৯ম তারাবি: পঠিত আয়াত ও বিষয়সমূহ
Best Electronics

৯ম তারাবি: পঠিত আয়াত ও বিষয়সমূহ

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৫৩ ১৪ মে ২০১৯   আপডেট: ১৮:২২ ১৪ মে ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আজ ৯ম তারাবিতে সূরা হুদ ১ম রুকু থেকে ১০ম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ১-১২৩) পুরোটা এবং সূরা ইউসুফের ১ম রুকু থেকে ৭ম রুকু (আয়াত ১-৫২) পর্যন্ত পড়া হবে। 

পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১২তম পারা।

সূরা হুদ : (আয়াত ১-১২৩):
১ম রুকুতে (আয়াত ১-৮) কোরআনের অলৌকিক মহিমার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। শব্দ, অর্থ, মর্ম সবদিক দিয়েই পবিত্র কোরআন অকাট্য নির্ভুল এবং ধ্রব সত্যতার বর্ণনায় কোনো কিছুই অযৌক্তিক এবং বিরুদ্ধ নয়। এর অনুপম ভাষা এবং বর্ণনাধারা, অলৌকিক সাবলীলতা এবং প্রাঞ্জলতায় কটাক্ষ করার কোনো সুযোগ নেই।
কোরআনের প্রতিটি তত্ত এবং তথ্য অকাট্য, এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

২য় রুকুতে (আয়াত ৯-২৪) যারা বলে কোরআন মানব রচিত, তাদের কোরআনের অনুরূপ কিছু বানিয়ে দেখানোর চ্যাালেঞ্জ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কখনোই কাফেররা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সাহস পর্যন্ত দেখাতে পারেনি এবং কেয়ামত পর্যন্ত পারবেও না। পার্থিব জীবনের মোহে লিপ্ত ব্যক্তির উদাহরণ দেয়া হয়েছে অন্ধ ও বধিরের সঙ্গে, আর ঈমানদারদের উপমা দেয়া হয়েছে চক্ষুষ্মান ও শ্রবণসম্পন্ন ব্যক্তির সঙ্গে।

৩য় রুকুতে (আয়াত ২৫-৩৫) হজরত নুহ, হুদ, সালেহ, লুত, শুআইব, মুসা এবং হারুন (আ.) এর কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। মূলত হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর অহির সত্য এবং কোরআনের মুজেজা হওয়ার বর্ণনা দেয়ার উদ্দেশ্যে এই ঘটনাগুলো বর্ণনা করা হয়েছে।

৪র্থ রুকুতে (আয়াত ৩৬-৪৯) হজরত নুহ (আ.) এর ঘটনা বর্ণনার পর বলা হয়েছে, এসব ঘটনা অদৃশ্যের সংবাদের অন্তর্ভু৩, যা আল্লাহ অহির মাধ্যমে জানাচ্ছেন। ইতঃপূর্বে এসব কেউ জানতো না। নবীও না, তার জাতিও না।

৫ম রুকু ও ৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৫০-৬৮) আদ ও সামুদ জাতির ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। হজরত হুদ ও সালেহ (আ.) এর বিভিন্ন কথাও বর্ণিত হয়েছে।

৭ম রুকু ও ৮ম রুকুতে (আয়াত ৬৯-৯৫) হজরত ইব্রাহিম (আ.), হজরত লুত (আ.) ও হজরত
শুয়াইব (আ.) এর বিভিন্ন ঘটনা বলা হয়েছে। তাদের সম্প্রদায়ের অবাধ্যাচার ও সৎপথের দিকে তাদের আহ্বান ইত্যাদি বিষয়েও আলোকপাত করা হয়েছে।

৯ম রুকু ও ১০ রুকুতে (আয়াত ৯৬-১২৩) হজরত মুসা (আ.) এর ঘটনা প্রসঙ্গে গুনাহ ও নাফরমানির ব্যাপারে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আল্লাহ ছাড় দেন তবে ছেড়ে দেন না। এসব নবীগণের ঘটনাসমূহে চিন্তাশীল মানুষের জন্য রয়েছে অসংখ্য উপদেশ, আর রয়েছে রাসূল (সা.) এবং মুখলিস ঈমানদার ব্যক্তিদের জন্য সান্তনা ও দৃঢ়তার সবক। তাই ঘটনাগুলোর বর্ণনা প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) ও তাঁর উম্মতকে অটল ও দৃঢ় থাকার নির্দেশ প্রাদান করা হয়েছে। অতঃপর পবিত্র কোরআনে এসব নবীগণের ঘটনা বর্ণনার কী উদ্দেশ্য এ প্রসঙ্গেটির উল্লেখ করে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।

আরো পড়ুন>>> ৮ম তারাবি: পঠিত আয়াত ও বিষয়সমূহ

সূরা ইউসুফ : (আয়াত ১-১১১):
১ম রুকু থেকে ৭ম রুকু পর্যন্ত (আয়াত ১-৫২) পড়া হবে। ইউসুফ (আ.) এর ঘটনার যে অংশটুকু আজ পড়া হবে তার সারসংক্ষেপ হলো-

হজরত ইয়াকুব (আ.) এর বারো জন সন্তান ছিল। এদের মধ্যে হজরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন অস্বাভাবিক সৌন্দর্যের অধিকারী, বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও দৈহিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আচার-ব্যবহারেও তিনি ছিলেন অনন্য। তাই বাবা ইয়াকুব (আ.) তাকে বিশেষ ভালোবাসার নজরে দেখতেন। মহব্বতের আরেকটি কারণ ছিল, ইউসুফ (আ.) শৈশবে একটি স্বপ্ন দেখেন, যা ছিল তার নবী হওয়ার পূর্বাভাষ। ইউসুফ (আ.) ও তার ভাই বিনয়ামিন ছিলেন সবার ছোট, আর তাদের মায়েরও ইন্তেকাল হয়েছিলো। এসব কারণে বাবা ইয়াকুব (আ.) এর বিশেষ মহব্বত ভাইয়েরা সহ্য করতে পারেনি। 

বিনোদনের কথা বলে একদিন তারা ইউসুফ (আ.) কে জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং একটি কূপে তাকে ফেলে দেয়। সেই পথ দিয়ে একটি কাফেলা যাচ্ছিল, পানির প্রয়োজনে তারা কূপের সামনে যায়, বালতি নিচে ফেলার পর বালতি ওঠানো মাত্রই ফুটফুটে সুন্দর ইউসুফ (আ.)-কে দেখতে পায়। তারা মিশরে গিয়ে ইউসুফ (আ.)-কে বিক্রি  করে দেয়। মিশরের আজিজ তাকে কিনে নিজের ঘরে নিয়ে যান।

ইউসুফ (আ.) যৌবনে পদার্পণ করেন। একসময় মিশরের বাদশার স্ত্রী তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। সে ইউসুফ (আ.)-কে খারাপ কাজের প্রতি আহ্বান করে, ইউসুফ (আ.) তা প্রত্যাখ্যান করেন। রাজপরিবারের বদনাম থেকে বাঁচার জন্য ইউসুফ (আ.)- কে জেলে নিক্ষেপ করা হয়। জেলের কুঠুরিতেও তাওহিদের দাওয়াত চলতে থাকে, অনেকেই তার হাতে মুসলমান হন।

তৎকালীন বাদশা একটি আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেন। ইউসুফ (আ.) সেই স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা বলে দেন। ইউসুফ (আ.)-এর প্রতি বাদশাহর বিশেষ দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। বাদশা হজরত ইউসুফ (আ.)-কে সে মিসরের অর্থ বিভাগের পূর্ণ দায়িত্ব দেন এবং তাকে নিজের উজির ও মন্ত্রী বানিয়ে নেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

Best Electronics