২২২ রানের পাহাড় টপকে ইংল্যান্ডের সিরিজ জয়

২২২ রানের পাহাড় টপকে ইংল্যান্ডের সিরিজ জয়

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:৩০ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি ছিল উত্তেজনায় ভরা। শেষ বলের রোমাঞ্চে ইস্ট লন্ডনে ১ রানে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ডারবানে শেষ বলেই ২ রানে জিতে সিরিজে ফিরেছিল ইংল্যান্ড। রোববার সেঞ্চুরিয়নে হলো রান বন্যা। ২২৩ রানের লক্ষ্য ৫ বল হাতে রেখে সহজেই তৃতীয় ম্যাচটি জিতলো ইংল্যান্ড।

৫ উইকেটের দুর্দান্ত জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ এ নিশ্চিত করলো ইংল্যান্ড। আগে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকা করে ৬ উইকেটে ২২২ রান। জবাবে ইংল্যান্ড ১৯.১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে করে ২২৬ রান।

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ, ইংল্যান্ডকে চাপে রাখতে টস জিতে ব্যাটিং নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও তেম্বা বাভুমা শুরু থেকে আগ্রাসী ছিলেন। মাত্র ২২ বলে ফিফটি করে উদ্বোধনী জুটি। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৬৪ রান।

সেঞ্চুরির পথে ছিল ডি কক ও বাভুমার জুটি। কিন্তু তাদের বিচ্ছিন্ন করেন বেন স্টোকস, ৮৪ রানে। অষ্টম ওভারে ডি কক ২৪ বলে ১ চার ও ৪ ছয়ে ৩৫ রানে জনি বেয়ারস্টোর ক্যাচ হন। ১ রানের কষ্ট নিয়ে পরের ওভারে বিদায় নেন বাভুমা। ২৪ বলে চারটি বাউন্ডারি ও তিনটি ছক্কায় ৪৯ রানে আদিল রশিদের বলে বোল্ড হন প্রোটিয়া ওপেনার।

তিন নম্বরে নেমে রাসি ফন ডার ডুসেনকে (১১) বেশিক্ষণ থাকতে দেননি স্টোকস। এরপর হেনরিক ক্লাসেন ও ডেভিড মিলারের ব্যাটে আবার ইংলিশ বোলারদের ওপর চড়াও হয় স্বাগতিকরা। মাত্র ৩১ বলে ৬৪ রান যোগ করেন দুই ব্যাটসম্যান। ২৫ বলে এক চার ও চার ছয়ে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ফিফটি করা ক্লাসেনের আউটে ভাঙে এ জুটি।

৩৩ বলে চারটি করে চার ও ছয়ে ইনিংস সেরা ৬৬ রান করে টম কারেনের বলে স্টোকসের ক্যাচ হন ক্লাসেন। শেষ দিকে মিলার ঝড়ে ২০০ ছাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন মিলার, যেখানে ৩ চার ও ২ ছয়।

ইংল্যান্ডের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন কারেন ও স্টোকস।

দেশের মাটিতে চতুর্থ সর্বোচ্চ স্কোরেও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৬২ রানে দুর্দান্ত শুরু করে ইংল্যান্ড। ১৫ রানে ওপেনার জেসন রয়কে (৭) হারালেও জস বাটলার ও জনি বেয়ারস্টো ফিফটি করেন। দুজনের ৯১ রানের জুটি ভেঙে একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিল স্বাগতিকরা। ৫৭ রান করে ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের বলে তাবরাইজ শামসির ক্যাচ হন বাটলার। তার ২৯ বলের ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ২ ছয়।

বেয়ারস্টোর ঝড় থামান আন্দিল ফেলুকোয়াও। ২৭ বলে হাফসেঞ্চুরি করা ইংলিশ ব্যাটসম্যান বোল্ড হন ৬৪ রান করে। ৩৪ বলে ৭ চার ও ৩ ছয় মারেন বেয়ারস্টো। পরের ওভারে ডেভিড মালান ১১ রানে শামসির শিকার হলে কিছুটা ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড।

তবে মরগানের সঙ্গে স্টোকসের বিস্ফোরক জুটিতে জয়ের পথে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। মাত্র ৪.২ ওভারে ৬১ রানের জুটি ভাঙে ১৯তম ওভারের প্রথম বলে। লুঙ্গি এনগিদির বলে বদলি ফিল্ডার বেউরান হেনড্রিকস ক্যাচ নেন স্টোকসের। ১২ বলে ২২ রান করেন তিনি। দুই বল পর মঈন আলী জীবন পান প্রিটোরিয়াস ক্যাচ ছাড়লে। ওই ওভারেই সপ্তম ছক্কা মেরে ২১ বলে ফিফটি উদযাপন করেন মরগান।

শেষ ওভারের প্রথম বলে প্রয়োজন ছিল এক রান, বাউন্ডারি মারেন মঈন। ২২ বলে ৭ ছক্কায় ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন মরগান।

সাফল্য নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষ করলো ইংল্যান্ড। টেস্ট সিরিজ জিতেছে ৩-১ এ। ওয়ানডে সিরিজে ছিল ১-১ সমতা। সবশেষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে হাসিমুখে দেশে ফিরছে ওয়ানডের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ