২০২৩ সালের মধ্যেই সব বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল

২০২৩ সালের মধ্যেই সব বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল

শাহাদাত হোসেন রাকিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:০৫ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শিক্ষার উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের মধ্যেই সব বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল বা দুপুরের খাবার সরবরাহ করা হবে। ঝরে পড়ার হার কমাতে এরইমধ্যে বেশকিছু উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে।

সম্প্রতি সারাদেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালুর লক্ষ্য নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি-২০১৯’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে যে মিড ডে মিল চালু হয়েছে পাইলট ভিত্তিতে, তাকে কীভাবে সমন্বিতভাবে সারাদেশে ছড়ানো যায় তার জন্য এ নীতিমালাটি করা। 

নীতিমালা অনুযায়ী, জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি বাস্তবায়ন নামে একটি কর্তৃপক্ষ থাকবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অধীনে একটি সেল বা ইউনিট কাজ করবে। কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণে প্রয়োজনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি কর্তৃপক্ষ (ন্যাশনাল স্কুল মিল অথরিটি) গঠন করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এটি সরকারের বিবেচনায় থাকবে।

জানা গেছে, সারাদেশে মিড ডে মিল চালু করতে হলে এবং সেক্ষেত্রে কেবল বিস্কুট সরবরাহে বছরে সরকারের খরচ হবে ২ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা (৯ টাকা হারে)। আর যদি ৫ দিন রান্না করা খাবার (দৈনিক শিক্ষার্থী প্রতি ১৬ থেকে ১৮ টাকা হারে) এবং একদিন বিস্কুট দেয়া হয় তাহলে খরচ দাঁড়াবে ৫ হাজার ৫৬০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া বিস্কুট, ডিম, কলা ও রুটি দেয়া হলে ৭ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা (২৫ টাকা হারে) খরচ হবে সরকারের।

সারাদেশের ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মিড ডে মিল চালুতে জন্য সরকার পিপিপি’র ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। বর্তমানে ১০৪টি উপজেলায় ১৫ হাজার ৩৪৯টি স্কুলের ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে এই মিড ডে মিল কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ঝরে পড়ার হার কমিয়ে আনার জন্য আমরা মিড ডে মিল চালু করেছি। এখন পর্যন্ত ১০৪টি উপজেলার সব স্কুলে মিড ডে মিল দিচ্ছি। এছাড়া ১৬টি উপজেলায় টিফিনের খাবার দেয়া হচ্ছে। এরফলে ঝরে পড়ার হারও কমে আসছে। 

তিনি আরো বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি-২০১৯’ অনুমোদন হয়েছে। এরইমধ্যে প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে। যার বাস্তবায়ন হলে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের মধ্যে সারাদেশের স্কুলগুলোতে মিড ডে মিল চালু হবে। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতির বৃদ্ধি, ঝরে পড়ার প্রবণতা রোধ এবং ছাত্রছাত্রীদের দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় মিড ডে মিল ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তার বেষ্টনীর কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তিও প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এছাড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষা সহায়ক উপকরণ হিসেবে জুতা, পোশাক ও ব্যাগ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। যা অচিরেই কার্যকর হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএইচআর/এসআই