Alexa ১৮তম তারাবি: পঠিত আয়াত ও বিষয়সমূহ

১৮তম তারাবি: পঠিত আয়াত ও বিষয়সমূহ

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:২৭ ২৩ মে ২০১৯   আপডেট: ১২:২৯ ২৩ মে ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আজ ১৮তম তারাবিতে সূরা আনকাবুতের ৫ম রুকু থেকে ৭ম রুকু (আয়াত ৪৫-৬৯) পর্যন্ত, সূরা রুমের ১ম রুকু থেকে ৬ষ্ঠ রুকু (আয়াত ১-৬০) পর্যন্ত, সূরা লোকমানের ১ম রুকু থেকে ৪র্থ রুকু (আয়াত ১-৩৪) পর্যন্ত, সূরা সেজদার ১ম রুকু থেকে ৩য় রুকু (আয়াত ১-৩০) পর্যন্ত এবং সূরা আহজাবের ১ম রুকু থেকে ৪র্থ রুকু (আয়াত ১-৩০) পর্যন্ত তেলাওয়াত করা হবে। 

পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২১তম পারা। 

সূরা আনকাবুত : (আয়াত ৪৫-৬৯):
৫ম ও ৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৪৫-৬৩) আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এবং তার উম্মত অর্থাৎ আমাদের প্রতি কিছু উপদেশবাণি উচ্চারণ করেছেন। নিষ্ঠাবান ইহুদি ও খৃস্টানদের সঙ্গে আমাদের আচরণ কেমন হবে, কাফেরদের সঙ্গে কীভাবে সমাজে চলাফেরা করবো সে সম্পর্কেও বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআন সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে।

আরো পড়ুন>>> ১৭তম তারাবি: পঠিত আয়াত ও বিষয়সমূহ

৭ম রুকুতে (আয়াত ৬৪-৬৯) বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষেপে কিছু কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে, যেন কাফেরদের অন্তর জাগ্রত হয়।

সূরা রুম : (আয়াত ১-৬০):
১ম রুকুতে (আয়াত ১-১০) মুসলমানদের রোম বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। বলা হয়েছে মুসলমানরা অচিরেই রোম জয় করবে। রোম ছিলো সে যুগের সেরা সভ্যতা। অল্প কয়েক বছর পরেই মুসলমানরা রোজ শহর জয় করে নেন। ২য় রুকুতে (আয়াত ১১-১৯) বলা হয়েছে, আল্লাহ প্রাণের সূচনা করেছেন। তিনিই আবার এর পুনরুত্থান করবেন। সেদিন বিশ্বাসী-অবিশ্বাসীদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে তাদের কর্মফল দেয়া হবে। 

৩য় ও ৪র্থ রুকুতে (২০-৪০) আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন উপমা দিচ্ছেন, বান্দা যেন এসব চিন্তা-গবেষণা করে আল্লাহমুখী হতে পারে। কিন্তু খুব কম মানুষই আল্লাহর দিকে ফিরে আসে; বরং তারা খুবই অকৃতজ্ঞের মতো আচরণ করে থাকে। ৫ম ও ৬ষ্ঠ রুকুতে (আয়াত ৪১-৬০) মানুষ নিজের কর্মের কারণেই নিজের বিপদ ডেকে আনে। তাই তাকে আরো সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। এ কথা বোঝানোর জন্য আরও কয়েক ধরনের উপমা দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ বলা হয়েছে, এসব উপমা মানুষের বোঝার জন্য। তাই ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর পথে অটল থাকতে বলা হচ্ছে।

সূরা লোকমান : (আয়াত ১-৩৪):
১ম রুকুতে (আয়াত ১-১১) কোরআনের মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়েছে। যারা কোরআনের বিপরীতে অন্য কিছু গ্রহণ করে তাদের শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

২য় রুকুতে (আয়াত ১২-১৯) বিখ্যাত জ্ঞানী ব্যক্তি হজরত লোকমান হাকিম (রহ.) তার সন্তানকে যেসব মহামূল্যবান উপদেশ দিয়েছিলেন তা উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য তুলে দেয়া হয়েছে।

৩য় ও ৪র্থ রুকুতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে প্রশ্নছলে বিভিন্ন উপদেশ-উপমা দিয়েছেন। সর্বশেষ আল্লহতে সমর্পণ হওয়ার আহ্বান করে সূরার ইতি টানা হয়েছে।

সূরা সেজদা : (আয়াত ১-৩০):
১ম রুকুতে (আয়াত ১-১১) আল্লাহ তায়ালা তার সৃষ্টিনৈপুণ্যের বর্ণনা দিয়েছেন।

২য় রুকুতে (আয়াত ১২-২২) বলা হয়েছে এত সুন্দর ও নিখুঁত সৃষ্টি বৈচিত্র্য দেখেও যারা আল্লাহ এবং তার রাসূলের ওপর ঈমান আনবে না তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব।

৩য় রুকুতে (আয়াত ২৩-৩০) বলা হয়েছে, কেন মানুষ তার মহান প্রভুর প্রতি ঈমান আনবে; কোন যুক্তির আলোকে সে নিজেকে মহান মাবুদের প্রতি সমর্পিত করবে।

সূরা আহজাব : (আয়াত ১-৩০):
সূরা আহজাব নাজিল হয়েছে মদিনায়। আয়াত সংখ্যা ৭৩ এবং রুকু ৯টি। আহজাব অর্থ বাহিনীসমূহ।

১ম রুকুতে (আয়াত ১-৮) নবীজি (সা.)-কে বিশেষ কিছু বিষয় সম্পর্কে উপদেশ প্রদান করা হয়েছে।
২য় ও ৩য় রুকুতে (আয়াত ৯-২৯) মুমিন ও মুনাফিকদের চারিত্রবৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

৪র্থ রুকুতে রাসূল (সা.) এর পারিবারিক জীবনের কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। মুমিনদের জন্য এতে রয়েছে শেখার ও অনুসরণের অনেক কিছু। একজন মুমিনের ব্যক্তিজীবন থেকে পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবনও হবে রাসূল (সা.) এর দেখানো পথে। আল্লাহ এতেই আমাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ রেখেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

Best Electronics
Best Electronics