Alexa ৬০০ জন মিলে ডাকাতি করল একটি ব্যাংক

৬০০ জন মিলে ডাকাতি করল একটি ব্যাংক

সৌমিক অনয়  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৩ ১২ জুলাই ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বযুদ্ধে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত এক দেশ থেকে পৃথিবীর সবথেকে উন্নত দেশে পরিনত হয় জাপান। আর এর পেছনে কাজ করেছে জাপানিজ জনগণের মেধা এবং কঠোর পরিশ্রম। জাপানিজরা শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রম এর জন্যই বিখ্যাত নয়। জাপানিজদেরকে পৃথিবীর সবথেকে ভদ্র জাতি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। আবার অপরাধের দিক থেকেও পিছিয়ে নেই জাপান। সেখানে রয়েছে ভয়ংকর অপরাধী সংঘ ইয়াকুজা। এছাড়াও জাপানের ইতিহাসে ঘটে গেছে এমন কিছু ব্যাংক ডাকাতি যা সিনেমাকেও হার মানায়। আবার এসকল চাঞ্চল্যকর ডাকাতিতে ক্ষতি হয়নি কোন জান মালের! তাহলে জেনে নেয়া যাক জাপানের ইতিহাসের সবথেকে চাঞ্চল্যকর কিছু ব্যাংক ডাকাতি।

সেভেন ইলেভেন ডাকাতি 
এই ডাকাতিকে জাপানের ইতিহাসের সবথেকে বড় ডাকাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেখানে মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে ডাকাতি হয় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইয়েন! ঘটনাটি ঘটে ২০১৬ সালের ১৫ মে। অন্যদিনের মতই জাপানে একটি নতুন দিন শুরু হচ্ছিল। কিন্ত সকাল ৫ টার দিক থেকে জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় সুপার শপ সেভেন ইলেভেনের শাখা গুলোর সেভেন ব্যাংক এর এটিম বুথ থেকে কিছু মানুষ একে একে উঠাতে থাকে এক লাখ ইয়েন। যা একদিনে একবার একজন ইউজার উঠাতে পারে। পরবর্তী প্রায় দুই ঘন্টায় অর্থাৎ সকাল ৭ টা পর্যন্ত পুরো জাপানে অবস্থিত প্রায় ২৪ হাজার শপ থেকে একই উপায়ে উঠানো হয় এক লাখ ইয়েন। সর্বোমোট ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইয়েন। 

পুলিশ বা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় জাপানিজ ইতিহাসের সবথেকে বড় ডাকাতি। পরবর্তীতে ব্যাংক কতৃপক্ষ ব্যপারটি বুঝতে পারে এবং পুলিশের সাহায্য নেয়। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে পুলিশ দেখতে পারে প্রায় ৬০০ জন আলাদা মানুষ মিথ্যা বিদেশি এটিএম কার্ড ব্যবহার করে এই টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু পুলিশ এই ৬০০ জনের কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি। তবে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের ধারণা এত লোকবল সহ এমন কোনো অর্গানাইজড ক্রাইম একমাত্র ইয়াকুজাই সংগঠিত করতে পারে। কিন্তু এ সম্পর্কে কোনো প্রমাণ নেই বলে এই ডাকাতির রহস্য এখনো অজানা।

দ্য ৩০০ মিলিয়ন এফেয়ার 
এটি জাপানের আরেকটি বড় অমীমাংসিত ডাকাতি যা সিনেমাকেও হার মানায়। তাছাড়াও এই ডাকাতি সংগঠিত করে শুধুমাত্র একজন। ঘটনাটি ঘটে ১৯৬৮ সালের ১০ ডিসেম্বর। ডাকাতির কিছুদিন আগে ডাকাত পেপার কাটিং এর মাধ্যমে টকিওর নিওন সিনটাকু গিংকো ব্যাংকের ম্যানেজারকে একটি চিঠি পাঠায়। এই চিঠিতে লেখা ছিল যদি ১০ ডিসেম্বর ডাকাতকে ৩০০ মিলিয়ন ইয়েন না দেয়া হয় তবে ম্যানেজারের পুরো পরিবারকে হত্যা করা হবে। ব্যাংকের ম্যানেজার ঘাবড়ে যায় এবং পুলিশকে বিষয়টি জানায়। ফলে পুলিশ তার বাড়িকে গার্ড দিতে শুরু করে। ভীত ম্যানেজার ১০ ডিসেম্বরও ব্যাংকে যায়। ১০ ডিসেম্বর ব্যাংকে একটি বড় ট্রাঞ্জেকশন হওয়ার কথা ছিল। ম্যানেজার সেই ট্রানজেকশন এর অর্ডার দেয়। 

এটি ছিল তসিবা এর সকল কর্মচারীদের বেতন। তিনি এই অর্থ তসিবা ফ্যাক্টরিতে পাঠানোর জন্য ব্যাংকের একটি গাড়ি পাঠায় সাথে দু’জন গার্ড এবং একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। তসিবা ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার পথে একটি পুলিশ বাইক গাড়িটি থামায় এবং গাড়িতে অবস্থিত কর্মকর্তাদেরকে বলে ম্যানেজারের বাড়িতে বিষ্ফোরণ হয় এবং হামলাকারীরা অন্য কর্মচারীদের উপরো হামলা করতে পারে। এই কথায় গাড়ির সকলে ভয় পায়। পুলিশ অফিসার তাদের গাড়ি থেকে বের হতে বলে যাতে তিনি গাড়ি চেক করতে পারে। গাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়ই একজন কর্মকর্তা গাড়ির নিচ থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখে বম্ব মনে করে। ফলে সকলে গাড়ি রেখে দৌড়ে পালায়। কিছুক্ষণ পর কোনো বিষ্ফোরণ না ঘটলে তারা গাড়ির কাছে এসে দেখেন গাড়ি নেই। 

তারা মনে করেছিলেন, পুলিশ অফিসার হয়তো গাড়িটি কোনো নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছেন। তারা ব্যাংকে ফিরে জানতে পারেন ম্যানেজারের বাসায় হামলা হয়নি এবং ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার কোনো ক্ষতিই হয়নি। ফলে তারা বুঝতে পারে ডাকাত আসলে পুলিশ সেজেই টাকার গাড়ি নিয়ে পালায় এবং গাড়িতে ঠিক ডাকাতের চিঠির মতই ৩০০ মিলিয়ন ইয়েন ছিল। পরবর্তীতে ঘটনা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ক্রাইম সিনে গিয়ে অবাক হয়। বুদ্ধিমান ডাকাত পুলিশকে বিভ্রান্ত করার জন্য প্রায় ১০৩ টি ক্লু ছেড়ে যায়। ফলে পুলিশ ডাকাত সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি। ঘটনার ৬০ বছর পার হয়ে গেলেও কেস এখনো আনসলভড।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics
Best Electronics