১৫ বছরের জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছে সহস্রাধিক পরিবার 

ডেইলি বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশ

১৫ বছরের জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছে সহস্রাধিক পরিবার 

গোপালগঞ্জ প্র‌তিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:২৮ ৪ জুন ২০২০   আপডেট: ২১:৩৬ ৪ জুন ২০২০

গয়লাকান্দিতে এমবিআর চ্যানেলের বেড়িবাঁধের নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কাজের উদ্বোধন

গয়লাকান্দিতে এমবিআর চ্যানেলের বেড়িবাঁধের নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কাজের উদ্বোধন

‘ডেইলি বাংলাদেশে’ সংবাদ প্রকাশের পর দীর্ঘ ১৫ বছরের জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণ পেতে যাচ্ছেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার তিন গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী একেএম অহেদউদ্দীন চৌধুরী উপজেলার গয়লাকান্দিতে এমবিআর চ্যানেলের বেড়িবাঁধের নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কাজের উদ্বোধন করেন। 

এ সময় তিনি বেড়িবাঁধের নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশন করে নদীতে পানি বের করে দেয়ার ক্ষেত্রে পদস্থ কর্মকর্তাদের নানা দিক নির্দেশনা দেন। জরুরি ভিত্তিতে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে এখানে একটি স্থায়ী লকগেট করার ঘোষণা দেন তিনি। 

প্রধান প্রকৌশলী একেএম অহেদউদ্দীন চৌধুরী জানান, মুকসুদপুরের এই এলাকার প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দী ছিলেন। প্রায় দেড়শ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছিল। এমবিআর চ্যানেলের বেড়িবাঁধের নিচ দিয়ে নদীতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। এতে এই এলাকার মানুষের দীর্ঘ বছরের সমস্যা দূর হবে এবং এখানকার জমিতে আবার সঠিকভাবে চাষাবাদ হবে। পানি নিয়ে কৃষকের আর কোনো সমস্যা হবে না। 

তিনি আরো বলেন, পশ্চিম গোপালগঞ্জ সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের জন্য ১২০ কোটি টাকার এবং  জেলার পাঁচটি উপজেলার খাল পুনঃখনন , সেচ, পানি নিষ্কাশন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠোমো নির্মাণ ও নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্য ৯৭২ কোটি টাকার দুইটি ডিপিপি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এই প্রকল্প দুটি অনুমোদন হলে এ জেলায় জলাবদ্ধতার আর কোনো সমস্যা থাকবে না। গোপালগঞ্জের সব নদী ও খাল আবার সচল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

এ সময় পাউবো ফরিদপুর অঞ্চলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল হেকিম, গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহিনুর আলম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাফিকুল মোল্লা, ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম মাতুব্বর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউপির গয়লাকান্দি, গঙ্গারামপুর ও খালিয়া গ্রামে এক হাজার পরিবার দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ পানিবন্দী জীবনযাপন করছেন। এসব গ্রামে এক সময় তিন ফসল হতো। পানি অপসারণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। ওই এলাকার প্রায় ২শ’ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছিল। 

স্থানীয়দের দাবি ছিল গয়লাকান্দিতে খালের উৎস মুখে একটি স্লুইচগেট নির্মাণ করলে তারা এই জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে। বিষয়টি নিয়ে গত ১৯ মে ডেইলি বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশ পায়। এর পরই বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরে আসে।  
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে