Alexa ৪৩ বছর ধরে প্রতারণা, অবশেষে গ্রেফতার বারেক

৪৩ বছর ধরে প্রতারণা, অবশেষে গ্রেফতার বারেক

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:১০ ২৬ মে ২০১৯   আপডেট: ২০:৩৩ ২৬ মে ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছেন শত-শত কোটি টাকা। প্রতারণার টাকায় হয়েছেন অঢেল সম্পত্তির মালিক। অবশেষে র‌্যাবের জালে ধরা পড়েছে বারেক সরকার ওরফে বারেক হাজী নামের সেই প্রতারক।

রোববার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তার ৪৩ বছরের প্রতারণার বিবরণ তুলে ধরেন র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।

তিনি জানান, গতকাল ২৫ মে গভীর রাতে রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. বারেক সরকার ওরফে বারেক হাজীকে তার ৪ সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার অন্যরা হলেন- মো. হাবিবুর রহমা (২৪),  মো. জাকির হোসেন (৫৮), মো. আক্তারুজ্জামান (২৮) ও মো. শাহরিয়ার তাসিম (১৯)।চৌধুরী

মঞ্জুরুল কবির বলেন, আরসিডি নামক প্রতারণার একটি সংগঠন তৈরি করে বারেক। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা। তার গ্রুপের প্রতিটি সদস্য কৌশলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনটির কর্পোরেট অফিস রয়েছে। সেখান থেকেই তারা প্রতারণা করত।

তিনি বলেন, প্রতারকরা রাজধানীর ভিআইপি জায়গাগুলোতে অফিস ভাড়া নেয়। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি  কর্মকর্তারাই থাকত তাদের প্রধান টার্গেট। তাদের কোম্পানীতে ওই কর্মকর্তাদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে শেয়ার হোল্ডার হতে আহ্বান জানানো হত। অফিস কর্মকর্তাদের চালচলন, ব্যবহার ইত্যাদিতে অভিভূত হয়ে ওই কর্মকর্তারা তাদের অবসরকালীন সব টাকা সরল বিশ্বাসে বিনিয়োগ করে এবং বিনিয়োগের কয়েক দিনের মধ্যেই অফিস ছেড়ে উধাও হয়ে যায় প্রতারকরা।

এ ছাড়া চক্রের সদস্যরা কয়েক কোটি টাকার অর্ডারের ফাঁদে ফেলে দেশের বিভিন্ন এলাকার তাঁত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার স্যাম্পল নেয়। এরপর কয়েক কোটি টাকার মালামাল তৈরিতে যে পরিমাণ কাঁচামাল প্রয়োজন (সুতা, রং ইত্যাদি) তা সরবরাহের কথা বলে অগ্রিম হিসেবে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে জানান চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের জমি বা নির্মাণাধীন ভবনের ওপর ইন্টারনেট টাওয়ার স্থাপনের প্রলোভন দিয়ে ভবন মালিকের কাছ থেকে কৌশলে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এই প্রতারকরা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকার মসজিদ-মাদরাসায় এনজিওয়ের পক্ষ থেকে বিনা খরচে সৌর প্যানেল বসানোর কথা বলে কৌশলে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। 

তিনি জানান, প্রতারক চক্রের মূলহোতা বারেক সরকার ১৯৫৬ সালে কুমিল্লার দাউদকান্দির বাহেরচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা জীবনে প্রাথমিকের গন্ডিও পার হতে পারেনি। তারা বাবা-মা ১৮ বছর বয়সে তাকে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সেখানে গিয়েও আসেনি সফলতা। কিন্তু প্রতারণার নতুন-নতুন কৌশল আয়ত্ব করে মাত্র দুই বছর পর বাংলাদেশে ফিরে আসে বারেক। এরপরই শুরু করে বিভিন্ন প্রতারণা। 

র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক আরো বলেন, বারেকের দুই সন্তান মেহেদী হাসান হাবিব এবং আল-আমিন সরকার রাজসহ তার ভাগিনা শাহাদাৎ হোসেন এই প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য। তারা গত ২ মার্চ গ্রেফতার হয়। প্রতারণার মাধ্যম বারেক কোটি কোটি টাকা অবৈধ উপার্জন করে ঢাকা শহরে নিজের নামে ফ্ল্যাট, গাড়ি, গ্রামের বাড়ি কুমিল্লাতে জমি-জমাসহ অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/আরএইচ

Best Electronics
Best Electronics