২১ এলেই মনে পড়ে তাদের

তানভীর রাসিব হাশেমীডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪৯ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১২:৫০ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মোদের গরব মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা’, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’, ‘বিনে স্বদেশী ভাষা, মিটে কি আশা?’, ‘আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি, তারপর ইংরেজি শেখার পত্তন’ ইত্যাদি কত না গুণীজনের নানা গান, কবিতা, উক্তি আমাদের এ বাংলা ভাষা এবং মহান ত্যাগের এ ফেব্রুয়ারি মাস এলেই মনে পড়ে যায়। 

১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস রাঙানো হয়েছিল ভাষার জন্য ঢাকার রাজপথে শহীদ রফিক, সালাম, জব্বার, বরকতসহ আরও কত নাম না জানা ভাষাপ্রেমীর রক্তে। আমরা বাংলা ভাষা নিয়ে সত্যিই গর্ববোধ করতে পারি। পৃথিবীতে আর কোনো ভাষায় কথা বলার অধিকার পাওয়ার জন্য জীবন কিংবা রক্ত দিতে হয়নি। আর সে কারণেই আজ বাংলা ভাষা একটি আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। 

এখন বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের ১৯টি দেশের মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারে। সুদূর আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনে বাংলাকে তাদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহার করছে। কিন্তু গর্বের সঙ্গে একটি আক্ষেপও আমাদের রয়েছে। সেটি হলো বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের ৬৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ও প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি আমাদের গৌরবময় এ ভাষা। ভাষা নিয়ে গবেষণা ও শুদ্ধাচারের জন্য ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলা একাডেমি।

আবার ১৯৯৯ সাল থেকে জাতিসংঘের মাধ্যমে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি ও পালনের সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তার পরও এখনো সর্বস্তরে সর্বজনীন বাংলা ভাষা ব্যবহার সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আবার এ ভাষার বিকৃতিও ঠেকানো যাচ্ছে না উল্লেখযোগ্যভাবে।

তবে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বাংলা একাডেমির আয়োজনে যে অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয় তার মাধ্যমে কিছুটা হলেও এগিয়ে যাচ্ছে প্রমিত বাংলার ব্যবহার। অন্যদিকে প্রতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুনে চিরায়ত বাংলার আরেকটি উৎসব বসন্তবরণ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। শিমুল ও পলাশের রঙে লাল ও হলুদের মিশ্রণে সেদিন হয়ে ওঠে রাঙানো প্রভাত। 

ভোর সকাল থেকেই সবাই মেতে ওঠে, সেজে ওঠে বর্ণিল সাজে। কাজেই বর্ণিল আয়োজনে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পালিত হলো ঐতিহ্যবাহী সেই বসন্ত উৎসব। যেহেতু একুশে বইমেলা চলমান সে জন্য তা বইমেলার সঙ্গে একাকার করে দিয়েছে। তবে ভালবসার এ বন্ধন শুধু নির্ধারিত কিছু মানুষের মধ্যে না রেখে সবার মধ্যেই ছড়িয়ে দেয়া দরকার।

বাঙালির জন্য এ মাসটি তার প্রাণের ভাষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসে আমাদের মাতৃভাষার জন্য ভালবাসা বিলিয়ে দিতে হবে। মাতৃভাষার আন্দোলন করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের প্রতি আমাদের ভালবাসা দিতে হবে। সর্বস্তরে নির্ভুল ও শুদ্ধ বাংলা ভাষার ব্যবহারের মাধ্যমেও আমরা এর প্রতি ভালবাসার নিদর্শন রাখতে পারি। দেশের জন্য ভালবাসার নিদর্শন হিসেবে ১৯৭১ সালের স্বধীনতা যুদ্ধে আমাদের ৩০ লাখ শহীদ তাদের তাজা প্রাণ এবং দুই লক্ষাধিক মা-বোন তাদের মহামূল্যবান ইজ্জত বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। 

যাদের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা এ স্বাধীন মাতৃভূমি পেয়েছি, সেই শহীদদের প্রতি ভালবাসা প্রদর্শন করাও আমাদের পবিত্র দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। বিত্তবানদের দরিদ্র মানুষের প্রতি ভালবাসা প্রর্দশন করা প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান সরকার ভিক্ষুক, গৃহকর্মী, বস্তিবাসী, অটিস্টিক, নিম্ন আয়ের মানুষ, পঙ্গু ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, দুস্থ, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা, খেটে খাওয়া মানুষ সবাইকেই ভালবাসা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চালানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নিরন্তর। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ