Alexa আওয়ামী লীগে বাড়ছে দূরত্ব

সিলেটের গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার

আওয়ামী লীগে বাড়ছে দূরত্ব

প্রকাশিত: ১৬:২৪ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় (সিলেট-৬আসন) বর্তমান এমপি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তবে বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়ছে। নিজের নির্বাচনি এলাকায় অনেকটাই কোণঠাসা নাহিদ। আর এসব কারণে প্রার্থিতা দাবি করছেন কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরওয়ার হোসেন, প্রবীণ রাজনীতিবিদ গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম পল্লব, লন্ডন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আফসার খান সাদেক, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হাসিব জোয়ার্দার। গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শফিক উদ্দিন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা মাঠে নেমেছেন। সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ, পোস্টার, ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক-টুইটার ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতার বিষয়ে জানান দিচ্ছেন।
এছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের মহাজোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) থেকে এবার মনোনয়ন চাইতে পারেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা সভাপতি লোকমান আহমদ।

এ প্রসঙ্গে বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. আব্দুস শুকুর বলেন, বড় দলে অনেকেই মনোনয়ন চাইতে পারে। এটা রাজনীতির জন্য ভালো লক্ষণ। তবে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা যোগ্যতার বিবেচনায় নুরুল ইসলাম নাহিদকে বেছে নেবেন।

কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সারওয়ার হোসেন বলেন, দলের হাইকমান্ডের গ্রীণ সিগন্যাল পেয়ে মাঠে নেমেছি। আশা করি সভানেত্রী আমাকে মূল্যায়ন করবেন। গত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় আমি কারাভোগ করেছি। দলের বিপর্যয়ে গা বাঁচিয়ে চলিনি।

এদিকে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় এই আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দুই যুগ আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সাবেক জেলা সভাপতি মরহুম লুৎফুর রহমান। এরপর বিভিন্ন জোটের শরিকদের জন্য বিএনপি এই আসনটি ছেড়ে দিয়েছে। তবে এবার বিএনপি নেতারা শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবার তারা নির্বাচন করতে পারবেন।

গত কয়েক বছর ধরে এই আসনে দলের মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বিশিষ্ট লেখক অ্যাডভোকেট মাওলানা রশীদ আহমদ। দুই উপজেলার সবখানেই তার শক্ত অবস্থান রয়েছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম দলের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এই আসনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করছেন মিডিয়ায়। এ ছাড়া এ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি সায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সল আহমদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেতা চিত্রনায়ক হেলাল খান।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, বিএনপি এখন সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল, বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ আসনটি বিএনপির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি আছেন নির্বাচন করার মত। আমার বিশ্বাস এ আসন বিএনপি এবার পুনরুদ্ধার করতে পারবে। একসময়ে এ আসনে বিএনপির এমপি ছিল। বিগত সংসদ নির্বাচনে পেক্ষাপট ভিন্ন হওয়া সেখানে জামায়াতকে আসনটি দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু ৯ বছর পর রাজনৈতিক পেক্ষাপট অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের দলে উপযুক্ত একাধীক প্রার্থী আছে বিধায় এখানে কাউকে ছাড় দেয়ার প্রশ্ন উঠে না।

২০০৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সিলেট দক্ষিণ জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। নির্বাচনে পরাজিত হলেও মাঠ ছাড়েননি তিনি। দলের সভা-সমাবেশ ছাড়াও ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন জোটগত নির্বাচন হোক আর দলীয় হোক মাওলানা হাবিবুর রহমানই হবেন এ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী।

>>>কাল থাকছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার রাজনীতি...

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে