Alexa ৪২ চিকিৎসক প্রেষণে শহরে, সেবা ব্যাহত

৪২ চিকিৎসক প্রেষণে শহরে, সেবা ব্যাহত

মো. আবু কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫৬ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২২:৪৯ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত ৪২ জন চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে প্রেষণে কাজ করছেন ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে।

উপজেলা ও ইউপি পর্যায়ে পদায়ন হওয়ায় এসব চিকিৎসক শহরে চলে যাওয়ায় ব্যহত হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা।
 
এই ৪২ জনের মধ্যে ১৮ জন এই জেলায় যোগদানের পরেই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেষণে চলে গেছেন। আরো দুইজন চলে গেছেন অন্য জেলায়। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এসব প্রেষণ বাতিলের জন্য বার বার স্বাস্থ্য অধিদফতরে বলা হলেও কোনো কাজ হয়নি। 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র বলছে, এই জেলায় শূন্যপদের বিপরীতে পদায়ন হওয়ার পর যে ১৮ জন চিকিৎসক প্রেষণে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চলে গেছেন। তারা হলেন- সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা রেহেনা নাসরিন, ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা শাহানা পারভীন, ঘাটাইলের সন্ধানপুর ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন সাদিয়া নুর আফরোজ, মধুপুরের আউশনারা ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন অরুনাংশু রাহা, ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহাকারী সার্জন সাঈদ হোসেন সোহাগ, ওই উপজেলার নিকরাই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা ফৌজিয়া আক্তার, বীরহাটি ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা ফাহমিদা হাসান, সখীপুরের বড়চওনা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা আশরাফি সারমিন, হাতীবান্ধা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন সুশান্ত কুমার সাহা, ধনবাড়ী উপজেলার ধোপাখালি ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন নাশাত জাবীন, পাইশকা ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন সারেফা সুলতানা, বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন সুলতানা রাজিয়া খান, নাসরিন তাহমিনা, বাসাইল উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা মাকসুদা জামান মহুয়া, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন সুমন সাহা, গোপালপুর উপজেলার ঝাউয়াইল উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা নগদা শিমল অবন্তি ঘোষ, মির্জাপুর ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন সুদীপ্ত কুণ্ড।

এছাড়াও সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী সার্জন ফেরদৌসী সুলতানা জামালপুরে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে, মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা (হোমিও) মো. রোকনুজ্জামান ময়মনসিংহে, সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন মামুনুর রশীদ মানিকগঞ্জে প্রেষণে কাজ করছেন।

একইভাবে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত ২১ জন টাঙ্গাইল শহরের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও টাঙ্গাইল পুলিশ হাসপাতালে প্রেষণে চলে এসেছেন।

তারা হলেন- ঘাটাইলের দিঘলকান্দি ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন শ্রাবন্তি ভূইয়া, কালিহাতীর বল্লা ইউপি স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্রের সহকারী সার্জন শিবলি চৌধুরী, মধুপুরের আলোকদিয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা তানজিনা আফরিন খান, ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাজিয়া আফরিন, ওই উপজেলার অর্জুনা ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন চৌধুরী, শিয়ালখোল উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন, সখীপুরের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রতন, নাগরপুরের পাকুটিয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা সৌমিত্র চক্রবর্তী, ভাদ্রা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা পিয়া রায়, মোকনা ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন সৃজন সাহা, দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ (গাইনি) ফরিদা ইয়াসমিন, চিকিৎসা কর্মকর্তা সোনিয়া পারভীন, ইসরাত জাহান, দেউজান উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবিবুর রহমান, ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ (গাইনি) নাজমা খলিল, বীরতারা ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন অর্পনা সরকার, মির্জাপুরের ছাওয়ালি ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা জিনাত রহমান, মির্জাপুর ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন রাহাত চৌধুরী, বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. জাহিদুজ্জামান, ময়থা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা আশরাফি খান, কাউলজানি ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী সার্জন তাসমিন সুলতানা।

স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র বলছে, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে এই চিকিৎসকরা গ্রাম পর্যায়ে পদায়ন হলেও দিনের পর দিন প্রেষণে কাজ করছেন শহরে। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউপি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক হিসেবে বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। কিন্তু ওইসব উপজেলা বা ইউপির মানুষ তাদের সেবা পাচ্ছেন না। চিকিৎসকদের প্রেষণ বাতিল করে নিজ নিজ পদায়নকৃত জায়গায় ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলেও কোনো ফল পাচ্ছেন না জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা। 

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন মো. শরীফ হোসেন খান জানান, প্রেষণে চিকিৎসকরা শহরমুখী হওয়ায় উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রেষণ বাতিলের জন্য তিনি একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম