৫০ বছর পর ঘর বাঁধার স্বপ্ন

৫০ বছর পর ঘর বাঁধার স্বপ্ন

ফরিদপুর প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৩২ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:৩৫ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফরিদপুরের সদরপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙন রোধে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে নদী তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিংয়ের কাজ। 

এই কাজ সম্পন্ন হলে এই নদীতে ফি বছরের ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে। এতে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি রক্ষার পাশাপাশি বাড়ি ঘর রক্ষা পাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থ বছর থেকে আড়িয়াল খাঁ নদের তীর সংরক্ষণের এই কাজ শুরু হয়। 

২শ’৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে দশটি গ্রুপে বিভক্ত এ কাজের মধ্যে ৫ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ ও ৬ দশমিক তিন কিলোমিটার নদীর ড্রেজিং কাজ করা হবে। ২০২১ সালের জুনে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে।

ওই এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা চরাঞ্চলের কৃষক হবি খাঁ (৫৮) বলেন, জন্মের পর থেকেই আড়িয়াল খাঁর ভাঙনের শিকার। চারবারের ভাঙনের পর বর্তমান স্থানে বসত গড়েছি। 

এখন নদীর তীর বাঁধাইয়ের কাজটি ভালভাবে শেষ হলে তারা পরিবার নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।

নুরুল আলম নামে এক কৃষক জানালেন, গত ৫০ বছর যাবত এই আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙন দেখেছি। এখন এই কাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে বসত গড়ার স্বপ্ন দেখছি আবার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আড়িয়াল খাঁ নদের বলাশিয়া নামক স্থান থেকে কাজের শুরু হয়েছে। সেখানে নদীর তীরে ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। পাশাপাশি চলছে ব্লক তৈরির কাজ। ড্রেজিং শেষে নদীর তীরে এসব ব্লক প্রতিস্থাপন করে পাড় বাঁধাই করে দেয়া হবে।

ওই কাজের ১ নম্বর প্যাকেজের নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গত বছরের নভেম্বরে কার্যাদেশ পেয়ে ড্রেজিং ও ব্লক তৈরির কাজ শুরু করেন। 

তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত ৬০ ভাগ ড্রেজিং সম্পন্ন হয়েছে। ব্লক তৈরি হয়ে গেছে প্রায় নব্বই ভাগ। 

ফরিদপুর-৪ আসনের স্থানীয় এমপি মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর সদরপুর ও চরভদ্রাসনে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছিলো প্রধান অঙ্গীকার।

তৎকালীন পানি সম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে নিয়ে সরেজমিনে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর করা হলে জনগুরুত্ব এই প্রকল্পের অনুমোদন পায়। 

প্রকল্প কাজ বাস্তবায়ন হলে এই এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছলতাও ফিরে আসবে বলে তিনি জানান। 

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, জেলার তিনটি বড় নদীর মধ্যে আড়িয়াল খাঁ একটি। 

স্বাধীনতার পর থেকে এই এলাকার মানুষ আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনের শিকার হচ্ছেন। প্রতি বছরেই বর্ষা মৌসুমে আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হতো। 

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এসব ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে। কাজের মান যাতে ভাল হয় সেজন্য নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট মেয়াদেই কাজটি সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে