আমি একটু পূর্বে পড়ে শেষ করলাম। মুগ্ধ হয়েছি পড়ে। ” 

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৫ তারিখ। আমার অভ্যন্তরীণ বদলির প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। বসে আছি ইউনিট সদর দফতরের পার্সোনাল স্টাফ অফিসারের অফিসে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে টেলিফোনের অন্যপ্রান্তে কারো সাথে কথা বললেন তিনি। চোখে মুখে অস্থিরতা! বললেন, “পিলখানা বিডিআর সদর দফতরে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে!” আমি প্রাণপণে লুতফর এবং আমার পরিচিত অফিসারদের নাম বৃথাই আমার মোবাইলে অনুসন্ধান করতে থাকি। দুপুরের সূর্য আমাদের ছায়াহীন করে দেবার আগেই কিংশুকের রঙে ভরে গেল পিলখানা বিডিআর সদর দফতরের বিস্তীর্ণ প্রান্তর। 

আমি শুনেছি লুতফরকে চোখ বেঁধে রেখে চেয়ারে বসিয়ে তার রানারকে দিয়ে গুলি করে মেরেছিলো বিদ্রোহীরা। আমি জানি লুতফরের অন্তর্গত বলিষ্ঠতা তাকে মুহূর্তের জন্যেও দুর্বল করেনি। সে কখনোই তাদের কাছে বেঁচে থাকার জন্যে মার্জনা প্রার্থনা করেনি। বরং সক্রেটিসের মতো বলেছে, “যদি তোমরা আমার মত একজন মানুষকে হত্যা কর, তাহলে আমার যে পরিমাণ ক্ষতি হবে, তার চেয়ে তোমাদের অধিক ক্ষতি হবে। কোনকিছুই আমার ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ, একজন ভালো মানুষের ক্ষতি করার ক্ষমতা ঈশ্বর দুষ্টলোককে দেননি। দুষ্টলোক শুধু নিজেদেরই ক্ষতি করতে পারে। অন্যায়ভাবে একজনকে হত্যা করে তোমরা নিজেদের যে পরিমাণ অকল্যাণ বয়ে আনবে, তা নিহত ব্যক্তির অকল্যাণ থেকে অনেক বেশি।”

(১৯৮৫ সনে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি হতে পাসিং আউটের সময়ে আমাদের কোর্স একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলো। এই অনুষ্ঠানের ব্যাকস্টেজ তৈরির সাথে যুক্ত ছিলাম আমি। আমার আরেক বন্ধু  সাহেল আর আমি মিলে অনুষ্ঠানটির নামকরণ করেছিলাম ‘কিংশুকদের গল্প’। নিজের কাছেই দুর্বোধ্য কোন কারণে  আমার আজকের লেখার শিরোনাম হিসেবে এই নামটিই ব্যবহার করতে ইচ্ছে হলো।)

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর