Alexa ২০০ বানরের বন্ধু এ ব্যক্তি!

২০০ বানরের বন্ধু এ ব্যক্তি!

কানিছ সুলতানা কেয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪৭ ১৬ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৮:৪৯ ১৬ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: চায়না ডেইলি

ছবি: চায়না ডেইলি

২০০ মাকাক বানরের বন্ধু শি ঝিয়ান। যিনি চীনের হুনান প্রদেশের জিয়াউ গ্রামে বসবাস করেন। মধ্য চীনের পার্বত্য অঞ্চলের ব্যবহৃত একটি বিরল উপভাষায় কথা বলেন ঝিয়ান। তবে তার "বানর বন্ধুরা" তাকে সহজেই বুঝতে পারে।

ঝিয়ানের গ্রামের নিকটবর্তী পাহাড়েই তার এ বন্ধুদের ঠিকানা। জঙ্গলের নীরবতা ভেঙে ঝিয়ান তার ভাষায় উচ্চস্বরে ডেকে ওঠেন। তখন একে একে দেখা মেলে তার বন্ধুদের। মাকাক হলো ছোট লেজবিশিষ্ট এক ধরণের বানরের প্রজাতি। হুনান প্রদেশের জিয়াংসি তুজিয়া ও মিয়াও স্বায়ত্তশাসিত গ্রামের চারপাশে বিস্তৃত অনেক পাহাড় রয়েছে। যা এক সময় মাকাকদের স্বর্গরাজ্য হিসাবে ব্যবহৃত হত। তবে কিছু মানুষের অমানবিক কার্যকলাপ প্রাণীটিকে আজ দুষ্প্রাপ্য করে তুলেছে। সেখানে শি ঝিয়ান সৃষ্টি করেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি এদের সঙ্গে করেছেন সখ্যতা। তাদেরকে তিনি খাবার খাওয়ান। আবার তাদের সঙ্গে খেলেনও। বানররাও শি ঝিয়ানকে খুব ভালোবাসে।

শি ঝিয়ানের বানরদের সঙ্গে খেলা করার দৃশ্য শি ঝিয়ান বলেন, তিনি তিন থেকে চার দশক আগে কিছু লোকের কাছ থেকে বানর ধরার কৌশল শিখেছিলেন। তারা জঙ্গলে বানর ধরতে এসেছিল। তবে এভাবে বানর ধরা তিনি মেনে নিতে পারেন নি। এরপর থেকে তিনি জঙ্গলে গিয়ে বানরদের কাছে ডাকতেন এবং খাবার দিতেন। তুষার এবং বৃষ্টিপাতের সময় বানরদের খাবারের অভাব দেখা দেয়। তখন শি ঝিয়ান মাকাকদের জন্য চিনাবাদাম, কমলা ছাড়াও বিভিন্ন খাবার সঙ্গে করে নিয়ে যান। বানরদের খাদ্য সঞ্চয় করার জন্য শি ঝিয়ান পাহাড়ের উপরে একটি খড়ের ঘর তৈরি করেছিলেন। তবে ভারী তুষারপাতে তা ভেঙে পড়ে। কিন্তু তাতে শি ঝিয়ান একদমই দমে যান নি। ঘরটি ভেঙে যাওয়ার পর তিনি একটি কেবিন তৈরি করেন। সেই সঙ্গে তার গ্রাম থেকে পাহাড়ের চূড়ায় যাওয়ার জন্য পাথরের প্রশস্ত পথ তৈরি করেন। শি ঝিয়ানের যত্ন এবং সুরক্ষায় মাকাকদের সংখ্যা ২৮ থেকে বর্তমানে ২০০তে পৌঁছেছে।

শি ঝিয়ানের বানরদের খাবার খাওয়ানোর দৃশ্য আর এভাবেই ধীরে ধীরে শি ঝিয়ান বানরদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। তার কণ্ঠস্বর শুনে মাকাকরা দলে দলে ছুটে আসে। বানররা শি ঝিয়ানের কাঁধে ও মাথায় চড়ে বসে। তার সঙ্গে খেলা করে। শি ঝিয়ানের এবং মাকাকদের বন্ধুত্ব প্রায় নয় বছরের। আর এজন্য শি ঝিয়ান তার এলাকায় 'বানর কিং' নামেও পরিচিত। শি ঝিয়ান পার্শ্ববর্তী একটি খনিতে কাজ করে তার জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু সে সময়টা তাকে তার বন্ধুদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হয়। এজন্য তার একটু মনও খারাপ হয়। আর এ সময়টাতে মাকাকরাও শি ঝিয়ানের অপেক্ষায় থাকে। তবে শি ঝিয়ানের অনুপস্থিতিতে তার দুই বোন এদের যত্ন করেন এবং খাবার দেন। শি ঝিয়ান বানরদের সবার একটি করে নামও দিয়েছেন।

শি ঝিয়ানের কাঁধে চড়ে বানরের খেলা করার দৃশ্য বানরদের সাহায্য করার জন্য শি ঝিয়ানের এ প্রচেষ্টা স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যেও প্রাণী সুরক্ষা সচেতনতা বাড়িয়ে তুলেছে। যদিও বানররা প্রায়শই গ্রামে খাবারের জন্য গুঞ্জন করে। কিন্তু তাতে গ্রামবাসীরা বিরক্ত হয় না। এমনকি বিরক্ত না করে গ্রামবাসীরা তাদের সাহায্য করার যথাসাধ্য চেষ্টা করে।

শি বলেন, "স্থানীয়রা এখন বন্য প্রজাতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাস করছে।"

সবশেষে বলা যায়, বন্যপ্রাণীদের প্রতি শি ঝিয়ানের এই উদারতা সত্যি দৃষ্টান্ত তৈরি করে। বন্যপ্রাণীরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই সবারই উচিত বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষায় আরো বেশি সচেতন হওয়া।

সূত্র: চায়না ডেইলি

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ