৪ লাখ টাকা পেয়েও প্রদীপের ‘ইয়াবা নাটক’, নির্দোষ প্রবাসী কারাগারে

৪ লাখ টাকা পেয়েও প্রদীপের ‘ইয়াবা নাটক’, নির্দোষ প্রবাসী কারাগারে

ফরহাদ আমিন, টেকনাফ (কক্সবাজার) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০৮ ৯ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৯:০৩ ৯ আগস্ট ২০২০

মহিউদ্দিনের মা জুবাইদা বেগম। ইনসেটে প্রদীপ

মহিউদ্দিনের মা জুবাইদা বেগম। ইনসেটে প্রদীপ

মহিউদ্দিন কামাল টেকনাফ সদর ইউপির ছোটো হাবিরপাড়ার আবু তাহেরের দ্বিতীয় ছেলে। ছিলেন দুবাই প্রবাসী। ১১ জুলাই ঢাকায় আসেন। এরপর প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে তাকে থাকতে হয়েছে ১৪ দিন। ২৬ জুলাই বাড়ি পৌঁছান। ঈদের জন্য এক মাসের ছুটিতে এসেছিলেন। ২৯ জুলাই বাবা আর ছোট ভাইয়ের কেনাকাটা করতে টেকনাফ সদরের আলো শপিং কমপ্লেক্সে যান। ফেরার পথে ওসি প্রদীপের লোকজন তাকে মাইক্রোতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। থানায় গেলে প্রদীপ ১৫ লাখ দাবি করেন। 

এই মহিউদ্দিন কামালের মতো এমন আরো অনেকের জীবন এলোমেলো করেছে ওসি প্রদীপ। তার গ্রেফতারের পর মুখ খুলছেন ভুক্তভোগীরা।

মহিউদ্দিনের মা জুবাইদা বেগম। সরেজমিনে বাড়ি গেলে তিনি বলেন, ছেলেকে থানায় আটকে রেখেছিলেন ওসি প্রদীপ। এ খবর পাওয়ার পর থানায় যাই। তখন আমাদের কাছে বন্দুকযুদ্ধের ভয় দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। এরপর ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে সাড়ে চার লাখ টাকা নেন। এ টাকা নেয়ার পরও ৪০০ ইয়াবা দিয়ে কারাগারে চালান করে দেন ওসি।

এমন দুঃখজনক ঘটনা ছাড়া আর কি হতে পারে? বলে কান্না থামছে না জুবাইদা বেগমের। তিনি বলেন, ছেলে আমাদের সঙ্গে ঈদ করার জন্য দেশে এসেছিলেন। সেই ছেলেকে ইয়াবা দিয়ে কলঙ্কিত করেছেন প্রদীপ। এখন মনকে কিছুতেই বুঝাতে পারছি না। ছেলে কারাগারে। তার কথা মনে হলে আর খেতে পারি না।

জুবাইদা বেগম আরো বলেন, তখন কিছুই করার ছিলো না। উল্টো বন্দুকযুদ্ধ ও গুম করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছিল বারবার। আমার ছেলের মতো টেকনাফের এমন আরো অনেক প্রবাসী ছিলো ওসি প্রদীপের কাছে জিম্মি। এখন আমি চাচ্ছি আমাদের ছেলের মতো পরিণতি আর কোনো প্রবাসী ছেলের যেনো না হয়।

সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মাসে টেকনাফে ১৪৪টি ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২০৪ জন মারা গেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/টিআরএইচ