২০৪১ সালে গড় আয়ুষ্কাল হবে ৮০ বছর

২০৪১ সালে গড় আয়ুষ্কাল হবে ৮০ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৪৮ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান

২০৪১ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। আর এসময় মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল বেড়ে দাঁড়াবে ৮০ বছরে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রণীত উন্নত দেশে পরিণত হতে ২০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ২০ বছর মেয়াদী এ পরিকল্পনার অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রফতানি বহুমুখীকরণ, পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা, লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দ্বিতীয় এই প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে আগামী ২০ বছরে জিডিপিতে গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৯ শতাংশ। এতে বলা হয়েছে, মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল বেড়ে দাঁড়াবে ৮০ বছরে। এক্ষেত্রে ২০১৮ সালের হিসেবে গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৩ বছর থেকে ২০৩১ সালে বেড়ে হবে ৭৫ বছর।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ২০৪১ সালে অর্থনীতির যেসব খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে, জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধি হবে ০ দশমিক ৪ শতাংশ, মুদ্রাস্ফীতি হবে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, মোট জাতীয় সঞ্চয় হবে ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ, মাথাপিছু জিএনআই ১৬ হাজার ৯৯৪ ডলার এবং মোট রাজস্ব ২৪ দশমিক ১ শতাংশ, মোট দেশজ সঞ্চয় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মোট বিনিয়োগ হবে ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

নতুন প্রেক্ষিত পরিকল্পনার প্রক্ষেপণে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৩১ সালে দাঁড়াবে ৯ শতাংশে। সেটি বাড়তে বাড়তে ২০৪১ সালে গিয়ে হবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। সেই সঙ্গে চরম দারিদ্র্যের হার ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ থেকে কমে ২০৩১ সালে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশে পৌঁছাবে। সেটি পরিকল্পনার শেষ বছর ২০৪১ সালে কমে দাঁড়াবে ০ দশমিক ৬৮ শতাংশে। অন্যদিকে মাঝারি দারিদ্র্য বর্তমান বছরের ১৮ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে কমে ২০৩১ সালে ৭ শতাংশে দাঁড়াবে। পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শেষে ২০৪১ সালে এ হার ৩ শতাংশের নিচে নামবে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গীস এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদস্য সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস