২৫ বছরে ২৪ বার এভারেস্টের চূড়ায়

২৫ বছরে ২৪ বার এভারেস্টের চূড়ায়

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:২৬ ২২ মে ২০১৯   আপডেট: ১৫:০৪ ২২ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

এভারেস্টে আরোহণ করার স্বপ্ন সবার থাকলেও সে স্বপ্ন পূরণ হয় ক’জনের! অনেকেই এভারেস্ট দেখতে গিয়ে তাতে হয়ত দু’এক কদম রেখে থাকবেন। তাই বলে প্রায় ৯ হাজার উচ্চতায় আরোহণ করতে পর্বারোহীরা যেখানে হিমশিম খায় সেখানে সাধারন মানুষের জন্য এটি মোটেই সহজ বিষয় নয়। তবে এভারেস্ট জয়ের পূর্ব ইতিহাসকে টপকে ২৪ বার মাউন্ট এভারেস্টে উঠে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন নেপালের কামি রিটা শেরপা।

গত ১৫ মে ২৩ বার বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে উঠে সবচেয়ে বেশি এভারেস্টে ওঠার রেকর্ড গড়েছিলেন। এক সপ্তাহের মধ্যে ফের সেখানে পৌঁছে নিজের রেকর্ডই ভাঙলেন ৫০ বছরের এই প্রৌঢ়। মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৩৮ মিনিট নাগাদ নেপালের দিক থেকে এভারেস্টে ওঠেন পেশায় শেরপা কামি। ১৯৯৪ সালে ২৪ বছর বয়সে প্রথম এভারেস্টে ওঠেন নেপালের সোলুখুম্বু জেলার থামে গ্রামের বাসিন্দা কামি।

পর্বতারোহীদের সঙ্গে কামিতারপর থেকে ২৫ বছরে মোট ২৪ বার এভারেস্টে পৌঁছেছেন তিনি। মাউন্ট এভারেস্টের পাশাপাশি কাঞ্চনজঙ্ঘা, চো-ইউ, লোতেসে ও অন্নপূর্ণাসহ হিমালয়ের ওই নির্দিষ্ট এলাকার প্রায় প্রতিটি শৃঙ্গই জয় করেছেন তিনি। ২৪ বার বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ স্পর্শ করার এই লম্বা সফরে ২১ বার তার সঙ্গী ছিলেন আপা শেরপা ও ফুরবা তাশি শেরপা। কামির সঙ্গে মোট ২১ বার এভারেস্টে ওঠার পর অবসর নেন তারা। কিন্তু যুবক বয়স থেকেই যেন এভারেস্টের প্রেমে পড়ে যান কামি! আর তাতে উৎসাহ যোগায় শেরপা পেশা।

যারা কর্মসূত্রে পরিবার ছেড়ে অন্যত্র থাকেন, তারা চেষ্টা করেন প্রতি সপ্তাহের শেষে অন্তত একবার বাড়ি ঘুরে যেতে। আর নেপালের বাসিন্দা ৪৯ বছরের কামি রীতা শেরপা প্রতি সপ্তাহে একবার এভারেস্টের চূড়ায় ঘুরে আসেন। এই তো গত ১৫ মে অন্য পর্বতারোহীদের নিয়ে এভারেস্টের চুড়োয় পৌঁছেছিলেন তিনি। তারপর নেমে ফের চললেন চূড়ার পানে। অবশেষে মঙ্গলবার পৌঁছে গেলেন এভারেস্টের চূড়ায়। পর্বতারোহীদের সঙ্গে মালপত্র নিয়ে ওঠেন শেরপারা। এভারেস্টকে তারা অনেকেই খুব ভাল করে চেনেন। অনেক বিপদও তারা আগে থেকে আঁচ করতে পারেন। সতর্ক করেন পর্বতারোহীদের। তবে শেরপাদের কাজ ঝুঁকির।

কামি রিটা শেরপাকামির মতো পর্বতারোহীরা রেকর্ড গড়তে কিংবা প্রাণের টানে যখন এভারেস্টে চড়েন তখন এই শেরপারা চড়েন তাদের পেটের টানে। থেম গ্রামের বাসিন্দা কামিও রোজগারের জন্যই শেরপার কাজ বেছে নেন। তারপর অনেকবারই হলো এভারেস্টে চড়া। ইতিমধ্যেই এভারেস্ট ছাড়াও কে২ বা অন্নপূর্ণার মতো ৮ হাজার মিটারের ওপরের শৃঙ্গ জয় করে ফেলেছেন কামি। পৃথিবীর ইতিহাসে এ যাবতকালে তিনিই এক শেরপা যিনি সর্বাধিকবার এভারেস্টে উঠেছেন।

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে ওঠার জন্য দুটি রাস্তা রয়েছে। একটি নেপাল ও অন্যটি তিব্বতের দিক দিয়ে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং বছরের বেশিরভাগ সময় বরফাচ্ছন্ন থাকায় কেবল মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত এভারেস্টে ওঠার অনুমতি মেলে। ১৯৫৩ সালে অ্যাডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে প্রথম এই শৃঙ্গে ওঠেন। তারপর থেকে এখনো পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি পর্বতারোী সেখানে উঠেছেন বেলে দাবি নেপালের পর্যটন দফতরের।

এবছর ১৪ মে থেকে এভারেস্টে ওঠার অনুমতি দিয়েছেন তারা। তারপর থেকে প্রায় ১ হাজার পর্বতারোহী এই শৃঙ্গে ওঠার চেষ্টা করেছন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে বিভিন্ন দেশের পর্বতারোহীদের একটি সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস