Alexa ৩৫ বছর ধরে ঝুলে আছে স্কুলের এমপিওভুক্তি

৩৫ বছর ধরে ঝুলে আছে স্কুলের এমপিওভুক্তি

জালাল উদ্দিন সাগর, চট্টগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:২৫ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৮:০৪ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

৩৫ বছর ধরে ঝুলে আছে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কেআরসি হাইস্কুলের এমপিওভুক্তি। নানা অজুহাতে স্কুলটির এমপিওভুক্তি না হওয়ায় হতাশ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী,শিক্ষক ও অভিভাবকরা। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান! 

কাপ্তাইয়ে ১৯৫৩ সালের কর্ণফুলি পেপার মিলস লিমিটেড( কেপিএম)  এবং পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে কর্ণফুলি রেয়ন মিলস ( কেআরসি) প্রতিষ্ঠার পর এই দুই শিল্প কারখানায় কর্মরত কর্মকর্তা ও শ্রমিক কর্মচারীদের সন্তানদের পড়ালেখার জন্য গড়ে উঠে ঐতিহ্যবাহী কেপিএম এবং কেআরসি স্কুল। বাংলাদেশ কেমিক্যালস ইন্ড্রাস্ট্রিজ কর্পোরেশন ( বিসিআইসির) নিয়ন্ত্রণে এই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন ভাতাসহ যাবতীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হতো। 

২০০২ সালের ১৫ ডিসেম্বর কেআরসি মিলস সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়ার ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকেই নানা সংকটে পড়ে কেআরসি স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থা। ২০০২ সালের পর থেকে চাকরি ছেড়ে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন স্কুলের অনেক শিক্ষক। 

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম জানান, বর্তমানে ছয়জন শিক্ষিকা ও চারজন শিক্ষক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যস্ত ৩৫৪ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করান। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া সামান্য টিউশন ফি দিয়ে শিক্ষকদের অতি সামান্য বেতন দেয়া হয়। 

তিনি জানান, শিক্ষকদের বেতনের হার এত কম যে, যা দিয়ে কোনো শিক্ষকের পরিবার তো দূরের কথা নিজের খরচও মেটানো সম্ভব না।

প্রধান শিক্ষক বলেন, এমপিওভুক্ত হলে জীবনধারা বদলাবে এমন প্রত্যাশায় সামান্য সম্মানীতে স্কুলে পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষকরা। কিন্তু ৩৫ বছর পরও যখন স্কুলটি এমপিওভুক্ত হলো না তখন সবাই হতাশ হয়ে পড়েছেন। 

তিনি আরো বলেন, যে দেশে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ফ্রি করা হচ্ছে। সেখানে একটি স্কুলকে এমপিওভুক্ত হতে ৩৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে কেন ? 

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মফিজুল হক জানান, এই মুহূর্তে কেআরসি উচ্চ বিদ্যালয় এমপিও ভুক্ত হওয়া খুবই জরুরি, না হলে অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

কাপ্তাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদির আহমেদ বলেন, অনেকটা স্বেচ্ছাশ্রম ও শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি দিয়ে এই স্কুলের পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা সহজকরণে অনেক আন্তরিক। আশা করছি খুব দ্রুত বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের নজরের আসবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ