৩২ বছর পর বাবা হত্যার প্রতিশোধ নিতে খুন!

৩২ বছর পর বাবা হত্যার প্রতিশোধ নিতে খুন!

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:০১ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১২:০৫ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

১৯৮৭ সালে আইয়ুব বাহিনীর প্রধান মো. আইয়ুব দিনে দুপুরে আব্দুস সাত্তার তালুকদারকে জবাই করে হত্যা করেন। ঘটনার ৩২ বছর অপেক্ষার পর ভাড়াটে লোক দিয়ে বাবার খুনি আইয়ুবকে গুলি করে হত্যা করান নিহতের দুই ছেলে মহসিন ও হাছান।

সোমবার সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল্লাহ কায়সারের আদালতে এমন স্বীকারোক্তি দেন মহসিন ও হাছানের ভাড়াটে পাঁচ খুনি।

এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও রাঙ্গামাটির রাজস্থলী থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পিবিআই।

গ্রেফতাররা হলেন- আব্দুল আজিজ প্রকাশ মানিক, মো. আজিম, আব্দুল জলিল, মো. রুবেল ও মো. মহিন উদ্দিন।

পিবিআই চট্টগ্রামের অতিরিক্ত এসপি মো. রেজাউল করিম জানান, রাঙ্গুনিয়ায় আব্দুস সাত্তার তালুকদারকে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যা করেন আইয়ুব বাহিনীর প্রধান মো. আইয়ুব। ঘটনার পর বাবা হত্যার প্রতিশোধ নিতে ৩২ বছর ধরে নানাভাবে চেষ্টা করছিলেন নিহত আব্দুস সাত্তারের ছেলে মহসিন ও হাছান। অবশেষে ২০১৯ সালে ভাড়াটে খুনির সাহায্যে মো. আইয়ুবকে গুলি করে হত্যা করান মহসিন ও হাছান।

তিনি আরো জানান, গ্রেফতার পাঁচজন হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আইয়ুবকে হত্যা করতে মহসিন ও হাছান তাদের ভাড়া করেছিলো। এছাড়া আব্দুস সাত্তারের ছেলেদের ভাড়া করা আরো কয়েক খুনি পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় আইয়ুব বাহিনীর প্রধান মো. আইয়ুবকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে আইয়ুবের স্ত্রী রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ সাড়ে তিন মাস তদন্ত করে হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি। পরে আদালত মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। 

কে এই মো. আইয়ুব?

চট্টগ্রামের ত্রাস হিসেবে পরিচিত আইয়ুব বাহিনীর প্রধান মো. আইয়ুর। তার হাতে বিভিন্ন সময় খুন হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর, রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। তার বিরুদ্ধে ডজনের ওপর হত্যা মামলা ছিল। নৃশংস ঘটনার জন্য আইয়ুবকে মানুষ ভয় পেত।

আইযুবের বিরুদ্ধে যত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ১৯৮৫ সালে অবসরপ্রাপ্ত মেজর ওয়াদুদ হত্যা, ১৯৮৬ সালে মেহেরুজ্জামান হত্যা, ১৯৯১ সালে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোবহান হত্যা, একই সালে গফুরকে হত্যা, ১৯৯২ সালে নুরুল ইসলাম হত্যা।

এছাড়া ১৯৯১ সালে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোবহান হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য দিতে আদালতে যাওয়ার সময় নিহতের দুই ছেলে কবির ও সবুরকে ধরে খেঁজুর কাঁটা দিয়ে চোখ উপড়ে ফেলেন আইয়ুব।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ