Alexa ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর দাবি তাকে জিন নিয়ে গিয়েছিল!

৮ম শ্রেণির ছাত্রীর দাবি তাকে জিন নিয়ে গিয়েছিল!

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৫ ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৩:১৮ ১৫ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মিরসরাইয়ের মঘাদিয়া ইউপির শেখটোলা গ্রামের রসুল আহমেদ ও সুরাইয়া বেগমের মেয়ে সানজিদা আক্তার মিতু। মলিয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালে উঠে নামাজ পড়ে, কোরআন তেলাওয়াত করে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। 

আশপাশের গ্রামে তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়। পরে পাশের পশ্চিম মায়ানী গ্রামে তাকে পাওয়া যায়। সে ওই গ্রামের শাহ আলম হুজুরের বাড়িতে ছিল। পরে ওই হুজুর তাকে মিরসরাইয়ের মায়ানীর মেম্বার জানে আলমের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে মেম্বার তাকে ইউপি চেয়ারম্যান কবির আহমদ নিজামীর কাছে নিয়ে যান।

ইউপি চেয়ারম্যান কবির আহমদ নিজামী জানান, রোববার বিকেলে আমার এলাকার মেম্বার জানে আলম ওই কিশোরীকে আমার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

তিনি আরো জানান, পরিচয় জানতে চাইলে ওই কিশোরী জানায় তার নাম জান্নাতুল ফেরদাউস মরিয়ম। ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশে একটি বাসায় আন্টির সঙ্গে থাকে। এখানে তাকে একটি জিনে নিয়ে এসেছে। জিন তাকে সিএনজিতে রেখে চলে গেছে। এই জিন তাকে আগেও নিয়ে এসেছিলো। আবার বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে। সে তার বাবা-মা কারোরই মোবাইল নাম্বার বা ঠিকানা বলতে পারছিল না।

পরে তিনি ইউএনও রুহুল আমিনের পরামর্শ চান। ইউএনও ওই কিশোরীকে জেলা সমাজসেবা অধিদফতরে হস্তান্তরের চেষ্টা করছিলেন। এর মধ্যে রাত ৮টার দিকে কিশোরীর পরিবারের হদিস পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মা, চাচাসহ স্বজনরা ইউএনও কার্যালয়ে আসেন। তারা পারিবারিক অ্যালবামের ছবি দেখান। বাড়ি ফেরার আগে জানতে পারি তার আসল নাম মিতু। তার বাড়ি মিরসরাইয়ে।

মিতুর চাচা মহিউদ্দিন জানান, রমজানের পরও তার এমন সমস্যা হয়েছিলো। এবার পাশের ইউপিতে চলে যায়। দুপুরে তাকে পাওয়া যায় শাহ আলম হুজুরের বাড়িতে। তাদের পরিবারে দুপুরের খাবার খায়। 

রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সানজিদাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন ইউএনও। 

এ সময় সানজিদার মা সুরাইয়া আক্তার বলেন, আমার মেয়েকে নিরাপদে ফিরে পাওয়ায় ইউএনও এবং ইউপি চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

তবে ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, কিশোরীর বয়সন্ধিকালীন কোনো মানসিক চাপের কারণে এ রকম ঘটতে পারে। সন্তানদের প্রতি সবার খেয়াল রাখা উচিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস