৩৫ বছর পর রাজকুমার হত্যার বিচার পেল পরিবার

৩৫ বছর পর রাজকুমার হত্যার বিচার পেল পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:১১ ৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৩:১২ ৮ আগস্ট ২০২০

মান সিংহ; ছবিঃ সংগৃহীত

মান সিংহ; ছবিঃ সংগৃহীত

পুলিশের হাতে এক রাজকুমার হত্যার ৩৫ বছর পর বিচারের আওতায় আনা হল হত্যাকারীদের। ১৯৮৫ সালের এক শীতের দিনে এক সময়ের ভারতীয় রাজকুমার মান সিংহকে রাজস্থানের বাজারে পুলিশ হত্যা করে।

সিএনএন’র এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত ৩৫ বছর ধরে মান সিংহের মৃত্যুর জন্য কাউকেই দায়বদ্ধ করা হয়নি। গত মাসে অনেক আইনী লড়াইয়ের পর ১১ পুলিশ সদস্যকে তার হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

নিহতের পরিবার জানিয়েছে তাদের ন্যায়বিচার পেতে ৩৫ বছরে মোট ১৭০০ আদালতের তারিখ লেগেছে। বিচারকাজটি এত দীর্ঘ সময় নিয়েছে যে দোষী সাব্যস্ত পুলিশ সদস্যদের সবাই এখন ষাট বা তার বেশি বয়সী। তাছাড়া অভিযুক্ত চার পুলিশ সদস্য রায়ের আগেই মারা যান।

মান সিংহের মতো জ্বলন্ত প্রকৃতি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সেদিন আসলে কী ঘটেছিলো তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কয়েক দশক ধরেও ডিউটিতে থাকা পুলিশ অফিসাররা ও প্রাক্তন এই রাজকুমারের স্বজনরা এ বিষয়ে একমত হতে পারেননি।

প্রাচীন শতাব্দীর রাজকীয় বংশের রাজা মান সিংহের পরিবার দাবি করে যে, রাজ্যের সর্বোচ্চ রাজনীতিবিদের আদেশক্রমে হত্যা করা হয়েছিলো তাকে।

তবে পুলিশ বলেছে যে, তারা আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালিয়ে একজন উত্তেজনাপূর্ণ মানুষকে হত্যা করেছিলো। পুলিশ আরো জানায় তিনি নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে বলে মনে করেছিলেন।

ভারতের ক্ষেত্রে এ ঘটনাটি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ জনসাধারণ হত্যার জন্য পুলিশকে দোষী সাব্যস্ত করা ভারতে বিরল। ভারতে এটি এনকাউন্টার হত্যাকাণ্ড নামেও পরিচিত।

মান সিংহের পরিবার উল্লেখ করেছেন, তাদের রাজবংশের না হলে হয়তো কোনো ন্যায়বিচার পাওয়া যেত না।

উল্লেখ্য, ভারতের স্বাধীনতার পরের দশকগুলোতে মান সিং নিজেকে একজন দক্ষ রাজনৈতিক শক্তি প্রমাণ করেছিলেন। ১৯৮৫ সালের মধ্যে তিনি রাজস্থানের টানা ছয়টি আইনসভা নির্বাচন জিতেছিলেন। ১৯৮৫ সালে তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে সপ্তম বারের জন্য প্রচার চালাচ্ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ