Alexa ২৭ বছরের যুবককে রতন টাটার সরাসরি ফোনে চাকরির প্রস্তাব!

২৭ বছরের যুবককে রতন টাটার সরাসরি ফোনে চাকরির প্রস্তাব!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪৭ ২১ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৭:৫২ ২১ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মুম্বাইয়ের বাসিন্দা শান্তনু নায়ডু। সম্প্রতি রতন টাটার কাছ থেকে ফোন পেয়েছে ২৭ বছরের ওই যুবক। এতে সরাসরি তাকে চাকরির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। 

সম্প্রতি ‘হিউম্যানস অব বম্বে’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়েছেন শান্তনু নায়ডু। ওই পোস্টটি এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

এতে লেখা হয়েছে, ঘটনাটা ২০১৪ সালের। একদিন অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় দেখেন, একটি কুকুর রাস্তায় মৃত পড়ে আছে। বিষয়টি শান্তনুর বিবেককে নাড়া দেয়। এরপর তিনি ভাবতে থাকেন, পথকুকুরদের এভাবে মৃত্যু কীভাবে ঠেকানো যায়।

এ বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর তিনি শহরের একটা অংশের পথকুকুরদের গলায় একটা করে কলার পরিয়ে দিলেন। ওই কলারগুলোতে আলো পড়লেই তা ঝলমলে হয়ে ওঠে। ফলে রাতে গাড়ির আলো দূর থেকে পড়লেই কলারগুলো নজরে আসবে চালকের। সঙ্গে কুকুরগুলোও নজরে পড়বে।

শান্তনুদের এই কাজ টাটা গ্রুপের নিউজ লেটারেও প্রকাশ পায়। এরপর প্রচুর মানুষ কুকুরের জন্য ওই কলার কিনতে চান। কিন্তু ওই পরিমাণে কলার সরবরাহ করার সামর্থ শান্তনুর ছিল না। তার বাবা শান্তনুকে বিষয়টি রতন টাটাকে বলার পরামর্শ দেন। পরে রতন টাটাকে একটি চিঠি লেখেন শান্তনু।

এর প্রায় দু’মাস পর একটি চিঠি পান তিনি। সেই চিঠিতে রতন টাটার স্বাক্ষর। কয়েকদিন পর রতন টাটার মুম্বাইয়ের অফিসে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন শান্তনু। রতন তার কাজে যে ভীষণ আপ্লুত সে কথাও জানান। 

এরপর রতন তার ব্যক্তিগত কুকুরগুলো দেখানোর জন্য শান্তনুকে দায়িত্ব দেন। এভাবেই দুজনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। টাটাদের তরফে শান্তনুর কাজের জন্য আর্থিক সাহায্যও করা হয়। এরপর বন্ধুরা মিলে মুম্বাইয়ের পথকুকুরদের গলায় এই কলার পরানোর কাজ জোর কদমে শুরু হয়। এরপর পাঁচ বছর কেটে যায়। 

ফেসবুকের ওই পোস্টে শান্তনু জানিয়েছেন, সম্প্রতি একটি ফোন পান তিনি। উল্টো দিক থেকে বলা হয়, আমার অফিসে প্রচুর কাজ রয়েছে। একজন সহকারী প্রয়োজন। আপনি কি আমার সহকারী হিসাবে কাজ করবেন? 

চাকরির সুযোগের কথা শুনে শান্তনু কয়েক মুহূর্ত কোনো কথা বলতে পারেননি। কারণ তাকে ফোন দিয়েছিল রতন টাটা। নিজের সহকারীর খোঁজে শান্তনুকে নিজেই ফোন করেছেন! কী বলবেন বুঝতে পারছিলেন না শান্তনু। পর মুহূর্তেই তিনি ‘হ্যাঁ’ বলেন। সূত্র- আনন্দবাজার।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর