২১৫ টাকার টিকিট ৫শ’ টাকায়

২১৫ টাকার টিকিট ৫শ’ টাকায়

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:০২ ৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ২১:২১ ৮ আগস্ট ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে কলোবাজারে। ২১৫ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ টাকায়। 

ট্রেন যাত্রীদের অভিযোগ, আন্তনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে ছাড়ার কিছু সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। 

করোনাভাইরাসের কারণে রেলওয়ে ট্রেন যাত্রীদের সুরক্ষায় বিবেচনা করে ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বিক্রির ব্যবস্থা করেছে সরকার। ট্রেন সীমিত আকারে চলাচল করলেও টিকিট কালো বাজারিদের দৌরাত্ম্য শেষ নেই। 

অনেকে বাধ্য হয়ে কালোবাজারিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট ক্রয় করে ভ্রমণ করছেন।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট রেলপথে আন্তনগর কালনি এক্সপ্রেস ও চট্রগ্রাম সিলেট রেলপথে পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করছে। তবে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রা বিরতি রয়েছে পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের। কালনি ট্রেনের যাত্রাবিরতি রয়েছে আখাউড়ার আজমপুর রেলওয়ে স্টেশনে। 

পাহাড়িকা ট্রেনের আখাউড়া- চট্রগ্রাম পথে আসন রয়েছে ৩০টি (শোভন), আখাউড়া- সিলেট রেলপথে রয়েছে ৪৪টি। অপরদিকে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে রয়েছে আখাউড়া-চট্রগ্রাম পথে ৩০ ও আখাউড়া-সিলেট পথে ২৫টি টিকিট। 

এই স্টেশনে চট্রগ্রাম যেতে ২১৫ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ টাকার বেশি। কালোবাজারিরা দীর্ঘ দিন ধরে এ ব্যবসা করে আসলেও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট লোকজন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে যাত্রীদের অভিযোগ। 

বিজয়নগরের আওলিয়াবাজার এলাকার ট্রেন যাত্রী আতাউর রহমান জানান, চট্রগ্রামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন তিনি। পরিবার পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে এসেছেন। ছুটি শেষ হওয়ায় কর্মস্থলে যেতে ২১৫ টাকার টিকিট ৫শ’ টাকায় কেনা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, করোনাকালেও টিকিট পাওয়া যেন সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাকরি বাঁচাতেই কালোবাজারে ট্রেনের টিকিট ক্রয় করতে হয়েছে। 

সদর উপজেলার বাসুদেব ইউপির মো. সাজ্জাত হোসেন জানান, চট্রগ্রামে ছোট খাট ব্যবসা করেন তিনি। ঈদ উপলক্ষে তিনি বাড়িতে এসেছেন। অনলাইনে টিকিট কাটতে পারেননি। আখাউড়া স্টেশনে টিকিট কাউন্টারের সামনে আসলে অনেকেই টিকিট আছে বলে বলতে থাকেন। একজনের কাছ থেকে ৫শ’ টাকায় একটি টিকিট কিনেছেন। 

উপজেলার মনিয়ন্দ এলাকার মো. ইলিয়াস মিয়া জানান, সিলেটে একটি হোটেলে কাজ করেন তিনি। ছুটি শেষে কর্মস্থলে সিলেট যেতে অনলাইনে চেষ্টা করেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি। কালোবাজারিদের কাছে প্রতি টিকিট ৫শ’ টাকা শুনে ট্রেনে না গিয়ে সড়ক পথে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। 

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন সুপার মো. কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, যে কয়টি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করছে সেগুলোর টিকিট কাউন্টারে বিক্রি হচ্ছে না। ট্রেনের টিকিটতো অনলাইমের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে। এখানে কিছুই করার নেই। স্টেশন চত্বরে টিকিট কালোবাজারি রোধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন খুবই তৎপর রয়েছে। যেকোনো মূল্যে টিকিট কালোবাজারি রোধ করা হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে