দূরবীনপ্রথম প্রহর

“কে ডেকেছে, চলে যান, ১টায় ছেলেকে দাফন করবো”

ইদ্রিস আলমডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

“কে ডেকেছে আপনাদের? আপনাদের আসার দরকার নেই। ১টা বাজলেই আমার সন্তানকে দাফন করবো। আপনারা চলে যান।” এরকম নানা কথা বলছেন সাফায়েত'র বাবা কাজল।

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকার লিংক রোডের একটি বাসায় তিন বছরের এক শিশুর ‘মৃত্যু’ হয়েছে। মৃত ওই বাচ্চার নাম সাফায়েত বলে জানা যায়।

পুলিশ বলছে, শিশুটির মৃত্যুর খবর পেয়ে এলেও বাসার ভেতরে এখনো ঢুকতে পারছেন না তারা। বাসার ভেতরে ধারালো দা হাতে বসে আছেন শিশুটির বাবা নুরুজ্জামান কাজল। তিনিই কাউকে ঢুকতে দিচ্ছেন না। আমরা ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বুধবার সকালে বাংলামোটর ১৬ নম্বর লিংক রোডের ওই বাড়ির দোতলা বাসায় শিশুটির মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় শাহবাগ থানা পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অন্যান্য ইউনিটের সদস্যরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছে র‍্যাব, পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যেরা বাড়ির চারদিক ঘিরে ফেলেন। পুলিশ, র‍্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দরজার কাছে একটি ছিদ্র দিয়ে দেখতে পান, ঘরের ভেতর ওই শিশুর মরদেহ পড়ে আছে।

কাজলের স্বজন ও প্রতিবেশীরা বলেন, কাজলের দুই সন্তান। একজন সাফায়েত, বড় জন সুরায়েত। আমরা সাফায়েতের মৃত্যুর খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসেছি। কিন্তু ভেতরে এখনো ঢুকতে পারছি না। পুলিশকেও ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

প্রতিবেশীদেরেএকজন জানান, বাবাই খুন করেছেন সাফায়েতকে। কারণ কাজল মাদকাসক্ত। আর আমরা যখন বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করি, তখন কাজল আমাদের দিকে দা নিয়ে তেড়ে আসেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, একটা বাচ্চা মারা যাওয়ার খবর পেয়ে এসেছি। কিন্তু আমরা বাসার ভেতরে ঢুকতে পারছি না। ভেতরে রয়েছেন শিশুটির বাবা কাজল। তাকে বুঝিয়েও বাসার ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। বিকল্প উপায়েও বের করার চেষ্টা করছি।

র‌্যাব-২ এর এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা কাজলের দোতলার বাসায় ঢোকার চেষ্টা করেও পারিনি। তিনি এক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে রেখেছেন। হাতে তার দা। আরেক সন্তানকে কাফনের কাপড় পড়িয়ে টেবিলের ওপর রেখেছেন।

কাফনের কাপড়ে রক্ত দেখা গেছে কি-না, জানতে চাইলে এসআই বলেন, রক্ত দেখলাম না। আমরা বোঝাতে চাইলেও কাজল বলছেন, কে ডেকেছে আপনাদের? আপনাদের আসার দরকার নেই। ১টা বাজলেই আমার সন্তানকে দাফন করবো। আপনারা চলে যান।

কাজলকে মাদকাসক্ত মনে হচ্ছে বলেও জানান এসআই শহীদুল ইসলাম।

এদিকে পাশের একটি মসজিদে ১টায় জানাজার সময় ঘোষণা করা হয়েছে। যদি এর মধ্যে কাজল মরদেহ নিয়ে বের না হন, তাহলে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে দিচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস।

বাসার সামনে র্যাবের একটি দল ভেতরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এলকে

daily-bd-hrch_cat_news-1-10