Alexa ৪৮ বছর পর আবারো ফিরলেন বঙ্গবন্ধু

৪৮ বছর পর আবারো ফিরলেন বঙ্গবন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:১১ ১০ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:৪৮ ১৯ জানুয়ারি ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী মঞ্চায়ন প্রত্যক্ষ্য করেন- পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী মঞ্চায়ন প্রত্যক্ষ্য করেন- পিআইডি

৪৮ বছর পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবারো ফিরলেন সোনার বাংলায়। সেই ডিসি-১০ বিমানে করে যুক্তরাজ্য থেকে দিল্লি হয়ে ঢাকার তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে (বর্তমানে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড) নামেন তিনি। তবে এবার সশরীরে নয়, লেজার রশ্মির প্রতীক আলোকবর্তিকা রূপে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির মধ্যে এসেছেন।

বঙ্গবন্ধু যখন নেমে আসছিলেন প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে জাতির পিতার প্রতি সম্মান জানান। পিতার এ আগমনে অশ্রুসজল হয়ে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। এরপর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউন (ক্ষণগণনা) ঘোষণার সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি তিনি।

এ সময় নেতাকর্মীদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে প্যারেড গ্রাউন্ড। লেজার রশ্মির আলোর মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি কিছু দূর এগিয়ে গেলে সশস্ত্র বাহিনী ২১ বার তোপধ্বনি এবং গার্ড অব অনার এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের এ সর্বাধিনায়ককে বরণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী ৪টা বেজে ২৫ মিনিটে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে তার সঙ্গে হেঁটে মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শিক্ষক প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, ছোট বোন-বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু’র জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং ঢাকাস্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলোর রাষ্ট্রদূতেরা।

এর আগে, শুরুতে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের জাতির পিতাকে নিয়ে গাওয়া অমর সেই গানের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু যে আর ডিসি-১০ বিমানে করে যুক্তরাজ্য থেকে দেশের মাটিতে ফিরে এসেছিলেন, সেই আদলের একটি বিমান আকাশ থেকে নেমে আসে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের মাটিতে। সঙ্গে সঙ্গে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে স্বাধীনতার মহান স্থপতিকে জাতীয় পতাকা নেড়ে বরণ করে নেয়া হয়।

৫টা ১৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অনলাইনে একসঙ্গে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার আনুষ্ঠানিকতা উদ্বোধন করেন। এ সময় শান্তির প্রতীক হিসেবে ১০০টি পায়রা উড়ানো হয়। এর আগে বক্তব্য দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বারবার অতীত স্মৃতিচারণ করে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরপরই একযোগে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষণগণনার ৮৩টি ঘড়ি চালু হয়। এক সঙ্গে সারাদেশের বিভাগীয় শহরগুলো, ৫৩ জেলা ও দুই উপজেলা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীতে মোট ৮৩টি পয়েন্টে কাউন্টডাউন ঘড়ি বসানো হয়েছে।

আগামী ১৭ মার্চ থেকে শুরু হবে মুজিব জন্মশতবর্ষের বছরব্যাপী কার্যক্রম। ১৭ মার্চ এ আয়োজন শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ। শুক্রবারের এ আয়োজনে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সরাসরি অংশ নেয় ১২ হাজার দর্শক। এছাড়া, সরকারি ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে ক্ষণগণনার মাহেন্দ্রক্ষণ সারাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/এস/এমআরকে/আরএজে/এসআই