Alexa ৪০০ বছর ধরে চলছে ‘শয়তানের লাফ’

৪০০ বছর ধরে চলছে ‘শয়তানের লাফ’

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১২ ৬ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৩:১২ ৮ আগস্ট ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শিশুদের যাতে নজর না লাগে, এর জন্য অনেক মা-বাবাই নানা কিছু করে থাকেন। এসব কুসংস্কার অনেকের ভিতরে এমন ভাবেই থাকে যে, তারা অনায়াসেই অনেক মারাত্মক কিছু করে ফেলেন। এমনই এক ভিন্ন রীতি শয়তান তাড়ানোর উৎসব। অবাক হলেও সত্যি, স্পেনেই আছে এমন এক উৎসব।

শ্বেতশুভ্র বিছানায় গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো। তার ওপর সারি সারি শুয়ে আছে সদ্য জন্মানো থেকে শুরু করে এক বছর বয়সি শিশু। একজন অদ্ভুত পোশাক পরিহিত লোক শিশুদের ওপর দিয়ে লাফিয়ে পার হয়ে যাচ্ছে। আর চারপাশে গোল হয়ে দাঁড়ানো শিশুদের মা-বাবা ভয় পাওয়ার বদলে উৎফুল্লবোধ করছেন।

যে দৃশ্যের বর্ণনা করা হলো সেটি উত্তর স্পেনের কাসট্রিলো ডি মুরসিয়া শহরের শিশুদের ওপর থেকে শয়তানের কু-প্রভাব তাড়ানোর উৎসবের চিত্র। উৎসবের নাম এল সাল্টো ডেল কোলাচো বা এল কোলাচো। স্প্যানিশ থেকে বাংলা করলে এর অর্থ দাঁড়ায়- শয়তানের লাফ।

এই উৎসবের বয়স প্রায় চারশ বছর। ১৬২০ সাল থেকে প্রতিবছর এই উৎসব পালিত হয়। প্রতি বছর জুন মাস মহাসমারোহে কাসট্রিলো ডি মুরসিয়া শহরে এই উৎসব পালিত হয়। চলতি বছর উৎসবটি ২৩ তারিখ পালিত হয়েছে। শহরের ক্যাথলিক রীতির অনুসারী বাসিন্দারা মনে করেন এর মাধ্যমে তাদের নবাগত সন্তানের ওপর থেকে শয়তানের কু-প্রভাব দূর হয়।

স্থানীয় স্যানটিসিমো স্যাকরামেন্টো ডি মিনারোভার পাদ্রীরা উৎসবের আয়োজন করে। যিনি শিশুদের ওপর দিয়ে দৌড়ান তিনি এই পাদ্রী সম্প্রদায়েরই একজন। তার সাজ পোশাক থাকে শয়তানের মতো। একহাতে একটি চাবুক এবং অন্যহাতে ক্যাসটেন্টোস (এক রকম স্প্যানিশ বাদ্য যন্ত্র) থাকে।

উৎসবে যেসব শিশুদের শুইয়ে রাখা হয় তাদের প্রত্যেকের জন্ম এই শহরে। কারণ এই শহরের বাইরে জন্ম নেয়া কোনো শিশু উৎসবে অংশ নিতে পারে না।

উৎসবের দিন শহরের বাসিন্দারা সন্তানের মঙ্গল কামনা করে বাড়ির দেয়ালে সাদা কাপড় ঝুলিয়ে দেন। সকাল ছয়টায় এই উৎসব শুরু হয়ে একশ শিশুর ওপর দিয়ে লাফানোর আগ পর্যন্ত চলে। শিশুদের ওপর দিয়ে লাফানো শেষ হলে এরপর শয়তানরূপী পাদ্রী যুবক-যুবতীদের ধাওয়া দেয়। যতক্ষণ শয়তান দৌড়ে যুবক-যুবতীদের ধরতে না পারে ততক্ষণ এই দৌড় চলমান থাকে।

গত চারশ বছর ধরে নিয়ম মেনে শহরটিতে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। স্থানীয়রা জানান, এই দীর্ঘ সময়ে কোনো শিশু কোনো রকম দুর্ঘটনার শিকার হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ

Best Electronics
Best Electronics