Alexa ৪৮ ঘণ্টা সম্মুখ যুদ্ধের পর শত্রুমুক্ত হয় নালিতাবাড়ী

৪৮ ঘণ্টা সম্মুখ যুদ্ধের পর শত্রুমুক্ত হয় নালিতাবাড়ী

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৩:৪১ ৭ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৮:৩৮ ৭ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা মুক্ত দিবস আজ। ৪৮ ঘণ্টা সম্মুখ যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় এ উপজেলা।

শেরপুরের সীমান্তবর্তী এ পাহাড়ি জনপদের স্মৃতিতে আজও ভাস্বর হয়ে আছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দিনগুলো।

১৯৭১ সালের ২৫ মে এ উপজলায় আক্রমণ করে হানাদার বাহিনী। তারা বর্তমান উপজেলা পরিষদ, রামচন্দ্রকুড়া ফরেস্ট অফিস, হাতিপাগার তৎকালীন বিডিআর ক্যাম্প, তিনআনী বাজার, নাকুগাঁও স্থলবন্দরের ঢালু সীমান্তে কয়েকশ বাংলাদেশিকে হত্যার পর পাশের ভোগাই নদীতে ভাসিয়ে দেয়।

৩০ জুন মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তার অপরাধে তন্তর গ্রামের অর্ধশতাধিক নিরীহ মানষকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাক বাহিনী। নন্নী-বারমারী সড়কে মাইন বিস্ফোরণে সাত সেনাসহ একটি জিপ উড়ে যায়। এতে পাকবাহিনী আতংকিত হয়ে পড়ে।

২৫ জুলাই সোহাগপুরে নারী-শিশুসহ ১৮৭ জন গ্রামবাসীকে হত্যা করে।

১ ডিসেম্বর নালিতাবাড়ীকে শত্রুমুক্ত করতে প্রথম আক্রমণ চালায় মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু সফল হতে পারেনি তারা। ওইদিন দুই যোদ্ধা শহীদ হন। রাজাকাররা দুই যোদ্ধার মরদেহ নিয়ে পৈশাচিক উল্লাসে মেতে ওঠে। তাদের পায়ে রশি বেঁধে টেনে নিয়ে শহরের অদূরে মাটি চাপা দেয়।

৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মিত্রবাহিনীর একটি ও মুক্তিযোদ্ধাদের দুটি দলের সমন্বিত আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে হানাদাররা। টানা দুইদিন দুইরাত স্থায়ী ওই সম্মুখযুদ্ধে পরাস্ত হয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায় হানাদার-রাজাকাররা।

৭ ডিসেম্বর সকালে নালিতাবাড়ীর আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হয় জয়বাংলা স্লোগান।

প্রতিবছরের মতো এবারো দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও বিভিন্ন সংগঠন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর/টিআরএইচ