Alexa ৯০ বছরেও বিধবা আবিয়ার জোটেনি কার্ড

৯০ বছরেও বিধবা আবিয়ার জোটেনি কার্ড

মাহবুবুজ্জামান সেতু, মান্দা (নওগাঁ) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০০ ২৫ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৩:০৫ ২৫ জানুয়ারি ২০২০

আবিয়া বেওয়া। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আবিয়া বেওয়া। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আবিয়া বেওয়ার বয়স ৯০ বছরের  কাছাকাছি। এ বয়সেও পাননি বিধবা কিংবা বয়স্ক ভাতার কার্ড। অর্থাভাবে নানা সংকটে ভুগছেন তিনি। বয়সের ভারে রোগে-শোকেও ভারাক্রান্ত। বর্তমানে তার চিকিৎসা তো দূরের কথা, তিন বেলা খাবার জোটানোও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার গনেশপুর ইউপির গনেশপুর গ্রামের আছির উদ্দিন মোল্লার স্ত্রী আবিয়া বেওয়া। কয়েক বছর ধরেই একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তবে শুধু আশ্বাসই পেয়েছেন, তিন বছরেও কেউ তাকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করে দেননি।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বয়স্ক ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর বয়স সর্বনিম্ন ৬২ আর পুরুষের বয়স সর্বনিম্ন ৬৫ বছর হতে হয়। সে অনুযায়ী আবিয়া বেওয়া বয়স্ক ভাতার যোগ্য হলেও এখনো পাচ্ছেন না।

প্রতিবেশিরা জানান, প্রায় এক যুগেরও বেশি আগে অর্থ সংকটের কারণে চিকিৎসার অভাবে স্বামী আছির উদ্দিন মোল্লা মারা যান। গরীব স্বামীর সঞ্চয় বলতে তেমন কিছুই ছিল না। ১৯৭১ সালের আগে জন্ম নেয়া তার পঞ্চাশোর্ধ বয়সের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। এদের মধ্যে বড় ছেলের এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে।  বড় ছেলেও মারা গেছেন প্রায় দুই যুগ আগে। সহায় সম্বলহীন অন্য ছেলে-মেয়েরা যে যার মতো ক্ষেতমজুর ও অন্যান্য ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

জানা গেছে, এক সময় কাজ করার সক্ষমতা হারিয়ে আবিয়া ছাগল পালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু বয়সের ভারে এখন আর কোনো কাজই করতে পারেন না। তাই মাঝে মধ্যে না খেয়েই তাকে দিন কাটাতে হয়।

আবিয়া বেওয়া জানান, দুই বছর আগে তার ছবি এবং আইডি কার্ডের ফটোকপি চেয়ারম্যানকে দিয়েছিলেন। অফিস থেকে বলা হয়েছিল যে,  তার কাজ হয়ে গেছে।  আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই টাকা পাবেন। তবে এক বছর পরেও কোনো টাকা না পেয়ে পুনরায় ইউপিতে যোগাযোগ করা হলে চেয়ারম্যান আবারো কাগজ চান। তিনি সেবারও কাগজ দেন।  বর্তমানে দুই বছর পেরিয়ে তিন বছর হতে চললেও পাননি কার্ড বা কোনো টাকা।

বৃদ্ধা আবিয়া বলেন, ‘হামার বয়স এখন পোরায় ৯০। তিন বছর থাকা হামি মেম্বার চিয়ামিনের (চেয়ারম্যান) কাছে ঘোরোচি। কোনো কাম হয়নি। কেউ হামার জন্য কিছু করে নাই।’ 

তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, 'কত বছর বয়াস হলে কার্ড হয়?' ‘কার কাছে গেলে হামার একটা কার্ড হবে?  হামার জন্য একটি কার্ডের ব্যবস্থা করে দেন, বুড়ো বয়াসে আমি এনা শান্তি পাই। আল্লাহ তোমাকের ভালো করবে।’

এদিকে এতো বছর বয়সেও কোনো ধরনের কার্ড হয়নি কেন- এমন প্রশ্নে প্রতিবেদককে গনেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ উদ্দিন মন্ডল বলেন, আবিয়ার এখনো কার্ড হয়নি। তবে তার আইডি কার্ডের ফটোকপির উল্টো দিকে আপনি একটা স্বাক্ষর দিলে আমি একটা কার্ড করে দেব।

মান্দা উপজেলার ইউএনও আব্দুল হালিম বলেন, আবিয়া বেওয়া মান্দা উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে আবেদন করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর