২০ নং ওয়ার্ডকে দক্ষিণের সেরা করতে চাই: রতন

২০ নং ওয়ার্ডকে দক্ষিণের সেরা করতে চাই: রতন

মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন, সেন্ট্রাল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৩৬ ২১ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৯:৪৮ ২১ জানুয়ারি ২০২০

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন

ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আর ক্যারিসমেটিক দক্ষতার মধ্য দিয়ে নিজের ওয়ার্ডকে রাজধানীর অন্যতম ওয়ার্ড হিসেবে তুলে ধরতে চান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন।

এরইমধ্যে তিনি এ ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতা নিরসন, পাবলিক লাইব্রেরি গড়ে তোলা, মাদকমুক্ত করাসহ সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজদের এক সময়ের অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত ২০ নম্বর ওয়ার্ডেকে বর্তমানে শান্তিপ্রিয় এলাকাগুলোর অন্যতম স্থানে পরিণতও করেছেন। 

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় তার কার্যালয়ে আসন্ন নির্বাচন, এলাকার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে ডেইলি বাংলাদেশের প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিগত সময়ে রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু প্রায় মহামারি আকার ধারণ করেছিল। কিন্তু সেগুনবাগিচা ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা এতে খুবই কম আক্রান্ত হয়েছেন। এডিস মশার লার্ভাও সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে এ এলাকায়। আর এটা সম্ভব হয়েছে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার কারণে। 

গত পাঁচ বছরে আমার ওয়ার্ডের ২৮টি রাস্তা আধুনিকায়ন করেছি। ১০ কিলোমিটার ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ করেছি। এলইডি সড়কবাতি লাগিয়েছি ৫০০টি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম সম্পূর্ণ এসটিএসে স্থানান্তর করেছি। ১০ হাজার জন্ম-মৃত্যু-ওয়ারিশান সনদ দিয়েছি। যাতে কাউকে একটি টাকাও দিতে হয়নি।

রতন বলেন, অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করে সেগুনবাগিচায় দুই লেনের রাস্তা তৈরি করেছি। এতে এলাকায় যানজট কমেছে। সেইসঙ্গে চারটি অত্যাধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মিত হয়েছে। এছাড়া কাজ চলছে ওসমানী উদ্যানের গোস্বা পার্ক নির্মাণ, শিশুপার্ক আধুনিকায়ন, মৎস্য ভবনের পাশে ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সামনে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের। সেইসঙ্গে গুলিস্তানের পোড়া মার্কেট ও ঢাকা ট্রেড সেন্টার, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট ও বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের কাজও চলছে।

নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে এ কাউন্সিলর প্রার্থী বলেন, আমি আমার কাজ করে যেতে চাই। যেসব কাজ চলছে, তা সম্পন্ন করা, যেসব উন্নয়ন কাজ হয়েছে, তা ঠিক রাখা আমার পরিকল্পনা। সেইসঙ্গে এলাকায় একটি আধুনিক কমিউনিটি সেন্টারও চালু করতে চাই।

শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, উন্নত নাগরিক সেবার মডেল ওয়ার্ড হিসেবে ২০ নম্বর ওয়ার্ডকে গঠন করতে চাই। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অতীতে যেমন আমি কাজ করেছি এবারো একসঙ্গে ওয়ার্ডের উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যাশা আমার।

দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠগুলো ছাড়াও এ ওয়ার্ডে রয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ওসমানী উদ্যান, রমনা পার্ক, উদীচী, শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, কেন্দ্রীয় কচিকাচার আসর, এশিয়াটিক সোসাইটি, পরিসংখ্যান বুরো, টেনিস কোর্ট, ঢাকা ক্লাব, প্রেসক্লাব, সচিবালয়। সেগুনবগিচা, তোপখানা রোড, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও রেস্ট হাউজ, টিবি ক্লিনিক এলাকা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকা, হাইকোর্ট স্টাফ কোয়ার্টার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ফুলবাড়িয়া স্টেশন পূর্ব এলাকা, ফুলবাড়িয়া পশ্চিম ও সেক্রেটারিয়েট রোড, আব্দুল গনি রোড ও সচিবালয় স্টাফ কোয়ার্টার, পুরাতন রেলওয়ে কলোনি পশ্চিম, রেলওয়ে হাসপাতাল এলাকা, ইস্টার্ন হাউজিং ও টয়েনবি সার্কুলার রোড, রমনা গ্রিন হাউজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক এলাকা, নজরুল ইসলাম হল, আহসান উল্লাহ হল, তীতুমীর হল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাস (ফজলে রাব্বি হল), শেরে বাংলা হল (প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়), সোহরাওয়ার্দী হল (প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়), শহিদুল্লাহ হল, ফজলুল হক হল, ড. এম এ রশীদ হল, শহীদ স্মৃতি হল, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী হল সহ বিস্তির্ণ এলাকা নিয়ে দক্ষিণ সিটির এ ওয়ার্ডটি গঠিত।

২০১৫ সালে জয়লাভ করে এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত করার ফল হিসেবে ২০২০ এর আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও ফের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এসআই/এমআরকে