Alexa ৮ বছর ধরে স্বেচ্ছায় যাত্রীসেবা দেন তিনি

৮ বছর ধরে স্বেচ্ছায় যাত্রীসেবা দেন তিনি

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:২৮ ১১ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘যাত্রী সাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে সিলেটগামী আন্ত:নগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি অল্প সময়ের মধ্যে ১ নম্বর প্লাটফরমে আসিতেছে। যে সমস্ত যাত্রীরা এখনো টিকেট কাটেননি অনুগ্রহ করে কাউন্টার থেকে টিকেট কেটে ভ্রমণের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। ’

আবার বলা হচ্ছে, ‘নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ট্রেন একঘণ্টা বিলম্বে আসবে। ধৈর্য্য সহকারে প্লাটফরমে বসে থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে এমনই দৃশ্য দেখা যায়। আট বছর ধরে এভাবেই স্টেশনে যাত্রীসেবা দিচ্ছেন ব্যবসায়ী মো. রাজন।

পৌর শহরের মসজিদ পাড়া এলাকার বাসিন্দা রাজনের একটি ক্ষুদ্র দোকান আছে স্টেশন প্লাটফরমে। ব্যবসার ফাঁকে সময়মতো এবং নিয়মিতভাবেই তিনি স্টেশনে অবস্থানরত যাত্রীদের ট্রেন আসার খবর জানাচ্ছেন।

আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে স্টেশন মাস্টার ও টিসি না থাকায় স্টেশন মাস্টারের কক্ষে বসে যাত্রীদের ট্রেন আসার তথ্য ও মাইক এ ঘোষণা দেয়ার কাজটি একসঙ্গে তিনি আট বছর ধরে করে আসছেন। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পযর্ন্ত বিরামহীনভাবে এ দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো পারিশ্রমিকও পাচ্ছেন না তিনি। এ স্টেশনে ২২ জন টিসি থাকার কথা থাকলেও এখানে রয়েছে মাত্র একজন। তাও তিনি প্রশিক্ষণে আছেন।

রাজন বলেন প্লাটফরম স্টেশন মাস্টারের কক্ষ বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ট্রেন আসার খবর পেতে বিভিন্ন স্থানে ছুটে যায়। কখন ট্রেন আসবে কিংবা ট্রেন কোথাই রয়েছে তারা কিছুই জানতে পারছে না। যাত্রীদের সুবিধার্থে নিজের সামান্য ক্ষতি হলেও যাত্রীদের জন্য এ কাজটি স্বেচ্ছায় করছি।

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন সুপার খলিলুর রহমান বলেন, রাজন দীর্ঘদিন ধরেই স্বেচ্ছায় এ দুই কাজ করছেন। চাকরির জন্য তিনি আবেদনও করেছেন। কিন্ত কর্তৃপক্ষ এখনও তা মঞ্জুর করেনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস