Alexa বিভক্ত আওয়ামী লীগ নিষ্ক্রিয় বিএনপি

কুমিল্লা-দেবিদ্বার

বিভক্ত আওয়ামী লীগ নিষ্ক্রিয় বিএনপি

প্রকাশিত: ১৪:২৫ ১ মার্চ ২০১৮  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

দলীয় কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তবে মাঠে রয়েছে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি একদিকে হামলা-মামলার শিকার অপরদিকে রয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। ফলে মাঠের বাইরে রয়েছে দলটি। জামায়াতও এখানে কোণঠাসা। দু-একটি সভা ও উঠান বৈঠক করে সক্রিয় হতে চেষ্টা করছে জাতীয় পার্টি। কমিউনিষ্ট পার্টি, ন্যাপ, ইসলামী আন্দোলনসহ সমমনা কয়েকটি দল চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মুন্সি, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী এবিএম গোলাম মোস্তাফা, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ এম হুমায়ুন মাহমুদ ও যুগ্ম সম্পাদক রওশন আলী মাস্টার-দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগ এখন এই চারটি গ্রুপে বিভক্ত। যার কারণে তিন বছরের উপজেলা কমিটি চলছে এখন ২২ বছর ধরে। এই উপজেলায় সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট। সেই সম্মেলনে মো. জয়নুল আবেদীনকে সভাপতি ও একেএম মনিরুজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি করা হয়। বর্তমানে এই কমিটি নামে থাকলেও কার্যত নেই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়নুল আবেদীন মাঝে মাঝে সরকারি দু-একটি সভায় যোগদান করলেও নিষ্ক্রিয় রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুজ্জামান।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মুন্সি বলেন, দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে কিছুটা দুর্বল। আর গ্রুপিং সবদলেই আছে, থাকবে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আউয়াল সরকার বলেন, দেবিদ্বার উপজেলা কমিটির কোনো কার্যকারিতা নেই।

আওয়ামী রাজনীতিতে গ্রুপিং থাকলেও তা প্রকট নয় দাবি করে উপজেলা একেএম মনিরুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগ বড় দল, গ্রুপিং থাকবেই। সবাই দলের মনোনয়ন চায়।

একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা অভিযোগ করে বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীর বিশাল একটি অংশের সঙ্গে রাজী ফখরুল এমপির রয়েছে বিস্তর দূরত্ব।

এদিকে, গত বছরের ১১ নভেম্বর একটি কর্মীসভায় সাবেক এমপি এবিএম গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে দলের পাঁচ নেতার মধ্যে ঐক্য হলেও ভেতরের চিত্র উল্টো।

জানা যায়, নেতারা ভেতরে ভেতরে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এমপি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। ফলে এবিএম গোলাম মোস্তাফার ঐক্য হালে পানি পাচ্ছে না।

বিএনপি: দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপি বহুধাবিভক্ত। কোন গ্রুপই সক্রিয় নয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিও পালন হয় দায়সারাভাবে। হামলা, মামলা, নির্যাতন ও হয়রানীর শিকার ত্যাগী কর্মীরা এখন উপযুক্ত নেতা খুঁজে পাচ্ছে না।

বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এই আসন থেকে চার বারের নির্বাচিত এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর দাপট ছিল ঈর্শনীয়। ১/১১’র সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। শাস্তি হওয়ায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেননি। ফলে ঐ নির্বাচনে তার স্ত্রীকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী করা হয়।

বর্তমানে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপিতে চরম সংকটকাল চলছে। বিশেষ করে নেতৃত্বের শূন্যতা প্রকট আকার ধারণ করছে। সাংগঠনিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না নেতাদের।

উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৫ সালের পর দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সম্মেলন হয়নি। ২০১৬ সালে সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য মুঞ্জুরুল আহসান মুন্সি অ্যাডভোকেট ফরিদকে সভাপতি ও গিয়াস উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা থেকে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করেন। যা মেনে নিতে পারেননি স্থানীয় নেতারা।

বিএনপি নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বলেন, মঞ্জু মুন্সি আমাকে দলের কোনো পদে রাখেননি। উপজেলা বিএনপির সম্মেলন কবে কখন এবং কোথায় হয়েছে কেউ বলতে পারবে না। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি পকেট কমিটি করে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের দূরে ঠেলে দিয়েছে। ওই পকেট কমিটির সঙ্গে দেবিদ্বার বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পর্ক নেই।

অপর দিকে, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান, হংকং বিএনপির সভাপতি এএফএম তারেক মুন্সীরও রয়েছে কিছু কিছু অনুসারী।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলে তারা বিএনপির কেউ না। রুহুল আমিন বিএনপির টিকেটে নির্বাচিত হলেও আওয়ামী লীগের বি টিম হিসেবে কাজ করছে। আর আবদুল আউয়াল খান এবং তারিক মুন্সি নির্বাচন করতে চাইছে কিন্তু দলের জন্য কোন কাজ করছে না।

উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. রেজাউল করিম ভিপি শাহীন বলেন, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি পকেট কমিটি করেননি। যারা যোগ্য তাদেরই তিনি কমিটিতে স্থান দিয়েছেন।

জামায়াত: এদিকে, মুখ থুবড়ে পড়েছে জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জামায়াত নেতা বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচিও এখন আর আগের মত আসে না, মাসিক বৈঠকগুলো নিজেদের সুবিধাজনক স্থানে করি, অনেক নেতা মামলা-হামলার ভয়ে বিদেশে রয়েছেন। প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে হয়তো এসব নেতা-কর্মী দেশে ফিরবেন। ভেতরে ভেতরে দলকে শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে বলে জানান এ নেতা।

জাতীয় পার্টি: জাতীয় পার্টি এখানে খুবই দুর্বল। জাপার সাংগঠনিক কার্যক্রম অগ্রগতি সম্পর্কে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন রাজু জানান, মাঠে আছি এবং থাকবো। দলের সাংগঠনিক শক্তি আগের চেয়ে ভালো। প্রধানমন্ত্রী এ আসনটি জাতীয় পার্টির জন্য রাখবেন।

এ ছাড়া এই উপজেলায় কমিউনিষ্ট পার্টির তেল গ্যাস রক্ষা কমিটির আন্দোলনে কর্মসূচি থাকলেও অন্য কোন দলের দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই বললেই চলে।

>>>কাল থাকছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার রাজনীতি...

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে