Alexa ২৪ ঘণ্টায় যেভাবে উদঘাটন হলো হত্যার রহস্য

২৪ ঘণ্টায় যেভাবে উদঘাটন হলো হত্যার রহস্য

পাবনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪৮ ১১ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৭:৫২ ১১ অক্টোবর ২০১৯

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

পাবনার মহিষ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হত্যার রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে পিবিআই। শুধু হত্যার রহস্য উদঘাটনই নয় তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতারও করেছে। বৃহস্পতিবার তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গত সোমবার পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সুগার মিলের কাছে রাস্তায় অজ্ঞাত হিসেবে এ মহিষ ব্যবসায়ীর মরদেহ হাত- পা বাঁধা অবস্থায় পড়েছিল। পরে মরদেহটি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের বলে শনাক্ত করা হয়। সে নাটোর সদর উপজেলার জয়নগর গ্রামের জান মোহাম্মদের ছেলে।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত গ্রেফতাররা হলেন, রমজান, মিজানুর,আব্দুস শুকুর ও আকছেদ। এরা আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। এদের নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারা শুধু দুটি মহিষ ছিনতাই করার জন্যই জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও হাত মুখ বেঁধে মেরে ফেলে। ওই সময়ে জাহাঙ্গীরের বাবা জান মোহাম্মদ ও ভাই সেলিমকে হাত-পা বেঁধে রাস্তায় ফেলে দেয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো চারজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

পিবিআই এর পাবনা জেলার প্রধান অ্যাডিশনাল এসপি তরিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা হয়। মামলার পর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ মামলার তদন্তভার পিবিআই, পাবনা জেলার উপর অর্পণ করা হয়। মামলাটির তদন্তের নির্দেশনা পেয়ে পিবিআইয়ের এসআই সামরুল হোসেনের ওপর তদন্তভার দেয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সামরুল হোসেন জানান, গত ৬ অক্টোবর জান মোহাম্মদ তার দুই ছেলে জাহাঙ্গীর ও সেলিমকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহী জেলার সিটির হাট থেকে দুটি মহিষ কেনেন। এরপর তারা মহিষসহ নিজেরা বাড়ি আসার জন্য একটি ট্রাক ভাড়া করেন। ওই ট্রাকটি ছিল ছিনতাইকারী চক্রের। ছিনতাইকারী চক্রের আটজন মহিষ ছিনতাই করার পরিকল্পনা করে।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সামরুল হোসেন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে আরো জানান, ওই রাতে মহিষের ট্রাক রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার পার হওয়ার পর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ছিনতাইকারীরা মহিষ মালিক তিন বাপ-বেটাকে হাত, পা ও মুখ বেঁধে মারপিট করে। এরপর গভীর রাতে তারা ট্রাক নিয়ে নাটোর বনপাড়ার পাশে জান মোহাম্মদ ও তার এক ছেলে জাহাঙ্গীরকে হাত, পা, মুখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে দেয়। ভোর রাতে জাহাঙ্গীরকে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার সুগার মিলের পাশে রাস্তার ধারে ফেলে দেয়। হাত, পা, মুখ শক্ত করে বাঁধার কারণে ট্রাকের ভেতরেই জাহাঙ্গীর মারা যান। এরপর ছিনতাইকারীরা মহিষ দুটি নিয়ে ঢাকা জেলার বাথুলী নামক হাটে বিক্রি করে টাকা ভাগ করে নিয়ে যে যার মতো চলে যায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সামরুল হোসেন জানান, আসামিরা অত্যন্ত চালাক প্রকৃতির। মামলার মূল রহস্য উদঘাটনসহ ডাকাতদের গ্রেফতার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অনেক কৌশল অবলম্বন করে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামলার স্বার্থেই বাকি আসামিদের নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

পিবিআই এর পাবনা জেলার অ্যাডিশনাল এসপি তরিকুল ইসলাম জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিরা একটি বড় গ্যাংয়ের সদস্য। তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় গরু মহিষ ছিনতাইসহ নানা অপরাধ করে থাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ